সিলেটেও বেপোরোয়া ছিলেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ডিআইজি মিজান! (ভিডিও)

ঢাকার বাইরে কর্মস্থলেও বেপরোয়া ছিলেন ডিআইজি মিজানুর রহমান। ক্ষমতার অপব্যবহার করে নারী কেলেঙ্কারিসহ নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে। বদলির ভয় দেখিয়ে অপকর্মে সহযোগী হতে বাধ্য করতেন অধীনস্থ কর্মকর্তাদের। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ডিউটির কোটি কোটি টাকা আত্নসাৎ এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নামে নিয়মিত মোটা অংকের ঘুষ দিতে থানাগুলোকে বাধ্য করার অভিযোগও আছে মিজানের বিরুদ্ধে।

শাহজালালের পুণ্যভূমি সিলেটে টানা দুই বছরেরও বেশি সময় কর্মরত ছিলেন ডিআইজি মিজান। এরমধ্যে, ২০১৩-২০১৪ পর্যন্ত সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার, এবং পরের বছর ছিলেন ডিআইজি হিসেবে। কথায় কথায় প্রধানমন্ত্রীকে ‘আপা’ বলে সম্বোধন করা মিজানের ক্ষমতার দাপটে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছিলেন অধীনস্থ কর্মকর্তারা। এসব কারণ উল্লেখ করে মিজানের বিরুদ্ধে ১৯টি অভিযোগসহ চিঠি পাঠানো হয় প্রধানমন্ত্রীর দফ্তর এবং পুলিশ সদরে ।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পুলিশের এক ভুক্তভোগি ওসি বলেন, সিলেটে টানা দুই বছরেরও বেশি সময়ে তিনি আমাদের অতিষ্ঠ করে গেছেন। আমার পরিবারের সবাইকে ভয় দেখিয়ে আমাকে পর পর ৫ বার বদলি করছে। অযথা আমাকে মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। ওসি আছাদুজ্জামানকেও হয়রানি করছে। এ সকল বিষয়ে আমরা পুলিশ হেড কোয়ার্টারে অভিযোগ দিলেও এর কোন তদন্ত করা হয়নি।

আরও একজন ভুক্তভোগী ওসি বলেন, আসলে এই লোকটা যে কত খারাপ তা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। তার শাস্তির জন্য যে কতো মানুষ দোয়া করছে তা বলে শেষ করা যাবে না।

এছাড়া, সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার থাকা অবস্থায় উপশহরের স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতার বাড়ির তিন তলায় ভাড়া থাকতেন মিজান। যেখানে প্রায়ই রাতের বেলা ঢাকা থেকে আসা বিভিন্ন মডেল কন্যাদের নিয়ে জমজমাট আসর বসাতেন তিনি। কাউকে বন্ধুর বউ, কাউকে কাজিন পরিচয় দিতেন বাড়িওয়ালাকে। পুলিশ কমিশনারের এসব কর্মকাণ্ডের খবর চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে, বাড়ি ছেড়ে দিতে বলা হয় মিজানকে। একসময়, বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হন মিজান।

সিলেটে আওয়ামী লীগ নেতার এই বাড়িতে ভাড়া ছিলেন ডিআইজি মিজান। অপকর্মের অভিযোগে তাকে বাড়ি ছেড়ে দিতে হয়েছিল।

এ বিষয়ে বাড়ি মালিক উস্তার আলী বলেন, আমার বাসায় ভাড়া থাকাকালীন সময় মিজান বিভিন্ন সময়ে হাই-প্রোফাইল মেয়েদের বাসায় নিয়ে আসতো। যখন লোক মুখে তার কুকীর্তি ছড়িয়ে পড়ে তখন সে বাসা ছাড়তে বাধ্য হয়।

এর পর উপশহরের মুকুট ভিলা নামের আরেকটি বাড়িতে উঠেও রংমহল তৈরি করেন মিজান। সেখানেও বেসরকারি দুটি কোম্পানির বিমানে চড়ে ঢাকা থেকে আসা নারী অতিথিদের আনা নেয়ায় ব্যবস্থার দায়িত্বে থাকতে হতো মিজানের ঘনিষ্ঠ ক’জন পুলিশ কর্মকর্তাকে। মাসিক ভাড়া থেকে শুরু করে বাড়ির সব ধরনের মনোরঞ্জনের খরচ বহন করতেন একজন ট্রাফিক সার্জেন্ট।

প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে এবং আইজিপির কাছে পাঠানো চিঠিতে এসব অভিযোগ উল্লেখ করার কথা স্বীকার করেন কয়েকজন ভুক্তভোগী। তখনকার ডিজিএফআই কর্মকর্তা বলেন, ঢাকা থেকে বিভিন্ন সময়ে টেলিভিশনের মডেল আনা নেওয়া করত মিজান। এসময় পরিবহন পোলের মোড় থেকে তেল নিয়ে দায়িত্বরত পুলিশ সার্জেন্টকে ধমক দিয়ে জোর করে কাজ করিয়ে নিত।

একই চিঠিতে অভিযোগ করা হয়, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ একটি ভবনে অনুষ্ঠানের নামে ২০১৫ সালের ১১ মে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পুলিশের ডিউটির প্রায় ১ কোটি টাকা কমিশনার মিজান নিজে আত্নসাৎ করেন। অভিযোগের শুরুতেই বলা হয়, বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে পুলিশের জন্য আসা বাজেটের পুরো টাকাই আত্নসাৎ করেন ছাত্রলীগের সাবেক ক্যাডার এবং প্রধানমন্ত্রীর আত্নীয় পরিচয় দেয়া ডিআইজি মিজান।

এছাড়াও শ্রীমঙ্গলে গ্র্যান্ড সুলতান নামক বিলাসবহুল হোটেলে পুলিশের সর্বোচ্চ কর্মকর্তার নামে রুম বুকিং রেখে নারীদের নিয়ে ফূর্তি করারও অভিযোগ আছে আলোচিত এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। ২০১৫ সালের ১৬ এপ্রিল সেখান থেকে মাতাল অবস্থায় গাড়ি চালিয়ে ফেরার পথে মোগলাবাজার এলাকায় অন্য একটি গাড়ির সাথে ধাক্কা লাগে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে নিজেকে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমশিনার পরিচয় দেয়ার পরও স্থানীয় জনতার হাতে নাজেহাল হতে হয় মিজানকে। সে ঘটনায় স্থানীয় থানার ওসি সময়মতো হাজির না হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে তাকে ক্লোজ করার আদেশ দেন তিনি।

Comments

comments