সময় ফুরিয়ে যাওয়ার আগেই আগ্রাসী নীতি পরিহার করুন: ইসরাইলকে আব্বাস

সময় ফুরিয়ে যাওয়ার আগেই ইহুদিবাদী ইসরাইলকে তার আগ্রাসী এবং বর্ণবাদ নীতির ব্যাপারে পুনরায় চিন্তা করার আহ্বান জানিয়েছেন ফিলিস্তিন প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস।

রবিবার ফিলিস্তিনি মুক্তি সংস্থা ও ফাতাহ আন্দোলন প্রতিষ্ঠার ৫৩তম বার্ষিকী পালন উপলক্ষে একটি অনুষ্ঠানে দেয়া বক্তৃতায় প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা ইসরাইলের বর্তমান নীতি মেনে নেব না। আমরা তাদের বর্ণবাদ নীতি কখনোই মেনে নেব না। কোনো মূল্য ছাড়াই তাদের দখলদারিত্ব আমরা মেনে নেব না। আমাদের জনগণ, ভূখণ্ড এবং পবিত্র স্থানগুলোর বিরুদ্ধে ইসরাইল যেভাবে তার আগ্রাসী নীতি চাপিয়ে দিচ্ছে বেশি দেরি হওয়ার আগেই তাকে এ বিষয়ে পুনরায় চিন্তা করার আহ্বান জানাচ্ছি।’

ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে অপরাধ সংগঠনের জন্য ইসরাইলের প্রতিরক্ষা বাহিনী এবং বসতি স্থাপনকারী সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর তিরস্কার করেন।

প্যালেস্টাইনের প্রয়াত নেতা ইয়াসির আরাফাতের কবরে পুষ্পমাল্য অর্পন করেন তিনি।

ইসরাইল পূর্ব বায়তুল মুকাদ্দাস শহর (পূর্ব জেরুজালেম আল কুদস) সহ জর্দান নদীর পশ্চিম তীর জোরপূর্বক দখল করে রেখেছে। পূর্ব বায়তুল মুকাদ্দাস শহরকে নিজেদের স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের ভবিষ্যত রাজধানী হিসেবেই বিবেচনা করে আসছেন ফিলিস্তিনিরা। কিন্তু ইসরাইল অবৈধভাবে এসব ভূখণ্ডে বহু ইহুদি বসতি নির্মাণ করে যাচ্ছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত বছরের জানুয়ারিতে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে অবৈধ বসতি স্থাপনের তৎপরতা বাড়িয়ে দিয়েছে ইসরাইল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচার অভিযানের সময় তেল আবিরের প্রতি সমর্থন বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত ৬ ডিসেম্বর ফিলিস্তিনের বায়তুল মুকাদ্দাসকে ইহুদিবাদী ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেন এবং তেল আবিব থেকে দূতাবাস সরিয়ে বায়তুল মুকাদ্দাসে নেয়ার ঘোষণা দেন।

এর প্রতিবাদে ফুঁসে ওঠে মুসলিম বিশ্ব। প্রতিবাদে যোগ দেয় সচেতন বিশ্ববাসী। জাতিসংঘ, আরব লীগ, ওআইসিসহ বিভিন্ন সংগঠন ও দেশ ট্রাম্পের ওই ঘোষণাকে প্রত্যাখ্যান করে।

শুক্রবার ফিলিস্তিনের গাজা ও পশ্চিম তীরে বিক্ষোভ করেন প্রায় চার হাজার ফিলিস্তিনি। এ সময় তাদেরকে বাধা দিলে ইসরাইলি সেনাদের সঙ্গে সংঘাত বেধে যায়। ইসরাইলি সেনারা তাদেরকে ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে। জবাব দিতে তাদের দিকে ইটপাটকেল, ককটেল ছোড়ে ফিলিস্তিনিরা। টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। সংঘর্ষে কমপক্ষে ৫০ জন আহত হন। এর বেশির ভাগই গাজা সীমান্ত এলাকায়।

গাজায় বিক্ষোভকারীরা আমেরিকা নিপাত যাক, ইসরইল নিপাত যাক- স্লোগান দিতে থাকে। ইসরাইলি সেনারা বলেছে, তারা মূলত টার্গেট করেছে হামাসের কতিপয় পোস্ট। তারা ইসরাইলি সেনাদের দিকে তিনটি রকেট হামলা চালায়। তার মধ্যে দুটিকে ইসরাইলি সেনারা আকাশেই ধ্বংস করে দেয়। পুলিশ বলেছে, তৃতীয় রকেটটি একটি ভবনে আঘাত করে। এতে বেশ ক্ষয়ক্ষতি হয় ওই ভবনের।

সূত্র: টাইমস অব ইসরাইল

Comments

comments