আ’লীগ নেতার ছেলেসহ ৩ বন্ধু মিলে স্কুলছাত্রীকে গণধর্ষণের অভিযোগ

ধর্ষিতার পরিবারের হাতে আটক আরিফ

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় আওয়ামী লীগের এক নেতার ছেলেসহ তিন বন্ধু মিলে এক স্কুলছাত্রীকে গণধর্ষণ এবং ধর্ষণের চিত্র ভিডিও করে ফেসবুকে ছেড়ে দেয়ার হুমকি দিয়ে ধর্ষিতার কাছ থাকা সোনার গহনা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

এমনকি ঘটনার পর থেকে ধর্ষক চক্র ধর্ষিতার কাছ থেকে মোটা অংকের অর্থ আদায়ের জন্য তাকে নানাভাবে হুমকি দিয়ে আসছিল। এক পর্যায়ে ঘটনার দশ দিনের মাথায় ধর্ষিতার পরিবার গতকাল মঙ্গলবার রাতে আরিফ নামের এক ধর্ষককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে। এ ঘটনায় তিনজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণসহ চুরির মামলা হয়েছে।

এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, জীবননগর উপজেলার বাঁকা ইউনিয়নের আলীপুর গ্রামের রাখাল শাহ পাড়ার মৃত আব্দুস সালামের ছেলে আরিফুল ইসলাম আরিফের (২৫) সাথে জীবননগর পৌরসভার নতুন তেতুলিয়ার এক এসএসসি পরিক্ষার্থীর গত এক বছর আগে থেকে প্রেমের সম্পর্ক চলে আসছিল। কথিত প্রেমিক আরিফ ওই ছাত্রীকে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে তাকে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে ফুঁসলিয়ে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে তার সাথে দৈহিক মিলন ঘটায়। আরিফ নিজেকে স্থানীয় যুবলীগের একজন সক্রিয় কর্মী হিসেবে দাবি করে ধর্ষণের শিকার ছাত্রীটিকে নানা হুমকি-ধামকিও দিয়ে আসছিল।

ধর্ষণের শিকার ছাত্রী বলেন, ‘আমি আরিফকে বিশ্বাস করে তার পুরো পরিচয় না জেনেই তাকে ভালবেসে ফেলি। কিন্তু আরিফ আমার সরলতার সুযোগ নিয়ে সে আমাকে বিয়ের কথা বলে সম্প্রতি মহেশপুর উপজেলার গুড়দহ গ্রামে তার এক আত্মীয় বাড়ি নিয়ে যায়। সেখানে ও আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে আমার সাথে দৈহিক মিলন ঘটায়। কিন্তু পরে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানায়।’

ছাত্রীটি আরো জানায়, ‘এক পর্যায়ে গত ৪ ফেব্রুয়ারি আমাকে আরিফ মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে মোটরসাইকেলযোগে খয়েরহুদা মাঠের ভিতর নিয়ে যায়। সেখানে আরিফ ও তার দুই বন্ধু জুয়েল (২০) ও সিরাজ দেওয়ান (২৪) মিলে আমাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। জুয়েল বাঁকা ইউনিয়নের ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা আলীপুরের আজিলের ছেলে। জুয়েল ঝিনাইদহ পলিটেনিক্যাল ইনস্টিটিউটের ছাত্র। অন্যদিকে সিরাজ দেওয়ান একই ইউনিয়নের আলীপুর গ্রামের আব্দুর রশিদ দেওয়ানের ছেলে।’

‘ঘটনার সময় আমি চিৎকার করতে গেলে তারা বলে যা কিছু হয়েছে সব মোবাইল ফোনে ভিডিও করা হয়েছে, বেশি বাড়াবাড়ি করলে ফেসবুকে ছেড়ে দেয়া হবে। তারা এ ধরনের হুমকি দিয়ে আমার নিকট থাকা ব্যবহৃত সোনার চেইন, কানের দুল ও একটি দামি মোবাইল ফোন হাতিয়ে নেয়। আমি মান-সম্মানের ভয়ে তাদের সব পাশবিকতা হজম করে বাড়িতেই থাকি। এক পর্যায়ে আরিফ আমাকে হুমকি দিয়ে বলে ৮ হাজার টাকা দিলে সোনার গহনা ও মোবাইল ফোন ফেরত পাওয়া যাবে, তা না হলে ঘটনা ফেসবুকে ছেড়ে দেবে। এ অবস্থায় আমি পরিবারের নিকট ঘটনাটি প্রকাশ করতে বাধ্য হই। এক পর্যায়ে পরিবারের লোকজন তাকে গত মঙ্গলবার রাতে জীবননগর শহর থেকে কৌশলে আটক করেন। আমি চলতি এসএসসি পরীক্ষায় একজন প্রার্থী।’

ঘটনার শিকার ছাত্রীর পরিবারের দাবি, আরিফ প্রেমের নামে পরিকল্পিতভাবে তার দুই বন্ধুকে নিয়ে ছাত্রীটিকে গণধর্ষণ করেছে। অন্যদিকে পরে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়ার জন্যই ধর্ষণের ভিডিও চিত্র ফেসবুকে ছেড়ে দেয়ার হুমকি দেয়া হয়েছে। তারা জঘন্য অপরাধ করেছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া প্রয়োজন।

থানায় গ্রেফতার কথিত প্রেমিক ধর্ষক আরিফ সকলের উপস্থিতিতে ঘটনার সব কথায় প্রকাশ্যে স্বীকার করে বলেন, ‘আমি তাকে (ধর্ষিতা) বিয়ে করতে পারব না।’ আরিফের দাবি তার আগে তার ওই দুই বন্ধু ওই ছাত্রীকে মাঠের ভিতরে ধর্ষণ করেছে এবং ধর্ষণের ভিডিওচিত্র ধারণ করেছে।

এ ব্যাপারে জীবননগর পৌরসভার সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড কাউন্সিলর আত্তাব উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ধর্ষক আরিফকে সমাজের মানুষ আটক করেন এবং পরবর্তীতে পুলিশে সোপর্দ কে ছে। ধর্ষক আরিফ সবার সামনেই ঘটনার কথা অকপটে স্বীকার করেছে, সেখানে আর কিইবা বলার আছে। তবে ধর্ষণের সাথে জড়িতদের আমরা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহমুদুর রহমান বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত জঘন্য। ঘটনার ব্যাপারে থানায় তিনজনের বিরুদ্ধে গণধর্ষণের একটি মামলা হয়েছে। ধর্ষকদের মধ্যে কথিত প্রেমিক আরিফকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ভিকটিমকে (ধর্ষিতা) উদ্ধার করে তার ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। ধর্ষক আরিফকে পুলিশ রিমান্ডের জন্য আবেদন করা হয়েছে। পলাতক আসামিদেরকে গ্রেফতারের জন্য তৎপরতা অব্যাহত আছে।

Comments

comments