এসিড ঢেলে শ্রমিকের চোখ নষ্ট করে দিল আওয়ামী মেম্বর জুলু শেখ

গোপালগঞ্জ: বেধড়ক মারধর করে এক শ্রমিকের চোখ-মুখে নৃশংসভাবে এসিড ঢেলে দিয়েছি গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীর আওয়ামী লীগ নেতা ও ২ নং ওয়ার্ডের মেম্বর জুলু শেখ ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা। এতে ওই দরিদ্র শ্রমিকের চোখ ও মুখ পুড়ে গেছে। চিরতরে অন্ধ হয়ে গেছেন আবু বক্কর শেখ (৪০)। অবশ্য তাকে বাঁচানো যাবে কিনা চিকিৎসকরা তাও বলতে পারছেন না। হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন আর যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন প্রতিটি মুহূর্ত।

নৃশংস এই ঘটনা ঘটেছে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে। অভিযোগ উঠেছে, পূর্ব শত্রুতার জেরে অমানবিক এই নির্যাতন চালিয়েছে স্থানীয় আওয়ামী মেম্বর জুলু শেখ।

গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে আবু বক্করকে যখন আনা হয়েছে তখন থেকেই তিনি বাকরুদ্ধ। কোন কিছু বুঝে ওঠার আগেই দৃষ্টিশক্তি হারানোর দুর্বিষহ স্মৃতি কিছুতেই ভুলতে পারছেন না তিনি। পাশবিক নির্যাতনের আকস্মিক এই ঝড় যেনো নিস্তব্ধ করে দিয়েছে তার গোটা পৃথিবী।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার আবু বক্করকে কৌশলে বাড়ি থেকে ডেকে নেন প্রতিবেশি নয়ন শেখ। পরে হাত-পা বেধে বেধড়ক মারধর করার পর চোখে-মুখে দাহ্য পদার্থ ঢেলে দেন সাজাইল ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের মেম্বার জুলু শেখসহ আরও অনেকে।

আবু বক্কর বলেন, গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২ টার দিকে প্রতিপক্ষ নয়ন শেখ পাশের ফজর আলী শেখের বাড়িতে চোর এসেছে বলে তাকে ডেকে নিয়ে যায়। তারপর সাজাইল ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের জুলু মেম্বার নয়ন শেখ, তারা মিয়া, আলম মিয়া, ফজর আলীসহ বেশ কয়েকজন মিলে তাকে ‘চোর’ বলে তার হাত-পা বেঁধে ফেলে।

এরপর মারপিট করে তার মুখে এসিড ঢেলে দেয়া হয়। এভাবে ফজর আলীর বাড়িতে সারা রাত তাকে আটকে রাখা হয়।

আবু বক্কর শেখের স্ত্রী জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার তিনি বাবার বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলেন। গতকাল (শুক্রবার) সকালে খবর পেয়ে বাড়িতে এসে এই অবস্থা দেখতে পান। জুলু মেম্বারসহ এলাকার মাতব্বররা সকালে আমার মরণাপন্ন স্বামীকে বাড়িতে নিয়ে আসে।

ঘটনা ধামাচাপা দিতে আবু বক্করকে বাড়িতে রেখেই চিকিৎসা করাতে চাপ দেয় অভিযুক্ত মেম্বার ও তার সহযোগীরা। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে নেয়া হয় হাসপাতালে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য জুলুর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।

চিকিৎসক ফারুক আহম্মেদ বলেন, ধারণা করা হচ্ছে তার মুখে দাহ্য তরল কোন পদার্থ ঢেলে দেয়া হয়েছে। এতে দুটি চোখই নষ্ট হয়ে গেছে। এছাড়া শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্নও রয়েছে।

কাশিয়ানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আজিজুর রহমান জানিয়েছেন, গ্রামের লোকজন বলছে আবু বক্কর শেখ চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়ে। সেখানে হয়তো তার উপর নির্যাতন হয়েছে। তবে অভিযোগ করলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Comments

comments