কাশি রোগ নয়, উপসর্গ

ডা. আবু রায়হান

কাশি কোনো রোগ নয়, এটি অনেক রোগের উপসর্গ। আর কফ হলো শ্বাসনালির রস, স্বাভাবিক অবস্থায় শ্বাসনালিকে ভিজিয়ে রাখাই এর কাজ। জীবাণু কিংবা ধুলাবালি থেকে ক্ষতির হাত থেকে বাঁচানোর জন্য যেসব ব্যবস্থা রয়েছে, সেগুলোর একটি হলো কাশি। কাশি হলে বুঝতে হবে শরীর সমস্যায় পড়েছে, সম্ভবত সেই সমস্যা শ্বাসনালিতে। শ্বাসনালিকে পরিস্কার করার জন্য আমরা কাশি দেই। নাক-মুখের পেছন দিকটা এক, সেখান থেকে দুইটা নালি আলাদা হয়ে যায় শ্বাসনালি ও খাদ্যনালি। খাওয়ার সময় যেন শ্বাসনালিতে খাবার না যায় সেজন্য শ্বাসনালির শুরুতে একটি দরজা আছে। কাশির সময় সেই দরজা বন্ধ হয়। ফলে ফুসফসের ভেতরে চাপ বাড়ে। এই বাড়তি চাপে হঠাৎ দরজা খুলে গিয়ে ফুসফুসের বাতাস দ্রুত বেরিয়ে কাশির আওয়াজ হয়।

বারবার কাশি, রাতে কাশি, কাশতে কাশতে বমি, কাশির সঙ্গে বুক-পিঠ, হাত ও পায়ে ব্যথা লাগাতার হলে তা চিন্তার বিষয়। অনেক রোগেই কাশি হতে পারে। যেমন- শ্বাসতন্ত্রের জীবাণু সংক্রমণ, নিউমোনিয়া, ব্রঙ্কাইটিস সিওপিডি, আইএলডি, অ্যালার্জিজনিত অ্যাজমা প্রভৃতি। যেসব কাজের পরিবেশে ধুলাবালি বেশি, সেখানে যারা কাজ করেন তাদের শ্বাসতন্ত্রের বড় ধূলিকণাগুলো নাকের পশমে আটকে পড়ে। তার চেয়ে ছোট কণাগুলো শ্বাসনালি কফের সঙ্গে বের করে দেয়। ছোট কণাগুলো ফুসফুসের বাতাসের থলিতে ঢুকে ঘায়ের সৃষ্টি করে। পোশাক কারখানায় বাতাস চলাচল করতে না পারায় অক্সিজেন স্বল্পতার কারণে যক্ষ্ণাসহ অনেক সমস্যা দেখা দেয়। কাশির সঙ্গে রক্ত গেলে, শ্বাসকষ্ট হলে, কাশি দুই সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হলে এবং শিশুদের ক্ষেত্রে মায়ের বুকের দুধ টেনে খেতে না পারলে সঙ্গে সঙ্গে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন, চিকিৎসা নিন, ভালো থাকুন।

লেখক: সহযোগী অধ্যাপক, রেসপিরেটরি মেডিসিন, স্যার সলিমুলল্গাহ মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতাল

Comments

comments