ট্রাম্পের টুইট : পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়া

খাজা মুহাম্মাদ আসিফ

পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খাজা মুহাম্মাদ আসিফ বলেছেন, তার সরকার বিশ্ববাসীকে সত্য কথা জানানোর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।

তিনি এক টুইটার বার্তায় বলেছেন, ‘আমরা শিগগিরই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের টুইটার বার্তার জবাব দেব ইনশাল্লাহ। আমরা বিশ্বকে সত্য কথা জানার সুযোগ করে দেব। বিশ্ব বাস্তবতা ও কল্পিত কথার পার্থক্য জানতে পারবে।’

এদিকে, ট্রাম্পের বক্তব্যের পর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহীদ খাকান আব্বাসি আজ মঙ্গলবার মন্ত্রিসভা বৈঠক ডেকেছেন। এছাড়া, বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্য আগামীকাল জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির বৈঠক ডেকেছেন পাক প্রধানমন্ত্রী।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গতকাল সোমবার এক টুইটার পোস্টে বলেছেন, ‘গত ১৫ বছর ধরে আমেরিকা বোকার মতো পাকিস্তানকে তিন হাজার তিনশ কোটি ডলার অর্থ সহায়তা দিয়েছে কিন্তু তারা মিথ্যা ও প্রতারণা ছাড়া আর কিছুই দেয়নি; আমাদের নেতাদেরকে বোকা মনে করেছে। আমরা যেসব সন্ত্রাসীকে আফগানিস্তানে ধরার জন্য খুঁজি সে বিষয়ে সাহায্য করে না তাদেরকে বরং নিরাপদ আশ্রয় দেয় পাকিস্তান। আর সাহায্য দেয়া হবে না।’

দীর্ঘদিন ধরে আমেরিকা সন্ত্রাসীদেরকে সমর্থন ও আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়ার জন্য পাকিস্তানকে দোষারোপ করে আসছে। এর বিপরীতে পাকিস্তান সবসময় বিষয়টি নাকচ করেছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিষয়টি নিয়ে পাকিস্তান ও আমেরিকার মধ্যে অনেক বেশি তিক্ততা দেখা দিয়েছে। গত ২১ আগস্ট ট্রাম্প যে নতুন আফগান নীতি ঘোষণা করেছেন তাতেও তিনি পাকিস্তানকে সন্ত্রাসবাদে মদদ দেয়ার জন্য অভিযুক্ত করেছেন।

ওয়াশিংটন-ইসলামাবাদ সম্পর্ক তলানিতে : চাপে পাকিস্তান
ডেইলি ডন ও নিউ ইয়র্ক টাইমস, ০১ জানুয়ারি ২০১৮
পাকিস্তানকে প্রস্তাবিত ২৫ কোটি ৫০ লাখ ডলারের অর্থ সাহায্য বন্ধ করে দিতে চলেছে যুক্তরাষ্ট্র। এ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনেও জোর বিতর্ক শুরু হয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর থেকেই পাকিস্তান যাতে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় তার জন্য চাপ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। তখন ইসলামাবাদকে অর্থ সাহায্য বন্ধ করারও হুমকি দিলেও অর্থ দিয়েছিল ওয়াশিংটন।

২০০২ সাল থেকে চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত পাকিস্তানকে ৩৩ হাজার কোটি ডলার দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। পাকিস্তানকে ২৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার দেয়ার বিষয়টি অনেকদিন থেকে ঝুলে রয়েছে। এর কারণ হিসেবে তারা বলছে, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের ভূমিকায় মোটেই সন্তুষ্ট নয় ওয়াশিংটন।

তাই ওই অর্থ যাতে পাকিস্তানকে না দেয়া হয় তার জন্য চাপ ক্রমশ বাড়ছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর ওয়াশিংটনের সঙ্গে ইসলামাবাদের সম্পর্ক তলানিতে এসে ঠেকেছে। পাকিস্তান এমন শক্তির নিরাপদ স্বর্গ যারা হিংসা, সন্ত্রাস এবং বিশৃঙ্খলা তৈরি করে বলে মন্তব্যও করেন ট্রাম্প।

Comments

comments