প্রতিবাদ করলেই শুনতে হয় ‘না পোষালে চলে যান’

ভাড়াটিয়াদের বক্তব্য

বাড়িভাড়ার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ ভাড়াটিয়ারা। বাড়িভাড়া বৃদ্ধির ব্যাপারে কোনো ভাড়াটিয়া প্রতিবাদ করলেই বাড়িওয়ালা ধমকের সুরে বলে থাকেন ‘পোষাইলেই থাকেন, না পোষাইলে চলে যান’। ভাড়াটিয়ারা জানান, রাজধানীর বাড়িওয়ালারা যেন ভাড়াটিয়ারদের জিম্মি করে নীরব নির্যাতন করছেন। বাড়ির মালিকরা স্থানীয়ভাবে অনেক শক্তিশালী, প্রভাবশালী ও সুসংগঠিত হওয়ায় ভাড়াটিয়ারা প্রতিবাদ করে কখনও টিকে থাকতে পারে না। মিরপুর এলাকার ভাড়াটিয়া মো. সহিদুল ইসলাম বলেন, আমরা ভাড়াটিয়া বলে বাড়িওয়ালারা আমাদের তুচ্ছভাবে দেখে। বাড়িওয়ালারা কাপড় রোদে দেয়া কিংবা বাচ্চাদের খেলাধুলার জন্য ছাদে জায়গা দিতে চান না। শুধু তার নিজের ব্যবহারের জন্যই রাখেন ছাদ। দিনের বেশিরভাগ সবসময় ছাদে তালা দেয়া থাকে।

যাত্রাবাড়ীর এলাকার ভাড়াটিয়া মো. আবদুল মালেক জানান, আমরা ভাড়াটিয়ারা গাড়ি পার্কিং ব্যবহার করতে পারি না। ছাদ ব্যবহার করতে পারি না। মেহমান বেশি এলে বাড়ির মালিক বলে বেশি পানি ব্যবহার হয়ে যাবে না। রাত ১১টার পর বাসায় ঢুকতে দেয়া হয় না। গেটের চাবি বাড়িওয়ালার কাছে থাকে। কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে বাসা থেকে যেন নিচে নামার কোনো সুযোগ নেই। ভাড়াটিয়াদের জন্য সরকার যেন সুন্দর একটি আইন করে এটাই আমাদের দাবি।

উত্তরার ভাড়াটিয়া সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, বাসায় মেহমান আসা-যাওয়া করলে বাড়িওয়ালা ডেকে নিয়ে বলে দেয় মেহমান বেশি এলে বাসা ছেড়ে দেন। গাড়ি পার্কিং ও ছাদ ব্যবহার করতে দেয় না। ভাড়াটিয়া বিধায় বাড়িওয়ালা মনে করে আমরা নিচু শ্রেণীর মানুষ। আমরাও কিন্তু লাখ লাখ টাকা খরচ করি। হয়তো ঢাকা শহরে বাড়ি নেই। অতি অল্প সময়ের মধ্যে সরকার যেন একটি শক্তিশালী আইন বাড়িওয়ালাদের বাড়াবাড়ি নিয়ন্ত্রণ করে এটাই আমাদের দাবি।

মিরপুর-৬ এর চার নম্বর রোডের ৩৭ নং বাড়ির ভাড়াটিয়া মো. আকবর ইমাম বলেন, গত চার বছর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স-মাস্টার্স শেষ করে একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরি করছি। বেতন অনুযায়ী প্রতি মাসের বাড়িভাড়া দিতে হিমশিম খেতে হয়। একই বাড়িতে ছয় বছর ধরে বসবাস করছি। প্রতিবছর ভাড়া বৃদ্ধির নোটিশ পাঠিয়ে দেন বাড়িওয়ালা। কারণ জানতে চাইলে সাফ বাসা ছেড়ে দিতে বলেন। এছাড়াও বাড়ির মালিকের সঙ্গে ভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে কথা বললে হুমকি-ধামকি বা হামলা-মামলার আশংকা থাকে।

মোহাম্মদপুর এলাকার ভাড়াটিয়া মো. ওয়াসিম রানা, তিনি ঢাকা কলেজ থেকে মাস্টার্স পাস করে একটি বেসরকারি এনজিও কোম্পানিতে চাকরি করছেন। তিনি বলেন, কোনোমতে বাসাভাড়া দিয়ে মাস পার করছি। যে পরিমাণে বাড়িভাড়া দেই সেই হিসেবে বাড়িওয়ালার কাছ থেকে তেমন কোনো সুযোগ-সুবিধা পাই না। বছর বছর ভাড়া বৃদ্ধি না হলে দশ বছরে ঢাকাতে একটি ফ্ল্যাট কিনে ফেলতাম।

রাজধানীর উত্তরার পাঁচ নম্বর সেক্টরের হাবিব মার্কেট এলাকার পাঁচ নম্বর রোডের তিন নম্বর বাড়ির ভাড়াটিয়া মো. রাসেল হোসেন। তিনি বলেন, গত বিশ বছর ধরে ভাড়া বাসায় বসবাস করে আসছি। শুরুতে দশ হাজার টাকায় ভাড়া বাসায় থাকা শুরু করি। বর্তমানে সে ভাড়া দাঁড়িয়েছে ৩৫ হাজার টাকা। বাড়িভাড়া বৃদ্ধি না হলে হয়তো বা রাজধানীর উত্তরাতে বাসা ভাড়ার টাকা দিয়ে রাজউক থেকে একটি প্লট ক্রয় করতে পারতাম।

Comments

comments