ভারতীয় সাবমেরিনের দুর্ঘটনা নিয়ে চীনা পত্রিকায় উপহাস

বেইজিং: ভারতের পারমাণবিক সাবমেরিনে একের পর এক দুর্ঘটনার খবর নিয়ে চীনা পত্র-পত্রিকায় বিদ্রুপ শুরু হয়েছে। ভারতের সাবমেরিন বহরের গর্ব বলে পরিচিতি একটি পারমাণবিক সাবমেরিনে হ্যাচ-ডোর খোলা রাখায় পানি ঢুকে এর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে সম্প্রতি খবর প্রকাশিত হয়। এর আগে পারমাণবিক সাবমেরিনের সোনার-ডোম ক্ষতিগ্রস্ত হয় পোতাশ্রয়ে প্রবেশের সময়। এসব খবর উল্লেখ করে চীনা পত্রিকায় ভারতীয় বাহিনীকে অত্যন্ত ‘কাঁচা’ ও ‘অপেশাদার’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়।

চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত্ব গ্লোবাল টাইমস লিখে ভারতের সামরিক বাহিনী আসলে ‘জগাখিচুড়ি মার্কা’। তারা বেমানান প্রযুক্তির অধিকারী কারণ বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার খরচ করে তারা রাশিয়া, ফ্রান্স, বৃটেন এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ বড় বড় সামরিক শক্তিধর দেশগুলোর কাছ থেকে নানা ধরনের অস্ত্র-সরঞ্জাম কিনছে। অবশ্য এসব অস্ত্রের দেশীয় সংস্করণও তৈরির চেষ্টা করছে তারা।

ভারতের একমাত্র সক্রিয় দেশীয় পারমাণবিক শক্তিচালিত ব্যালিস্টিক মিসাইল সাবমেরিন- আইএনএস অরিহন্তকে দেশটির সামরিক প্রযুক্তি সক্ষমতার প্রতীক হিসেবে বর্ণনা করা হয়। ২০১৬ সালের গোড়ার দিকে এটি সি-ট্রায়াল শেষ করে এবং ওই বছরই আগস্টে আনুষ্ঠানিকভাবে নৌবাহিনীতে যুক্ত হয়।

তবে, সম্প্রতি জানা গেছে যে কর্তৃপক্ষ ২.৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচ করে নির্মিত এই নৌযানটি বন্দরে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে কারণ এর পেছনের একটা ঢাকনা খুলে রেখে যাওয়ায় পানি ঢুকে প্রপালশান প্লান্ট নষ্ট হয়ে গেছে। পারমাণবিক সাবমেরিনের প্রপালশন কম্পার্টমেন্টের মধ্যে পারমাণবিক চুল্লিও থাকে।

দ্য হিন্দুর মতে, ১০ মাসেরও বেশি সময় ধরে এটা চালানো হচ্ছে না এবং বিশাখাপট্টমে হোম পোর্টে নিয়ে গিয়ে এর মেরামত কাজ চলছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে যে ৬,০০০ টনের স্টেট-অব-আর্ট নৌযানটি আবার সার্ভিসে ফিরে গেছে।

আইএনএস অরিহন্ত নির্মাণের মাধ্যমে পৃথিবীর ষষ্ঠ দেশ হিসেবে নিজের তৈরি পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিনের অধিকারী হয় ভারত। কিন্তু গত মাসের শেষ দিকে ৬৯তম প্রজাতন্ত্র দিবস উদযাপনকালে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীয় যখন সামরিক পরাক্রম দেখাতে ব্যস্ত ছিলো, তখন ওই সাবমেরিন দুর্ঘটনার খবর তাদের জন্য ছিলো খুবই বিব্রতকর।

ভারতীয় সাবমেরিনের কমান্ডার ও ক্রুদের ‘শৃঙ্খলাহীন ও ঢিলে’ বলে উপহাস করে গ্লোবাল টাইমস। আরো বলে যে, এ ধরনের জটিল ও অত্যাধুনি নৌযান পরিচালনার জন্য ভারতীয় নৌবাহিনী ‘খুবই অপটু’।

একজন নেভাল এক্সপার্ট পত্রিকাটিকে বলেন, জাতীয় কৌশলগত অস্ত্র হিসেবে, পারমাণবিক সাবমেরিনের সতর্ক রক্ষণাবেক্ষণ, কঠোর ব্যবস্থাপনা এবং পরিচালনা পদ্ধতি প্রয়োজন। কিন্তু, এতে যে নাবিকরা ছিলেন, তারা এর যথাযথ যত্ন নিতে ব্যর্থ হয়েছেন।

ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর দক্ষতাকে ব্যাঙ্গ করে পত্রিকাটি লিখে, অরিহন্তের দুর্ঘটনা প্রমাণ করে দেশটির বেশিরভাগ সেনা সুশিক্ষিত নয়, অত্যাধুনিক অস্ত্র ব্যবহারের প্রয়োজনীয় জ্ঞান তাদের নেই। তাদের ভরসা বলতে পুরনো জ্ঞান আর অভিজ্ঞতা।

এতে আরো বলা হয়, সামরিক প্রযুক্তির উৎকর্ষ রাতারাতি আসবে না। এটা একটা দীর্ঘ প্রক্রিয়া যেটা শুধুই সামরিক ইস্যু নয়, বরং এখানে দেশের সার্বিক শক্তি, প্রযুক্তির মান, উৎপাদন সক্ষমতা এবং সেনাদের দক্ষতার বিষয় জড়িত। কিন্তু ভারতীয় সেনাবাহিনী সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দ্রুত ফললাভের জন্য অতিরিক্ত উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেছে এবং চীনের মোকাবেলায় অতিরিক্ত মনোযোগ দিচ্ছে তারা। এতে নিশ্চিতভাবে উল্টো প্রতিক্রিয়ার দিকে ঠেলে দেবে।

এই দুর্ঘটনার পরও ভারত অরিহন্ত শ্রেণির আরো সাবমেরিন তৈরির পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে বলে জানা গেছে। ভারতের আরেকটি পারমাণবিক সাবমেরিন- আইএনএস চক্র রয়েছে। রাশিয়ার কাছ থেকে ১০ বছরের জন্য লিজ নেয়া এই সাবমেরিনের লিজের মেয়াদ ২০২২ সালে শেষ হবে। এই সাবমেরিনের সোনার ডোম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর জানা যায় কয়েক মাস আগে।

Comments

comments