নগরবাসীর দুর্দশা লাঘবে সবসময় পাশে থাকার অঙ্গীকার সেলিম উদ্দিনের

যেকোন পরিস্থিতিতে নগরবাসীর দুর্দশা লাঘবে সবসময় পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন জামায়াত নেতা মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তরের কর্মপরিষদের সভায় আজ তিনি এ অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। এসময় তিনি সরকারকে নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতি ও গণতন্ত্রের পথে ফিরে আসারও আহবান জানান।

উর্দ্ধতন সংগঠন কর্তৃক মনোনীত ও আদিষ্ট হয়েই তিনি ডিএনসিসি নির্বাচনে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছেন বলেও জানান। তিনি দাবি করেন যে, তিনি তার নির্বাচনী প্রচারণা, গণসংযোগ, মতবিনিময় সভা ও সামাজিক-সংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ডিএনসিসিকে নিয়ে তার পরিকল্পনার কথা ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরেছেন। সকল স্তরের নগরবাসী, শিক্ষক, ছাত্র, সাংবাদিক, চিকিৎসক, আইনজীবী, মালিক, শ্রমিক, ব্যবসায়ী, বিভিন্ন পেশাজীবী, ধর্মীয় সংগঠন, আলেম-উলামা, শিক্ষাবিদ, শিল্পি ও সংস্কৃতিকর্মী সহ সকল শ্রেণি ও পেশার মানুষ তার পরিকল্পনাগুলোকে সাদরে গ্রহণ করেছেন। প্রবাসেও তার পরিকল্পনা ও প্রার্থীতাকে স্বাগত জানানো হয়েছে। মূলত তিনি ডিএনসিসির মেয়র প্রার্থী হিসেবে সমাজের সকল শ্রেণির মানুষের কাছে ভালবাসা ও গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছেন। তাই তার প্রার্থীতার যারা তাকে সমর্থন, অনুপ্রেরণা ও পরামর্শ দিয়েছেন ব্যক্তিগতভাবে তিনি সকলের কাছেই কৃতজ্ঞতার বন্ধনে আবদ্ধ বলে জানান। তিনি আগামী দিনেও সকল ভাল ও গঠনমূলক কাজে একইভাবে সকলের কাছে সমর্থনও কামনা করেন।

সেলিম উদ্দিন বলেন, মূলত ডিএনসিসিকে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন নগরীতে পরিণত করতে এবং জনকল্যাণের সুদুরপ্রসারী লক্ষ্যকে সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামী তাকে প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছিল। আসলে ঢাকা অনেক প্রাচীন নগরী হলেও নাগরিক সেবার মান এখনও কাঙ্ক্ষিত মানে পৌঁছায়নি। নগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খুবই উদ্বেগজনক। ডিএনসিসিতে বর্ষা মওসুমে জলাবদ্ধতা সমস্যাগুলোর অন্যতম। মাঝারী মানের বৃষ্টিপাতেই ডিএনসিসির বিভন্ন এলাকা পানির নীচে তলিয়ে যায়। বিশেষ করে মিরপুর অঞ্চলের জলাবদ্ধতা বিষয়টি খুবই প্রকট। নাগরিক পরিসেবার আওতায় বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি সরবরাহ, পয়োনিষ্কাশন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পানি নিষ্কাশন, টেলিযোগাযোগ ও ইন্টারনেট সহ বিভিন্ন সেক্টর বেশ সমস্যাগ্রস্থ। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাপে এসব নাগরিক পরিসেবার মান ক্রমান্বয়ে নিম্নমুখী। বর্তমানে ঢাকা শহরের জলাবদ্ধতা ও বিশুদ্ধ পানির অপ্রতুলতা এসব নাগরিক পরিসেবার নিম্নমানের সাক্ষ্য দেয়। মূলত অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও রাজউকের নকসা বহির্ভূত ইমারত নির্মাণ ও অপ্রতুল ডেনেজ ব্যবস্থাপনার কারণেই নগরীর জলাবদ্ধতা মারাত্মক আকার ধারণ করেছে।

এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য অপরিকল্পিত ও নকশা বহির্ভূত ইমারত নির্মাণ বন্ধ, নগরায়ণে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার এবং পর্যাপ্ত পানি নিষ্কাষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। তিনি ও তার সংগঠন নগরবাসীর দুর্দশা লাঘবে সবসময় জনগণের পাশে থাকবেন বলেও অঙ্গীকার করেন।

Comments

comments