সাড়ে ৬ কোটি টাকার বাড়ি বানালেন ছাত্রলীগ সভাপতি সোহাগ!

ছাত্রলীগ সভাপতির সাড়ে ৬ কোটি টাকার বাড়ি

সাইফুর রহমান সোহাগ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠন ছাত্রলীগের ২৮তম নির্বাচিত সভাপতি। যদিও তার কমিটির মেয়াদ গত বছরের ২৬ জুলাই শেষ হয়ে গেছে। মাদারীপুরের জন্ম এ ছাত্রলীগ নেতার।

দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি হওয়ার পর বিতর্ক তার পিছু ছাড়েনি কখনই। এমনকি দলীয় ফোরামে ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের এত টাকা এবং বিলাসী জীবনযাপনের বিষয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। এরপর ছাত্রলীগের নতুন কমিটির দাবিতে সোচ্ছার হয়ে উঠে একটি অংশ। বিষয়টি আওয়ামী লীগের সর্বোচ্চ ফোরামেও আলোচিত হয়েছে।

শনিবার সকালে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ওবায়দুল কাদের সংগঠনটির ৭০ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত র‌্যালী শুরুর আগে নতুন সম্মেলনের সময় সম্পর্কে ইঙ্গিত দিয়ে বলেছেন, আগামী মার্চেই ছাত্রলীগের নতুন কমিটি গঠন করা হবে জাতীয় সম্মেলনের মাধ্যমে।

এদিকে, অনুসন্ধানে উঠে এসেছে ছাত্রলীগ সভাপতির বিত্তবৈভবের মালিক বনে যাওয়ার কাহিনী। বিশেষ করে ছাত্রলীগ সভাপতি হওয়ার মাত্র ২ বছরের মাথায় বিলাসবহুল বাড়ি তৈরির বিষয়টি নিয়ে চলছে নানামুখী আলোচনা। মাদারীপুর সদরে সোহাগ প্রায় সাড়ে ৬ কোটি টাকা খরচ করে নতুন এ বাড়ি তৈরি করেছেন বলে জানিয়েছে এলাকাবাসী। ৫ তলা ডুপ্লেক্স বাড়ি তুলেছেন সোহাগের পরিবার।

এলাকার একটি সূত্র জানিয়েছে, মাদারীপুরের সবচেয়ে অভিজাত বাড়িটির মালিক এখন সাইফুর রহমান সোহাগ। ছাত্রলীগের সভাপতি হওয়ার পরই তিনি যেন আলাদীনের চেরাগ পেয়ে যান। ডুপ্লেক্স এই বাড়িটির পাশেই ছাত্রলীগ সভাপতির আগের টিনশেড বিল্ডিং এখনো রয়েছে। নতুন বাড়িটি দেখতে এলাকার মানুষরা এখন ভিড়ও করছেন বলে নিশ্চিত করেছে সূত্রটি।

উল্লেখ্য, সাইফুর রহমান সোহাগের পিতা এইচ এম আবদুর রহমান একজন শিক্ষক এবং মা মর্জিনা খানম পেশায় অবসরপ্রাপ্ত পরিবার কল্যাণ সহকারী। তিন ভাইয়ের মধ্যে সাইফুর রহমান সোহাগ ২য়। তার বড় ভাই মাহবুবুর রহমান সোহেল সুইডেনের লিনিয়াস ইউনিভার্সিটি থেকে এমবিএ করেছেন। তিনি ছাত্রলীগের সুইডেন শাখার সক্রিয় কর্মী। সাইফুর রহমান সোহাগের আরেক ভাই আরিফ হোসেন সুমন সুইডেন যুবলীগের কার্যকরী সদস্য।

নতুন অভিজাত বাড়ির বিষয়ে জানতে চেয়ে ছাত্রলীগ সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগকে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। এ প্রতিবেদক বিকাল ৫ টা ৪০ মিনিটে নিউজ সংক্রান্ত মন্তব্য চেয়ে একটি ক্ষুদে বার্তা পাঠালেও তিনি তার জবাব দেননি।

Comments

comments