বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় ৫ বছর কারাদণ্ড দেয়ায় শিবিরের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ

গণতন্ত্রের কফিনে শেষ পেরেক ঠোকার পায়তারা করছে সরকার
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলায় ৫ বছরের কারাদণ্ড ন্যায়ভ্রষ্ট উল্লেখ করে বিবৃতি প্রদান করেছে ছাত্রশিবির।

এক যৌথ বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি ইয়াছিন আরাফাত ও সেক্রেটারি জেনারেল মোবারক হোসাইন বলেন, অবৈধ সরকারের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার বেগম খালেদা জিয়া। তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা ও প্রহসনমূলক মামলার রায় সরকারের নির্ধারিত ছকে দেয়া হয়েছে। যা মূলত সরকারের মন্ত্রী এমপিদের আগাম বক্তব্যের প্রতিফলন। মামলা বিচারাধীন থাকলেও খালেদা জিয়াকে জেলে যেতে হবে বলে আগাম ঘোষণা দিয়েছিলেন সরকারের মন্ত্রী এমপিরা। এতে প্রমাণিত হয় এ রায় পূর্ব নির্ধারিত। এ রায় ন্যায়বিচারের ইতিহাসকে আবারো কলঙ্কিত করেছে। জনগণ আশা করেছিল আদালত অন্তত একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ব্যাপারে ন্যায়বিচার করবে। কিন্তু দুঃখের বিষয় এখানেও জাতিকে অবিচারের নমুনা দেখতে হলো।

নেতৃবৃন্দ বলেন, যে মামলায় খালেদা জিয়াকে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে তার চেয়েও দুর্নীতির জঘন্যতম মামলা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামেও ছিল। ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পূর্ব পর্যন্ত নাইকোসহ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে ১৫টি দুর্নীতির মামলা ছিল। অবৈধ ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে প্রধানমন্ত্রী নিজের নামে সকল মামলা প্রত্যাহার করে নিলেও রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বাস্তবায়ন করতে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা চলমান রাখা হয়েছে। এতে আবারো প্রমাণিত হয় আইন আদালতের স্বাধীনতা নেই বরং তা বিরোধী মত দমনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এ রায় ন্যায় বিচারের প্রতিনিধিত্ব করে না বরং কোন বিশেষ মহলকে খুশি করতেই এই প্রশ্নবিদ্ধ রায় দেয়া হয়েছে। দেশবাসী এ প্রহসনের রায় প্রত্যাখ্যান করেছে।

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, এ সরকারের অপশাসনের যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে জনগণ সরকার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। সকল শ্রেণী পেশার মানুষ এ সরকারের উপর চরমভাবে ক্ষুব্ধ। অবৈধ সরকার তাদের জনমত শূন্যতার বিষয়টি বুঝতে পারলেও ক্ষমতা ধরে রাখতে মরিয়া। ফলে বিচার বিভাগকেও সরকারের রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও জনগণের উপর তাদের কোন আস্থা নেই। তাই আইন আদালতকে ব্যবহারের মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বাস্তবায়ন করে আবারো একতরফা নির্বাচনের পাঁয়তারা করছে।

নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশের বিচার বিভাগ এখন ধ্বংসের দ্বার প্রান্তে। রাজনৈতিক কারণে বারবার ন্যায় বিচার থেকে বিরোধী মতের নেতৃবৃন্দসহ সাধারণ মানুষকে বঞ্চিত করা চরম অমানবিকতা। একইভাবে জাতীয় নেতৃবৃন্দকে মিথ্যা মামলায় প্রশ্নবিদ্ধ ট্রাইব্যুনালে নাটক সাজিয়ে সাজানো রায়ে ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলানো হয়েছে। আজকের রায় তারই ধারাবাহিকতা মাত্র। যা আইনের শাসনের পরিপন্থী এবং একনায়কতন্ত্র বাকশাল কায়েমের পথকে সুগম করবে। আমরা সরকারকে এ অপরাজনীতি ও বিচারের নামে প্রহসন বন্ধ করে বেগম খালেদা জিয়াসহ সকল জাতীয় নেতৃবৃন্দকে মুক্তি দেয়ার আহবান জানাচ্ছি।

বিজ্ঞপ্তি

Comments

comments