টাকা পাচারের দায় স্বীকার করেছেন এবি ব্যাংকের ওয়াহিদুল হক

অফসোর কোম্পানি খোলার নামে বিদেশে ১৬৫ কোটি টাকা পাচারের দায় স্বীকার করেছেন এবি ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান এম ওয়াহিদুল হক।

বৃহস্পতিবার দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) জিজ্ঞাসাবাদে এই দায় স্বীকার করেন তিনি। এদিন রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে তাকে ও ব্যাংকটির সাবেক এমডি মো. ফজলুর রহমানকে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত টানা সাত ঘন্টা অভিযোগ সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

সূত্র জানায়, দুদক পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন ও সহকারী পরিচালক গুলশান আনোয়ার প্রধান জিজ্ঞাসাবাদকালে তাদের সামনে ওই পরিমাণ অর্থ পাচারের নথিপত্র তুলে ধরেন। এ সময় সাবেক ওই চেয়ারম্যান অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তাদ্বয়ের উদ্দেশ্যে বলেন, তার সময়ে এই অর্থ পাচারের ঘটনাটি ঘটেছে। একই সঙ্গে সাবেক ওই এমডিও পাচারের সত্যতা স্বীকার করেন।

জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ওয়াহিদুল হক সাংবাদিকদের জবাবে তিনি অর্থ পাচারের সঙ্গে জড়িত নন বলে জানান।

তদন্ত চলছে, এ বিষয়ে যা বলার দুদক কর্মকর্তাদেরকে বলা হয়েছে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ফজলুর রহমান বলেন, তার যা বলার দুদক কর্মকর্তাদেরকে বলেছেন।

তাদের বিরুদ্ধে দুবাইভিত্তিক কোম্পানি পিজিএফের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে সিঙ্গাপুরে অফসোর কোম্পানি প্রতিষ্ঠার নামে ২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পাচারের অভিযোগ রয়েছে।

দুদক সূত্র জানায়, একই অভিযোগে আগামী রোববার জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে সাবেক এমডি শামীম আহমেদ চৌধুরী ও ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইন্সটিটিউশন অ্যান্ড ট্রেজারি শাখার প্রধান আবু হেলা মোস্তফা কামালকে। আগামী ২ জানুয়ারি জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়েছে আরো পাঁচ কর্মকর্তাকে। তারা হলেন, ব্যাংকের হেড অব করপোরেট মাহফুজ উল ইসলাম, হেড অব অফশোর ব্যাংকিং ইউনিট (ওবিইউ) মোহাম্মদ লোকমান, ওবিইউর কর্মকর্তা মো. আরিফ নেয়াজ, ব্যাংক কোম্পানি সচিব মাহদেব সরকার সুমন ও প্রধান কার্যালয়ের কর্মকর্তা এমএন আজিম।

জানা গেছে, দুবাই ভিত্তিক কোম্পানি পিজিএফ ৮০ মিলিয়ন ও এবি ব্যাংক ২০ মিলিয়ন (১৬৫ কোটি টাকা) ডলার যৌথবাবে বিনিয়োগ করে সিঙ্গাপুরে একটি অফসোর কোম্পানি প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার কথা বলা রয়েছে ব্যাংকের নথিপত্রে। তারই ধারাবাহিকতায় এবি ব্যাংক থেকে দুবাইয়ে পিজিএফের কাছে ২০ মিলিয়ন ডলার পাঠানো হয়। পরে ওই অর্থ দুবাই থেকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়নি। অফসোর কোম্পানিও প্রতিষ্ঠা করা হয়নি।

অনুসন্ধানের সঙ্গে জড়িত দুদকের একটি সূত্র জানায়, ওয়াহিদুল হক চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকাকালে বিদেশে বিনিয়োগের নামে বিনিয়োগের নামে ১৬৫ কোটি টাকা পাচার করা হয়েছে। ব্যাংক সিদ্ধান্তে জনগণের গচ্ছিত আমানত এভাবে পাচার করতে পারেনা। এই অর্থ পাচারের সব ধরনের নথিপত্র ব্যাংক থেকে জব্দ করেছে দুদক।

বিদেশে অফসোর কোম্পানি খোলার নামে সম্প্রতি পানামা ও প্যারাডাইস কেলেঙ্কারির ঘটনা প্রকাশ পায়। এবি ব্যাংকের এই অর্থ পাচারের অভিযোগটি পানামা ও প্যারাডাইসের তালিকার বাইরের।

Comments

comments