খালেদা জিয়াকে ছাড়া নির্বাচনে যাবে না বিএনপি: স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত

দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে ছাড়া আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ না নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণনি ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটি।

শনিবার রাতে গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায় দেখে দলটি কর্মসূচি ঘোষণা করবে বলেও বৈঠক সূত্রে জানা গেছে।

আগামী বৃহস্পতিবার আবার স্থায়ী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে আজ রোববার ২০ দলীয় জোটের সাথে বৈঠক করবেন বেগম খালেদা জিয়া।

জানা গেছে, খালেদা জিয়ার মামলা নিয়ে দলের শীর্ষ নেতারা বৈঠকে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরেছেন। এক্ষেত্রে সাংগঠনিক প্রস্তুুতির পাশাপাশি নেতাকর্মীদের সজাগ থাকতে বলা হয়েছে। রায়ে নেতিবাচক কিছু হলে সারা দেশে তাৎণিক তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখানোর কথা বলেছেন কোনো কোনো নেতা।

জানা গেছে, মামলার রায়ের তারিখ সামনে রেখে দলের নির্বাহী কমিটির একটি সভা ডাকা হতে পারে আগামী ফেব্র“য়ারির প্রথম সপ্তাহে। সেখানে উদ্ভূত পরিস্থিতির আলোকে দলীয় নেতাদের পরামর্শ নেয়া হবে।

এ দিকে খালেদা জিয়ার মামলার রায় নিয়ে ‘তড়িঘড়ি’ করাকে ‘সরকারি ষড়যন্ত্র’ দাবি করে এর বিরুদ্ধে দেশবাসীকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটি।

বৈঠকের ফাঁকে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।

তিনি বলেন, এই রায়ের তারিখ ঘোষণাকে কেন্দ্র করে গোটা জাতি আজ উদ্বিগ্ন, ক্ষুব্ধ ও ক্রুদ্ধ। আমরা মনে করি, এটা বাংলাদেশের গণতন্ত্র ধ্বংস করা এবং সবার অংশগ্রহণে নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা নষ্ট করার একটা গভীর ষড়যন্ত্র।

তিনি বলেন, জাতীয় স্থায়ী কমিটির সভা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ কয়েকজন নিরপরাধ ব্যক্তিকে মিথ্যা, বানোয়াট ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা দিয়ে সরকারের আইন-আদালতের নিয়মনীতির বিরোধী আচরণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে। এ ব্যাপারে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মাধ্যমে বিচারের নামে সরকারি ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে।

কর্মসূচির বিষয়ে তিনি বলেন, এটা জানাব রায় ঘোষণা হওয়ার পরে। পুরো বিষয়টা আমরা আবার জানাব রায় ঘোষণা হলেই।

তিনি বলেন, সরকারপ্রধান থেকে শুরু করে কয়েকদিন ধরে সরকারের মন্ত্রীরা এবং বিশেষ দূত এই মামলার রায় এবং তার সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবেলার বিষয়ে সরকার ও সরকারি দলের বিভিন্ন প্রস্তুতির কথা যে ভাষায় বলে চলেছেন তাতে প্রমাণিত হয়- মামলা আদালতে বিচারাধীন থাকলেও তার রায় কী হবে তা সরকার ও সরকারি দলের জানা আছে।

খালেদা জিয়ার সভাপতিত্বে স্থায়ী কমিটির বৈঠকে মহাসচিব ছাড়াও কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, জমিরউদ্দিন সরকার, মাহবুবুর রহমান, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

Comments

comments