বেআইনিভাবে ফারমার্স ব্যাংককে দেয়া হচ্ছে ১ হাজার কোটি টাকা!

দক্ষতার অভাবসহ নানা অনিয়ম আর দুর্নীতির কারণে প্রতিবছরই মূলধন ঘাটতিতে পড়ে সরকারি ব্যাংকগুলো। আর এ ঘাটতি পূরণে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা ও আপত্তি থাকা সত্ত্বেও প্রতিবছরই বাজেটে বরাদ্দ রেখে আসছে আওয়ামী লীগ সরকার। চলতি বছরেও এ খাতে বরাদ্দ আছে ২ হাজার কোটি টাকা। যদিও এমন কোন আইন নেই, তবুও সরকারি ব্যাংকগুলোতে এ বরাদ্দ নিয়ে সমালোচনা থাকলেও উত্তাপ নেই। কিন্তু হঠাৎ করেই নানা দুর্নীতি ও অনিয়মের কারণে দেউলিয়া হতে বসা বেসরকারি ফারমার্স ব্যাংককে সহায়তার নামে বেআইনীভাবে বাজেটের বাইরেই নগদ ১ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের ব্যবস্থা করতে যাচ্ছে সরকার। এটা সরকারের পক্ষ থেকে প্রথমবারের মত কোন বেসরকারি ব্যাংককে সরাসরি নগদ অর্থ দেয়ার ঘটনা।

এ বিষয়ে ৪টি রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাংক ও সরকারি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান আইসিবির সাথে গতকাল মঙ্গলবার রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বৈঠক শেষে আইসিবির চেয়ারম্যান মূলধন যোগান দেয়ার বিষয়টি স্বীকার করলেও পরিমাণ ও পদ্ধতি নিয়ে কোন তথ্য দিতে রাজি হননি। দেউলিয়া হতে বসা আওয়ামী লীগ নেতা মখা আলমগীর ও বাবুল চিশতীর দি ফারমার্স ব্যাংক লিমিটেড কে আর্থিক কেলেঙ্কারি থেকে বাঁচাতে নগদ অর্থ সহায়তার নামে নতুন করে আর্থিক কেলেঙ্কারিতে জড়াচ্ছে সরকার। ব্যর্থ এই প্রতিষ্ঠানটিকে মূলধন যোগান দিতে ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি) এবং সোনালী, জনতা, অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংকের সাথে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্ণর ফজলে কবির ৩ ঘন্টারও বেশি সময় বৈঠক করেন।

অত্যন্ত গোপনীয়তা রক্ষা করে এই বৈঠকের আয়োজন করার কারণে বৈঠক চলাকালে বাংলাদেশ ব্যাংকে কোন সাংবাদিককেও প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। বৈঠক শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে রূপালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও আতাউর রহমান প্রধান জানান- ‘ওদের ক্যাপিটাল বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনাগুলো হয়েছে। কিছু বিকল্প চিন্তা করা হয়েছে। এগুলো নিয়ে ফাইনাল কিছু করা হয় নাই।’ বিকল্প কি চিন্তা করা হয়েছে? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের কোন স্পষ্ট উত্তর না দিয়ে তিনি বলেন- ‘এখন বাংলাদেশ ব্যাংকে গিয়ে কথা বলেন। এইটাই আলোচনা আর কিচ্ছু না, এই।’ এসময় তিনি সাংবাদিকদের আর কোন প্রশ্নের সুযোগ না দিয়ে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন।

পরে আইসিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মুজিব উদ্দিন আহমেদ কে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোন উত্তর না দিয়ে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন- ‘এখনও এ্যানিথিং ফাইনালাইজ কিছুই হয় নাই। সো ইট ইজ ইন দ্যা ডিসকাশন প্রসেস টু হেল্প দ্যা ব্যাংক।’ সন্তোষজনক উত্তর না পেয়ে সাংবাদিকরা ফের বৈঠকে আলোচনার বিষয়বস্তু জানতে চাইলে তিনি বলেন- ‘বিষয়বস্তু ছিল যে, হাউ টু হেল্প দ্যা ব্যাংক।’

পরে বিভিন্ন সূত্রে খবর নিয়ে জানা গেছে, ফারমার্স ব্যাংকে সাড়ে ৪শ কোটি টাকা দেবে সরকারি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান আইসিবি। আর রাষ্ট্রায়ত্ব ৪ ব্যাংক দেবে সাড়ে ৬শ কোটি টাকা। কি যুক্তিতে ব্যর্থ এ ব্যাংকটিকে আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে সরকার এমন প্রশ্নের জবাবে আইসিবি চেয়ারম্যান সরাসরি কোন মন্তব্য না করে গোঁজামিলের আশ্রয় নিয়ে বলেন- ‘আপনারা লেটেস্ট কিছু ডেটা জানেন না। আস্থা অলরেডি ফিরে আসছে। যেহেতু গভমেন্ট, আমরা হয়তো তাদের হেল্প করবো এটা জানে সবাই। ইট উইল কামব্যাক।’

উল্লেখ্য, অনিয়মের দায়ে ফারমার্স ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী এমপি মখা আলমগীর ও নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা বাবুল চিশতীকে আগেই ব্যাংকের নিজ নিজ পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। ব্যাংকটির উদ্যোক্তা হিসেবে রয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল এর মেয়ে নাফিসা কামাল, আওয়ামী ঘরানার বুদ্ধিজীবি হিসেবে পরিচিত অধ্যাপক মুনতাসির মামুন, ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল সহ বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা।

Comments

comments