মিয়ানমারে আবার পাঁচটি গণকবরের সন্ধান

মিয়ানমারে আরও পাঁচটি গণকবরের সন্ধান পাওয়া গেছে। বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের বরাতে বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটস প্রেস এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। এর পরপরই হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ উদঘাটনে তদন্তকারী দল এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে বুথিডং ও মংডুতে প্রবেশের অনুমতি দিতে নাইপিদোর প্রতি আবারও আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। রোহিঙ্গাদের নিয়ে সংবাদ সংগ্রহ করায় মিয়ানমারে আটক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের দুই গণমাধ্যমকর্মীকে আদালতে হাজির করা হয়েছে।

মিয়ানমারের গু দার পাইনে নতুন পাঁচটি গণকবর পাওয়ার কথা জানিয়েছে বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটস প্রেস-এপি। মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর নৃশংসতা থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা অন্তত ২৪ জন রোহিঙ্গার সঙ্গে কথা বলে এবং তাদের কাছে থাকা মোবাইলে ধারণ করা ভিডিও ফুটেজের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করেছে এপি।

পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা মোহাম্মদ কারিম বলেন, ‘কাউকে নদীতে ফেলে দেয়া হয়েছে। কাউকে পুরিয়ে ফেলা হয়েছে। এসিড দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। কারোর লাশ কেটে কেটে টুকরো টুকরো করেছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। ধানক্ষেতেও পুতে রাখা হয়েছে লাশ। আসলে কত জনকে মিয়ানমার সেনাবাহিনী হত্যা করেছে তা বলা খুব কঠিন। আমার দেখা ৪০০ জনকে তারা হত্যা করেছে। যাদের মধ্যে ১০ জন শিশু।’

আরেকজন রোহিঙ্গা বলেন, ‘ঘরে বন্ধী করে পুড়িয়ে মেরেছে তারা। যারা যুবক তারা বের হতে পেরেছে হয়ত। নারী ও শিশুরা যারা বের হতে পারি নি তারা পুড়ে মরেছে। আমি পুকুরপাড়ে দুটি গণকবর দেখেছি।’

মিয়ানমারের মানবাধিকার বিষয়ক বিশেষদূত ইয়াং লি বলেন, ‘রোহিঙ্গা শরণার্থীদের একজনের সঙ্গে আমার কথা হয়েছিল। সে বলেছে ৪৫০ জনকে মরতে দেখেছে সে। তার কাছে থেকে অনেক নাম পেয়েছি যাদের অনেকই নিখোঁজ।’

তিনি আরো বলেন, ‘এর আগেও গণকবরের সন্ধান পাওয়া গেছে। এখনও আরো পাঁচটি গণকবরের তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। আরো গণকবর আছে সে অভিযোগ আমরা পেয়েছি। আগেও এমন অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে অনুসন্ধান কমিশনের প্রবেশাধিকার দিতে মিয়ানমারের কাছে অনুরোধ করেছি। এসব গণকবর মিয়ানমারের গণহত্যার প্রমাণ।’

Comments

comments