মারামারিতে ম্লান ছাত্রলীগের আনন্দ শোভাযাত্রা

সময়টা ছিল দুপুর সাড়ে ১১টা। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ছাত্রলীগের উদ্দেশে বললেন, নিজেদের মধ্যে অন্তঃকোন্দলে জড়ানো যাবে না, কোনো বিশৃঙ্খলা করা যাবে না। যদি কোনো নেতাকর্মী বিশৃঙ্খলা করে তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কিন্তু আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক যিনি কিনা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি, তার সামনেই হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি জসীম উদদীন হল ও হাজী মুহম্মদ মহসীন হল ছাত্রলীগের কর্মীরা। ঘটনা খুব সামান্য। অপরাজেয় বাংলার সামনে ‘মাঝখান দিয়ে হাঁটা’কে কেন্দ্র করে এই হাতাহাতি। পরে হল ছাত্রলীগের নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

ছাত্রলীগের শোভাযাত্রা ঘিরে সেই যে হাতাহাতির শুরু, তা শোভাযাত্রা শেষ হওয়া পর‌্যন্ত অব্যঅহত ছিল। পথে পথে বিভিন্ন ইউনিট ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সংঘর্ষে জড়িয়েছেন। তা দেখে মনে হয়েছে, এ যেন প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আনন্দ শোভাযাত্রা নয়, মারামারির প্রদর্শনী যাত্রা।

উপমহাদেশের ঐতিহ্যবাহী ছাত্রসংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আনন্দ শোভাযাত্রার এই বিশৃঙ্খল অবস্থা সংগঠনটির ভাবমূর্তিই কেবল স্লান করেছে। এর মধ্য দিয়ে সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের কথারই প্রতিচ্ছবি ফুটে ওঠে- ‘ছাত্রলীগ পরিমাণগতভাবে বেড়েছে, কিন্তু তারা গুণগতভাবে এখনো তেমন উন্নত নয়।‘

শনিবার বেলা ১২টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে থেকে শুরু হওয়া শোভাযাত্রা ২৩ বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে দলের কেন্দ্রীয় কার‌্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়। এর আগে সমাবেশে অংশ নিতে সকাল থেকে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা জমায়েত হতে থাকেন অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে।

নগরের মানুষের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে ৪ জানুয়ারি বৃহস্পতিবারের বদলের আজ সাপ্তাহিক ছুটির দিনে শোভাযাত্রা করে ছাত্রলীগ। কিন্তু তাতে থেমে থাকেনি মানুষের দুর্ভোগ।

এবার আসুন দেখে নিই শোভাযাত্রার পথে পথে আরো কয়েকটি হাতাহাতি-মারামারির চিত্র।

শোভাযাত্রার ট্রাকে ছিলেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন। তাদের সামনেই সংঘর্ষে জড়ায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ। সেই মারামারি থামাতে গিয়ে আহত হন একজন। এমনকি সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগকে ট্রাক থেকে নিচে নামতে দেখা গেছে মারামারি থামাতে।

দুই পক্ষের সংঘর্ষের কারণে বেলা ১.৩০ থেকে ১.৫০ পর্যন্ত আনন্দ শোভাযাত্রা বন্ধ থাকে। পরে আবার এগিয়ে যায় বঙ্গবন্ধু এভিনিউর দিকে।

শোভাযাত্রা শুরু হলে দুপুর ১২টায় শাহবাগ শিশুপার্কের সামনে মিরপুর বাঙলা কলেজ ছাত্রলীগ ও ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। কলেজগুলোর ছাত্রলীগ নেতারা সংঘর্ষ থামাতে গেলেও বারবার হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন এই দুই কলেজের শিক্ষার্থীরা। তাদেরই আবার ১০ মিনিট পর এক হয়ে সেলফি তুলতে দেখা গেছে।

কিছুক্ষণ পর একই জায়গায় আবার সংঘর্ষে জড়ায় ছাত্রলীগের কর্মীরা। এই সময় সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ এবং দক্ষিণ ছাত্রলীগের সভাপতি বায়েজিদ খান দুই পক্ষের কর্মীদের সেখানে থেকে সরিয়ে দেন।

শোভাযাত্রা থেকে ফেরার পথে গুলিস্তানে সংঘর্ষে জড়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যার এ এফ রহমান হল এবং জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল। এই সময় দুই হলের ছাত্রলীগ কর্মীরা একে-অপরকে মারধর করেন।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আল আমিন মারামারি ঠেকাতে গিয়ে রাস্তায় পড়ে যান।

এভাবে সংঘর্ষে শুরু আর সংঘর্ষেই শেষ হয়েছে ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আনন্দ শোভাযাত্রা।

Comments

comments