‘রাজনীতিমুক্ত’ বিশ্ববিদ্যালয়ে আ.লীগ নেতা উপাচার্য

পদ শূন্যের ৫৮ দিন পর অবশেষে ‘রাজনীতিমুক্ত’ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদে নিয়োগ পেয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণ বিজ্ঞান (বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি) বিভাগের অধ্যাপক এমরান কবির চৌধুরী। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০০৬-এর ১০ (১) উপধারা অনুযায়ী, তাঁকে চার বছরের জন্য উপাচার্য পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ষষ্ঠ উপাচার্য।

গতকাল মঙ্গলবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার উপসচিব হাবিবুর রহমান স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। এমরান কবির চৌধুরী কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির ২২ নম্বর সদস্য। এর আগে তিনি একই সংগঠনের আহ্বায়ক কমিটির ৫১ নম্বর সদস্য ছিলেন। এ ছাড়া তিনি কেন্দ্রীয় যুবলীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক পদেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

জানতে চাইলে নবনিযুক্ত উপাচার্য এমরান কবির চৌধুরী গতকাল বিকেলে বলেন, ‘দলীয় পদ থেকে আমি আগেই পদত্যাগ করেছি। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজ করার জন্য আসছি। নতুন এ বিশ্ববিদ্যালয়কে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য সবার সহযোগিতা চাই। কালই (আজ বুধবার) আমি যোগদান করব।’

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় আইনের ৪৩ (৪) উপধারায় বলা আছে, ‘কোনো শিক্ষক, কর্মকর্তা বা কর্মচারী কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সদস্য হইতে পারিবেন না।’

এ প্রসঙ্গে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি কাজী ওমর সিদ্দিকী বলেন, উপাচার্য মহোদয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি করছেন। সেখানে ১৯৭৩ সালের অধ্যাদেশ অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালিত হচ্ছে। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের রাজনীতি করার সুযোগ রয়েছে। এমনকি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ারও সুযোগ রয়েছে। সুতরাং তাঁর ক্ষেত্রে ওই আইন প্রযোজ্য নয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. মজিবুর রহমান মজুমদার বলেন, গত ২ ডিসেম্বর থেকে উপাচার্যের পদটি শূন্য ছিল। উপাচার্যের পদ শূন্য থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা কোনো ধরনের বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না ডিসেম্বর থেকে। এ ছাড়া উপাচার্য না থাকায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে প্রথম বর্ষ স্নাতক (সম্মান) শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষার জন্য ৫৪ হাজার ৮০৯ জন শিক্ষার্থীর ভর্তি পরীক্ষা হয়নি। আজ বুধবার উপাচার্য যোগদান করবেন। এ জন্য সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

এমরান কবির চৌধুরীর বাড়ি কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার বটতলি ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামে। ২০০৮-এ আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর তিনি বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সদস্য ছিলেন। বর্তমানে তিনি কুমিল্লার কোটবাড়িতে অবস্থিত বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমির (বার্ড) পরিচালনা পর্ষদের সদস্য। সম্প্রতি তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক ঐক্য পরিষদের প্যানেল থেকে সিনেট সদস্য নির্বাচিত হন। এ ছাড়া তিনি নাঙ্গলকোট আশারকোটা ডা. যোবায়দা হান্নান স্কুল অ্যান্ড কলেজের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতির দায়িত্বও পালন করছেন। চট্টগ্রাম রেলওয়ে পাবলিক উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি ও নটর ডেম কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন।

Comments

comments