সম্পদ ও ক্ষমতার রসায়ন নিয়ে বিবিসি’র হাউজ অব সৌদ

ওই সময়ে যাদের জ্ঞান-বুদ্ধি হয়েছিল তাদের অনেকেই হয়তো ভুলে গেছেন; হতেই পারে, প্রায় চল্লিশ বছর আগের কথা। আর যারা এই ধরাধামে ছিলেন না, তাদের কথা বলা বাতুলতা মাত্র।

১৯৮০ সালে ব্রিটিশ গণমাধ্যম আইটিভি একটি ‘বিতর্কিত’ তথ্যচিত্র প্রচার করে, নাম ‘ডেথ অব আ প্রিন্সেস’। ছবিটি প্রদর্শনের কারণে ঐতিহাসিকভাবে সৌদ-ব্রিটিশদের দীর্ঘ দিনের মাখামাখির সম্পর্ক ভেঙ্গে পড়ার উপক্রম হয়। রিয়াদে তৎকালীন ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত জেমস ক্রেইগকে দেশ ত্যাগের নির্দেশও দিয়েছিল সৌদি সরকার।

তো কি এমন ছিল সেই ডকুমেন্টারিতে? ১৯৭৭ সালে গোপন প্রেমিক খালেদ আল-শা’য়র মুলহালালকে নিয়ে সৌদি রাজকুমারী মিশালের পালিয়ে যান। কিন্তু পালানোর পথে ধরা পড়েন। সৌদি আইন অনুাসরে ওই বছরের ১৫ জুলাই তাদের প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়।

এত বছর পরে হঠাৎ সেই ঘটনার অবতারণা, কিংবা এত বড় ভূমিকা দেওয়ার প্রয়োজন কি? প্রশ্নের উত্তর লেখার শিরোনাম দেখে ইতিমধ্যে খানিকটা বুঝতে পেরেছেন নিশ্চয়?

এবার আইটিভি নয়, বিশ্বব্যাপী অন্যতম গ্রহণযোগ্য গণমাধ্যম ব্রিটিশ ব্রডকাস্টিং কোম্পানি (বিবিসি) ‘হাউজ অব সৌদ: এ ফ্যামিলি অ্যাট ওয়ার’ নামে একটি ডকুমেন্টারি সিরিজ বিবিসি টু-তে দেখানো শুরু করেছে।

ইতিমধ্যে প্রথম সিরিজের তিনটি পর্ব প্রচারিত হয়েছে। তো কি আছে এই প্রথম সিরিজে? বিবিসি’র বলছে:

নজীরবিহীন পরিবর্তনের মোড়ে দাড়িয়ে আছে সৌদি আরব। দীর্ঘ সময় ধরেই তারা ভোগ করেছে অফুরান সম্পদ, ক্ষমতা, এবং প্রভাব-প্রতিপত্তি। কিন্তু হাউজ অব সৌদ বা রাজ পরিবারের বিরুদ্ধে চরমপন্থী মতাদর্শ ছড়ানো, এমনকি উগ্র চরমপন্থী গোষ্ঠীকে সহায়তার অভিযোগ রয়েছে। দেশের আমূল সংস্কার সাধনে উদ্যোগ নেওয়া সিংহাসনের উত্তরাধিকারী ৩২ বছর বয়সী যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের জন্য কী কী চ্যালেঞ্জ রয়েছে তা সিরিজের প্রথম পর্বে দেখানো হয়েছে।

আদতে কী আছে প্রকাশিত ওই তিন পর্বে? আসুন দেখে নেই একে একে:

পর্ব ১:

বসনিয়া, আফগানিস্তান, এবং সম্প্রতি সিরিয়াতে ‘সন্ত্রাসী’ গোষ্ঠীকে সৌদি আরব কর্তৃক আর্থিক ও অন্যান্য সহায়তা দেওয়া বিষয়টি এ পর্বে তুলে ধরা হয়েছে। এতে বিষদভাবে দেখানো হয়েছে, বুলগেরিয়া থেকে অস্ত্র কিনে সিরিয়ার ভিতরকার একটি গোষ্ঠীকে সরবরাহে দেশটির সরকারের ‘সম্পৃক্ত’ থাকার বিষয়টি।
পর্ব ২:

এই পর্বের উপজীব্য হচ্ছে, পশ্চিমা বিশ্ব, অস্ত্র কোম্পানি এবং সৌদি রাজ পরিবারের মধ্যে দুর্নীতিগ্রস্থ সম্পর্ক। কাজের ঠিকাদারি পেতে সৌদ পরিবারকে পশ্চিমা কোম্পানিগুলোর দেয়া বিশাল অঙ্কের অর্থ প্রদানের বিষয়টি এতে উঠে আসে।

পর্ব ৩:

এই পর্বে থাকছে, অবাধ যৌনাচার, জেন্ডার, মানবাধিকার, এবং অন্যান্য বিষয়ে সৌদি রাজপরিবারের সব রকমের আইন-কানুন চরম লঙ্ঘনের বিভিন্ন তথ্যচিত্র।

এরপর আরও পর্ব দেখানো হবে কি না; বা এ নিয়ে কয়টি সিরিজ করা হবে; কিংবা কয়টি সিরিজের কয়টি পর্ব থাকছে- এ সব বিষয়ে বিবিসি কর্তৃপক্ষ তাদের ওয়েবসাইটে পরিস্কারভাবে কিছু জানায়নি। তবে, আপনার যদি ভালো লেগে থাকে, এবং সেই সঙ্গে থাকে আগ্রহ; তবে এ বিষয়ে আপনি ঠিকই জেনে যাবেন।

Comments

comments