যেনতেন রায় জনগণ মানবে না: ফখরুল

দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে যেনতেন রায় দেওয়া সহজ হবে না বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার সঙ্গে অন্যায় আচরণ করছে সরকার। সরকারকে সতর্ক করে দিয়ে তিনি বলেন, খালেদা জিয়া উড়ে এসে জুড়ে বসেননি। দীর্ঘদিন গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছেন। তিনবারের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। দু’বারের বিরোধীদলীয় নেতা ছিলেন। তাই কোনো অন্যায় রায় জনগণ মানবে না। সঠিক বিচার হতে হবে, ন্যায়বিচার হতে হবে।

জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে শনিবার স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল ও সাংগঠনিক সম্পাদক ইয়াছিন আলীর মুক্তি দাবিতে প্রতিবাদ সভায় তিনি এসব কথা বলেন। স্বেচ্ছাসেবক দলের ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখা এ সভার আয়োজন করে।

মির্জা ফখরুল বলেন, কার কাছে বিচার চাইব। বিচারের বাণী তো এখন নীরবে নিভৃতে কাঁদে। কেউ কোথাও ন্যায়বিচার পায় না। দেশ ধ্বংস করে এখন ১৬ কোটি মানুষের আশা-ভরসার স্থল খালেদা জিয়াকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখতে চায় সরকার। এ সময় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে দাবি করে নেতাকর্মীদের প্রস্তুতি নেওয়ার পাশাপাশি জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে জাগিয়ে তোলার আহ্বানও জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘আমরা যে কথা বলতে চাই খুব পরিস্কার করে, আমাদের নেত্রী এদেশের ১৬ কোটি মানুষের আশা-ভরসার স্থল, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের একমাত্র প্রতীক, যার ওপর পুরো বাংলাদেশ তাকিয়ে আছে, তাকে তারা রাজনীতি থেকে দূরে রাখতে চায়। আমরা কি সেটা করতে দেবো?’

এ সময়ে অনুষ্ঠানস্থলে নেতাকর্মীরা সমস্বরে ‘না’, ‘না’ বললে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আপনারা কি তার জন্য সমস্ত জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন?’ এ সময় নেতাকর্মীরা সমস্বরে ‘হ্যাঁ’ বলে ওঠেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে নজিরবিহীনভাবে তাড়াহুড়া করে এই মামলাটি শেষ করার প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। এমনকি শেষ দিন যখন আইনজীবী চাচ্ছেন যে, তিনি আরও কথা বলবেন, কিউসিরা আছেন তাদের কথা বলার কোনো সুযোগ না দিয়ে, সিনিয়র আইনজীবীদের গিলোটিন করে তাদের বক্তব্য শেষ করা হয়েছে এবং মামলার রায় দেওয়ার তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে।

সরকার সুপরিকল্পিতভাবে বিচার বিভাগকে করায়ত্ত করেছে অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে যে মামলার রায় দেওয়া হবে, সেটি কোনো মামলাই না। তার আইনজীবীরা প্রতিটি অভিযোগ খণ্ডন করেছেন এবং প্রমাণ হয়েছে, সম্পূর্ণ মিথ্যার ওপর এই মামলা হয়েছে। মির্জা ফখরুল বলেন, এ ট্রাস্টে খালেদা জিয়ার কোনো সম্পৃক্ততাই নেই, যে ট্রাস্টের কোনো ডকুমেন্টে স্বাক্ষর নেই, কোনো নির্দেশনা নেই। একটা জাল নথি হাজির করা হয়েছে। তার আইনজীবীরা প্রমাণ করে দিয়েছেন, এ নথিটি সম্পূর্ণভাবে জালিয়াতির মাধ্যমে ঘষামাজা করে তৈরি।

স্বেচ্ছাসেবক দলের মহানগর দক্ষিণের সভাপতি এস এম জিলানীর সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লা বুলু, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভূঁইয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু প্রমুখ।

Comments

comments