ডাকাতি করেছে পুলিশ, গ্রেপ্তার করেছে ডিবি

নরসিংদীতে ডাকাতির অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন রায়পুরা থানার এসআই সাখাওয়াত হোসেন ও আজহারুল ইসলাম, কনস্টেবল মাইনুল ইসলাম ও সাইদুল ইসলাম (ওপরে বাঁ থেকে)। ছবি : এনটিভি

নরসিংদীতে প্রবাসীর গাড়ি থেকে সোনা, টাকা ও মালামাল ডাকাতির অভিযোগে চার পুলিশ সদস্যসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গতকাল মঙ্গলবার থেকে আজ বুধবার দিনভর জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে ডাকাতির একটি সোনার বার, টাকা ও একটি প্রাইভেটকার জব্ধ করা হয়।

গ্রেপ্তার হওয়া চার পুলিশ সদস্য হলেন রায়পুরা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাখাওয়াত হোসেন ও আজহারুল ইসলাম, কনস্টেবল মাইনুল ইসলাম ও সাইদুল ইসলাম। গ্রেপ্তার হওয়া অন্য তিনজন হলেন নুরুজ্জামান মোল্লা, সাদেক মিয়া ও গাড়িচালক নূর মোহাম্মদ।

এর আগে ওই এসআই সাখাওয়াত হোসেনের বিরুদ্ধে ৭০ লাখ টাকা ডাকাতির অভিযোগ ওঠে, যা তদন্তাধীন রয়েছে।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদুর রহমান গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

অভিযোগে জানা গেছে, নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার হাইরমারা গ্রামের বাসিন্দা মালয়েশিয়াপ্রবাসী মো. সোহেল মিয়া ২৬ জানুয়ারি শুক্রবার দেশে আসেন। ওই দিন সন্ধ্যায় তিনি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে একটি ভাড়া করা গাড়িতে করে স্বজন আব্দুল্লাহসহ বাড়ি ফিরছিলেন। পথে নরসিংদী সদর উপজেলার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সাহেপ্রতাব এলাকার একটি সিএনজিতে পাম্পে গ্যাস নেওয়ার জন্য চালক গাড়ি থামান। এ সময় অপর একটি প্রাইভেটকারে করে আসা রায়পুরা থানার এসআই সাখাওয়াত ও আজহার আলীসহ চার পুলিশ সদস্য নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে তাদের আটক করে নিয়ে যান। পরে পুরানপাড়া ব্রিজ এলাকায় নিয়ে প্রবাসী সোহেলের কাছে থাকা দুটি সোনার বার, মোবাইল সেট ও টাকা লুট করে নেন। বিষয়টি জানাজানি হলে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হবে এমন ভয় দেখিয়ে ছেড়ে দেন।

নরসিংদীতে ডাকাতির অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন নুরুজ্জামান মোল্লা, গাড়িচালক নূর মোহাম্মদ, রায়পুরা থানার এসআই সাখাওয়াত হোসেন ও আজহারুল ইসলাম এবং কনস্টেবল মাইনুল ইসলাম ও সাইদুল ইসলাম (বাঁ থেকে)।

পরে প্রবাসী সোহেলের আত্মীয় মো. শাহজাহান পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন। পুলিশ সুপারের নির্দেশে গোয়েন্দা পুলিশের ওসি সাইদুর রহমান, এসআই আবদুল গাফ্ফার ও রুপম সরকার তদন্তে নামেন। পরে তারা সিএনজি স্টেশনের সিসি টিভির ফুটেজে ডাকাতির সত্যতা পান। ওই সময় সিসিটিভির ফুটেজে দেখা যায়, রায়পুরা থানার এসআই সাখাওয়াত হোসেন ও আজহারুল ইসলাম, কনস্টেবল মাইনুল ইসলাম ও সাইদুল ইসলামসহ চার পুলিশ সদস্য সোহেলসহ তিনজনকে আটক করে নিয়ে যায়। এরই ধারাবাহিকতায় প্রথমে ডিবি পুলিশ এসআই সাখাওয়াত হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এসআই আজহারুল ইসলাম, কনস্টেবল মাইনুল ইসলাম ও সাইদুল ইসলামকে আটক করা হয়। ওই সময় সাখাওয়াতের কাছ থেকে ডাকাতির ১৮ হাজার টাকা, এসআই আজহারুল ইসলামের ট্রাংক থেকে একটি সোনার বার ও সাদেক মিয়ার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করা হয়।

মামলার বাদী শাহজাহান জানান, সোহেলকে বিমানবন্দর থেকে নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে পুলিশ এ ঘটনা ঘটায়। প্রবাসী সোহেলের কাছে অন্যান্য প্রবাসীরা মালামাল দিয়েছিলেন। পুলিশ সদস্যরা ওই সব মালামালও ছিনিয়ে নেন। কাউকে জানালে ডাকাতি মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার ভয় দেখান।

সম্প্রতি রায়পুরা থানা পুলিশ আওয়ামী লীগ নেতা গুম, গরু লুট, ডাকাতি, অর্থের বিনিময়ে টেঁটাযুদ্ধের ইন্ধন জোগানসহ নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়েছে। গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে কোরবানি ঈদের আগে এসআই সাখাওয়াতের নেতৃত্বে মেঘনা নদীতে গরু ব্যবসায়ীদের জিম্মি করে প্রায় ৭০ লাখ টাকা লুট করে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে।

ওই ঘটনায় রায়পুরা থানার ওসি দেলোয়ার হোসেন প্রায় নয় লাখ টাকা ও ২৫টি গরু জব্দ করার কথা স্বীকার করেছিলেন। বিষয়টি গণমাধ্যমে এলে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকতারা তদন্তে নামেন। এর কয়েক মাসের মধ্যেই পুনরায় তাদের বিরুদ্ধে তথ্য প্রমাণসহ ডাকাতির ঘটনায় পুলিশ সদস্যদের গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ।

গোয়েন্দা পুলিশের ওসি সাইদুর রহমান বলেন, ‘সিসি টিভির ফুটেজ দেখে আমরা নিশ্চিত হয়েছি ডাকাতির সঙ্গে রায়পুরা থানার এসআই সাখাওয়াত হোসেন ও আজহারুল ইসলাম, কনস্টেবল মাইনুল ইসলাম ও সাইদুল ইসলাম জড়িত। পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তাদের গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়।’

Comments

comments