বিএনপিকে ঠেকাতে গিয়ে অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষে আ.লীগ, নিহত ১

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রায়কে কেন্দ্র করে বিএনপিকে ঠেকাতে গিয়ে মারামারিতে জড়িয়েছে আওয়ামী লীগের দুটি পক্ষ। আধিপত্য বিস্তার ও একই স্থানে অবস্থান নেয়াকে কেন্দ্র নারায়ণগঞ্জে রূপগঞ্জ সংঘর্ষে জড়ায় ক্ষমতাসীন দলটির দুই পক্ষ। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে ত্রিমুখী সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে একজন নিহত এবং ১৫ জন গুলিবিদ্ধ হয়। এছাড়াও আহত হয়েছেন পুলিশ-সাংবাদিকসহ আরও শতাধিক।

সংঘর্ষের সময় পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পরিস্থিতি মোকাবেলায় পুলিশ অন্তত ছয়শ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। সংঘর্ষের পর পুলিশ উভয়পক্ষের ৩৯ নেতাকর্মীকে আটক করেছে।

বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে উপজেলার কাঞ্চন সেতুর পশ্চিমপাশের হাবিবনগর এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, সকাল ১১টার দিকে উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা রংধনু গ্রুপের চেয়ারম্যান ও কায়েতপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম রফিকের কর্মী-সমর্থকরা কাঞ্চন সেতুর পশ্চিমাংশের ৩‘শ ফিট সড়কের পুলিশ বক্সের পাশে অবস্থান নেয়।

একই সময়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা স্থানীয় সংসদ সদস্য গোলাম দস্তগীর গাজীর নেতৃত্বে একইস্থানের রাস্তার অন্যপাশে অবস্থান নেয়। এ সময় দুইপক্ষই রাস্তা অবরোধ করে বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে শক্তি প্রদর্শন শুরু করলে সেখানকার পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠে।

সংঘাতের আশঙ্কায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবুল ফতে মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, মো. তরিকুল ইসলাম, আসাদুজ্জামান ও মো. রেজোয়ানুল ইসলাম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উভয়পক্ষকে শান্ত হওয়ার অনুরোধ করেন। তারা দুই পক্ষকে রাস্তা থেকে সরে যেতে নির্দেশ দেন। কিন্তু আওয়ামী লীগের দুইপক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নিয়ে লাঠিসোটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

এক পর্যায়ে পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে পুলিশ দুইপক্ষকে ধাওয়া করে লাঠিচার্জ, টিয়ারসেল, রাবার বুলেট ও গুলি ছোড়ে। মুহুর্মূহু গুলির শব্দে পুরো এলাকা প্রকম্পিত হয়ে উঠে।

সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয় এমপির ব্যক্তিগত সহকারী কামরুজ্জামান হীরা, ছাত্রলীগ নেতা রিফাত হোসেন, শাকিল আহমেদ টিপু, সুমন মিয়া, যুবলীগ নেতা জয়নাল আবেদীন জয়, সিয়াম আহমেদ, আমির হোসেন, মহসিন ফকির, হৃদয় আহমেদ, শাকিল, আবুল কালাম, শাহিনুর আক্তার, লিপিসহ ১৫ জন।

এছাড়া ৩০ পুলিশ সদস্য ও সাংবাদিকসহ দুই পক্ষের আরও শতাধিক কর্মী আহত হয়। আহতদের মধ্যে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বিশেষ শাখা) ফারুক হোসেনও আছেন।

গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেয়ার পথে এমপি পক্ষের সমর্থক স্বেচ্ছাসেবকলীগ কর্মী সুমন মিয়া মারা যান। তিনি উপজেলার তারাব পৌরসভার গন্ধর্বপুর এলাকার মনু মিয়ার ছেলে।

এদিকে সংঘর্ষের পর পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে উভয়পক্ষের ৩৯ নেতাকর্মীকে আটক করেছেন।

সংসদ সদস্য গোলাম দস্তগীর গাজী জানান, আওয়ামী লীগের বিচ্ছিন্ন একটি পক্ষ বিএনপি নয়, আমাকে আর রূপগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগকে ঠেকাতে মাঠে নেমেছেন। এমপির দাবি, রফিক চেয়ারম্যানের গানম্যানের গুলিতে স্বেচ্ছাসেবকলীগ কর্মী সুমন মারা গেছেন। তিনি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান এবং খুনিদের শাস্তি দাবি করেন।

অন্যদিকে রংধনু গ্রুপের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম রফিক সাংবাদিকদের বলেন, আমি কর্মসূচিতে উপস্থিতই ছিলাম না। তাহলে সেখানে আমার গানম্যান থাকবে কি কেন? গাজী অপহিংসা, একনায়তন্ত্র আর সংঘাতের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে। উপজেলা আওয়ামী লীগকে ঐক্যবদ্ধ দেখে সে নিজেই হয়তো খুনের ঘটনা ঘটিয়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা চালাচ্ছে। আমি সুমনের খুনিদের শাস্তি দাবি করছি।

রূপগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইসমাইল হোসেন বলেন, আওয়ামী লীগের দুটি পক্ষ আধিপত্য বিস্তার ও শক্তি প্রদর্শনের চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের লাঠিচার্জ ও শটগানের গুলি, রাবার বুলেট ছুড়ে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় প্রতিপক্ষের গুলিতে একজন নিহত হয়েছে।

পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ৪৬৯ রাউন্ড রাবার বুলেট, ৭০ রাউন্ড শটগানের গুলি এবং ৩০ রাউন্ড টিয়ারসেল ছোড়ে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান ওসি।

Comments

comments