আদনান হত্যা মামলায় আটক ৫ কিশোর, রক্তমাখা ছুরি উদ্ধার

চট্টগ্রামে স্কুল ছাত্রলীগের গ্রুপিং

চট্টগ্রামে স্কুলকেন্দ্রিক ছাত্রলীগের রাজনীতি ও গ্রুপিংয়ের বলি স্কুলছাত্র আদনান ইসফার হত্যায় জড়িত সন্দেহে পাঁচ কিশোরকে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে রক্তমাখা ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে।

আটক পাঁচ কিশোর হল হাজেরা তজু ডিগ্রি কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র মহিম, সাব্বির, মুনতাসির ও আবদুল্লাহ আবু সাঈদ এবং এসএসসি পরীক্ষার্থী আরমান।

বুধবার রাতে চট্টগ্রামের বাঁদুরতলা থেকে মুনতাসিরকে এবং বাকিদের ফটিকছড়ি উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আটক করা হয়।

তবে আদনান হত্যায় নেতৃত্বদানকারী ছাত্রলীগ নেতা মাঈন উদ্দিনকে এখনও গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। ভিডিও ফুটেজ থেকে চিহ্নিত করে তাকে ধরার অভিযান চালানো হচ্ছে।

চট্টগ্রামের সরকারি স্কুলগুলোতে ছাত্রলীগের একাধিক গ্রুপ ও উপগ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। এসব গ্রুপের মধ্যে প্রতিনিয়ত সংঘাতের ঘটনা ঘটছে।

এ সংঘাতের জেরে মঙ্গলবার দুপুরে নগরীর জামালখানে কলেজিয়েট স্কুলের ১০ শ্রেণির ছাত্র আদনানকে খুন করা হয়।

শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা জানান, কলেজিয়েট স্কুল, চট্টগ্রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় (গভ. হাই), সরকারি মুসলিম হাইস্কুল, নাসিরাবাদ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের একাধিক গ্রুপ রয়েছে। স্কুল ছাত্রলীগের একটি গ্রুপের নেতৃত্ব দেন চন্দনপুরা এলাকার আবদুর রউফ নামে এক আওয়ামী লীগ নেতা। রউফের প্রতিদ্বন্দ্বী হলেন জামালখান এলাকার ছাত্রলীগ নেতা সাব্বির আহমদ।

অভিযোগ করে অভিভাবকরা বলেন, ছাত্রলীগ নামধারী স্কুলের ছাত্ররা শিক্ষকদের কথা শোনে না। স্কুল ক্যাম্পাস ও ক্যাম্পাসের বাইরে মারামারি এবং সংঘাতে লিপ্ত হয়। স্কুলে এ ধরনের নোংরা ও সংঘাতময় রাজনৈতিক পরিবেশ নিয়ে উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা।

আদনানের একাধিক বন্ধু যুগান্তরকে জানায়, গ্রুপিংয়ের কারণে আদনানের প্রাণ গেছে। নবম শ্রেণির ছাত্র হলেও মাঝেমধ্যে সে ছাত্রলীগের মিছিলে যেত। জামালখান এলাকার সাব্বিরের অনুসারী ছিল আদনান। তাদের বাড়িও পাশাপাশি। চন্দনপুরা এলাকার ছাত্রলীগ নেতা সাব্বিরের সঙ্গে জামালখান এলাকার সাব্বিরের দ্বন্দ্ব রয়েছে। কিছু দিন আগে চন্দনপুরার সাব্বিরের এক অনুসারীকে মারধর করে জামালখানের সাব্বিরের অনুসারী বাপ্পি। এ ঘটনার জের ধরে চন্দনপুরার সাব্বিরের অনুসারী মাঈনসহ কয়েকজন আদনানকে খুন করেছে। আদনানের বন্ধু শোয়াইব জানায়, তাদের বাসা গণি বেকারির পশ্চিম গলিতে। মহসিন স্কুলের মাঠে মাঝে মাঝে তারা ফুটবল খেলে।

স্থানীয় লোকজন জানান, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত চন্দনপুরার সাব্বিরের গডফাদার রউফের বিরুদ্ধে খুন ও চাঁদাবাজির একাধিক মামলা রয়েছে। জামালখান এলাকায় ‘মেজ্জান হাইলে আইয়্যু’ নামে একটি রেস্তোরাঁয় বসে চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ করে রউফের অনুসারীরা। ওই রেস্তোরাঁর ২০ গজের মধ্যে মঙ্গলবার আদনান খুনের ঘটনাটি ঘটে।

চকবাজার থানার ওসি নুরুল হুদা যুগান্তরকে জানান, খুনের পর পরই ঘটনার ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। এটি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, আদনানের মূল ঘাতক মাঈন উদ্দিন। তার সহযোগী ছিল কয়েকজন।

Comments

comments