বিজয় মেলার নামে অশ্লীলতা!

ঝিনাইদহ: ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডুতে মুক্তিযোদ্ধার নামে বিজয় মেলা। কিন্তু সেখানে মুক্তিযোদ্ধাদের কোন কমিটি নেই। এদিকে মুক্তিযোদ্ধাদের নাম ভাঙ্গিয়ে মেলার অনুমতি নিয়ে সেখানে অশ্লীলতার বিষবাস্প ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। মেলার আড়ালে হরিণাকুন্ডু উপজেলা পরিষদ চত্তরের মধ্যেই চলছে জুয়া ও অশ্লিল নৃত্য। রাত বাড়ার সাথে সাথে যুবতী মেয়েদের গায়ের কাপড়ও কমতে থাকে। এক পর্যায়ে উদোম নৃত্যে বেসামাল হয় তারা। মেলার অনুমতির সময় সেখানে তিনটি সিসি ক্যামেরা ও রাত ১১টার পরে কোন অনুষ্ঠান না করার নির্দেশনা থাকলেও হরিণাকুন্ডু উপজেলার চটকাবাড়িয়া গ্রামের চিহ্নিত জুয়াড়ি বদরুদ্দীন বুদো, আসাদ, ও হাসেম সুস্থ ধারার যাত্রা বা মেলার পরিবর্তে জুয়ার আসর বসিয়ে সারা রাত ধরেই যুবতী মেয়েদের খোলামেলা কাপড়ে নাচাচ্ছেন। এ নিয়ে উঠতি বয়সি যুবকদের মাঝে চরম সামাজিক অবক্ষয় দেখা দিতে পারে বলে অভিভাবক মহল শঙ্কিত।

হরিণাকুন্ডুর আবুল হাসেম নামে এক ব্যক্তি মোবাইলে অভিযোগ করেন, তিনি পরিবার পরিজন নিয়ে মেলা দেখতে এসে ছেলে মেয়েদের সামনে বিব্রতকর অবস্থায় পড়েন। যারা মেলা দেখতে যাচ্ছেন, তাদের সবারই একই ভাষ্য বিজয় মেলার নামে যা হচ্ছে তা অচিরেই বন্ধ করা উচিৎ।

নাম প্রকাশে না করার শর্তে এক স্কুল শিক্ষক জানান, ‘হরিণাকুন্ডুর ইউএনও সাহেব পরহেজগার মানুষ। তিনি বিজয় মেলাটি উদ্বোধনের পর সেখানে যা হচ্ছে তা আমরা হরিণাকুন্ডুবাসি আশা করিনি’।

বিষয়টি নিয়ে হরিণাকুন্ডু উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সাইফুল ইসলাম জানান, আমি মেলার আয়োজকদের ডেকেছিলাম। তার আমাকে কথা দিয়েছেন সেখান আর খারাপ কিছু হবে না।

তবে এলাকাবাসীর ভাষ্য প্রতি বছর এমন মেলা মুক্তিযোদ্ধাদের আর্থিক কল্যাণে দেয়া হলেও মুক্তিযোদ্ধারা কোন উপকৃত হন না। মেলার অনুমতি নিয়ে চিহ্নিত জুয়াড়িদের কাছে ইজারা দেয়া হয়। তারা জুয়া ও নগ্ন নৃত্য চালিয়ে থাকেন।

এ ব্যাপারে হরিণাকুন্ডু থানার ওসি কে.এম শওকত হোসেনকে একাধিকবার ফোন দিলে তিনি ফোন ধরেননি।

মেলার দায়িত্বে থাকা চটকাবাড়িয়া গ্রামের বদরুদ্দীন বুদো বলেন, ‘আমরা যেখানে যা দেবার দরকার দিচ্ছি। কোন অসুবিধা হচ্ছে না’।

শীর্ষনিউজ

Comments

comments