জেএসসিতে ফেল, ছাত্রীর আত্মহত্যার পর জানা গেল পাস!

ফরিদগঞ্জে জেএসসি পরীক্ষার্থী ফেরদৌসি আক্তার নামে এক ছাত্রীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন পরীক্ষায় ফেল করায় ওই ছাত্রী আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে। তবে আত্মহত্যার পর জানা গেল ওই ছাত্রী পাস করেছে। এঘটনার পর বুকফাঁটা আর্তনাদ চলছে পরিবারের সদস্যদের মাঝে।

নিহত ফেরদৌসী চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার পাইকপাড়া উত্তর ইউনিয়নের পাইকপাড়া ইউজি উচ্চবিদ্যালয়ের ছাত্রী হানিফ সরদারের মেয়ে। শনিবার উপজেলার কাশারা গ্রামের সরদার বাড়িতে আত্মহননের ঘটনা ঘটে। যদিও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিশ্চিত করেছেন ফেরদৌসি পাস করেছে।

ফেরদৌসির বাবা হানিফ সরদার জানান, ২০১৬ সালে ইংরেজি বিষয়ে ফেল করায় সে ২০১৭ সালের জেএসসিতে এক বিষয়ে পরীক্ষা দিয়েছিল। শনিবার ফলাফল প্রকাশ হবে জেনে ফেরদৌসি প্রথমে স্কুলে যায়। কিন্তু স্কুলে ঢোকার আগেই কে বা কারা তাকে জানায়, সে এবারও ফেল করেছে। সে আর স্কুলে না ঢুকে বাড়ি চলে আসে। পরে তার মা রেহানা বেগমকে আবারও পরীক্ষার ফল জানতে স্কুলে পাঠায়। স্কুল থেকে সে আমাকে জানায়, ফেরদৌসি পাস করেছে। তখন তার কয়েকজন শিক্ষক ফোন করে মিষ্টি খাওয়াতে বলে। সে অনুযায়ী আমি দুই কেজি মিষ্টি কিনে পাঠানোর ব্যবস্থা করছিলাম। এরই মধ্যে বাড়ি থেকে সংবাদ আসে ফেরদৌসি অজ্ঞান হয়ে পড়েছে। দ্রুত বাড়ি গিয়ে তাকে চাঁদপুর নিয়ে যাই। ততক্ষণে সব শেষ। তিনি জানান, মূলত ওই ক্লাসে আরও কয়েকজন ফেরদৌসি আছে।

ধারণা করছি, কেউ হয়তোবা আমার মেয়েকে ভুল তথ্য দিয়েছে। সে যদি আর পাঁচ মিনিট অপেক্ষা করত, তাহলে আমরা আমাদের বড় মেয়েটিকে হারাতাম না। ফেরদৌসি আক্তারের মা রেহানা বেগম জানান, মেয়ের রেজাল্টের জন্য তিনি স্কুলে যান। এই ফাঁকে মেয়ে পরীক্ষার ফলাফল খারাপ জেনে বাড়িতে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে নিজের ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেয়। বাড়ি ফিরে জীবিত মেয়েকে পেলেন না।

Comments

comments