দর্শক তো পেটালেনই, ম্যাচ রেফারিকেও হুমকি সাব্বিরের

কবে শোধরাবেন বাংলাদেশ ক্রিকেটের ব্যাটিং অলরাউন্ডার সাব্বির রহমান? মাঠে একের পর এক অখেলোয়াড়ি আচরণ দেখিয়ে জাতীয় ক্রিকেট দলে এরই মধ্যে নিজেকে ‘ব্যাডবয়’ নামে পরিচিত করেছেন এই হার্ডহিটার ব্যাটসম্যান।

সদ্য সমাপ্ত বিপিএলে আম্পায়ারকে গালি দিয়ে গুণেছেন দেড় লাখ টাকা জরিমানা। তার আগের বিপিএলে নারী কেলেঙ্কারিতে ১৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয় তাকে। এবার যা করেছেন তা আগের কুকীর্তিকে ছাপিয়েও গেছে।

মাত্রই শেষ হওয়া জাতীয় ক্রিকেট লিগে (এনসিএল) এক কিশোর দর্শককে তিনি লাঞ্ছিত করেছেন। এখানেই থামেননি এই টাইগার ‘ব্যাডবয়’। তিনি এই অন্যায় কেন করেছেন? ম্যাচ রেফারি শওকাতুর রহমান চিনু তা জানতে চাইলে তিনি তাকে হুমকি ধামকি দিতে ছাড়েননি।

ঘটনাটি ঘটিয়ে বিসিবি’র আচরণবিধির লেভেল-৪ লঙ্ঘন করেছেন ২৬ বছর বয়সী সাব্বির। এমন অপরাধে শাস্তিটা ন্যূনতম ৫ লাখ টাকা জরিমানা এবং তিন থেকে ছয় মাস ঘরোয়া ক্রিকেট থেকে বহিষ্কারাদেশ।

একইদিন তিনি ম্যাচ চলাকালীন ড্রেসিংরুমের সামনে দাঁড়িয়ে মোবাইল ফোনে কথা বলছিলেন যা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। সেই ছবি বিসিবির দুর্নীতি দমন কমিশনের এক প্রতিনিধি তার মোবাইল ফোনে ধারণ করলে তা কেড়ে নিতে তার সঙ্গে ধস্তাধস্তি করেছেন। এক পর্যায়ে তাকেও লাঞ্ছিত করেছেন সাব্বির।

প্রত্যক্ষদর্শী এক সূত্র সাব্বির রহমানের উল্লেখিত কুকীর্তিগুলো বাংলানিউজকে নিশ্চিত করেছে।

সুত্রমতে, ‘২১ ডিসেম্বর রাজশাহী শহীদ কামরুজ্জামান স্টেডিয়ামে ১৯তম জাতীয় ক্রিকেট লিগের টায়ার-২ এর শেষ রাউন্ডের দ্বিতীয় দিনের ঘটনা এটি। গ্যালারি থেকে ১০ কি ১২ বছরের একটি ছেলে সাব্বির মাঠে নামার সময় ম্যাও বলেছিল মানে বিরালের মত শব্দ করেছিল।

ওই ছেলেটাকে সাব্বির মাঠ থেকে খেয়াল করেছে। ম্যাচের এক পর্যায়ে সে অনফিল্ডের দুই আম্পায়ার গাজী আশরাফ সোহেল ও তানভির আহমেদের কাছে ১ ওভারের জন্য বাইরে যাবে বলে অনুমতি নেয়। আম্পায়ার ভেবেছিলেন হয়তো টয়লেটের জন্যই সে অনুমতি দিয়েছে। যা হোক তিনি মাঠ থেকে বের হয়ে ছেলেটাকে ‘বল বয়’কে দিয়ে ডেকে এনে স্টেডিয়ামের দক্ষিণ দিকের সাইট স্ক্রিনের পেছনে নিয়ে তার কলার ধরে চার থেকে পাঁচটি থাপ্পর মারেন।’

বিষয়টি জেনে অনফিল্ড আম্পায়ররা বের হয়ে মৌখিকভাবে তা ম্যাচ রেফারির কাছে অভিযোগ করেন।

পরের দিন ম্যানেজার আকবর আমিন ও সাব্বিরকে চায়ের দাওয়াত দেন চিনু। বিকেল ৫টার আগেই ম্যানেজারকে নিয়ে ম্যাচ রেফারির কক্ষে প্রবেশ করেন সাব্বির। ঢুকেই বেশ রাগান্বিত স্বরে বলেন আমাকে ডেকেছেন? আমার তাড়া আছে। এখনই বের হয়ে যাব।

এর মধ্যে সেখানে অনফিল্ডের দুই আম্পায়ার হাজির হন ম্যাচ রেফারি তাকে জিজ্ঞেস করতেই তিনি বললেন আপনি মাঠের বাইরে আমারটা দেখার কে? সে উল্টো চার্জ করে বলে আপনারা জাতীয় দলের প্লেয়ারদের ধরার জন্য বসে থাকেন। আপনি জানেন এ ঘটনা উপরে গেলে আপনাদের অসুবিধা হবে। এইটা নিয়ে রিপোর্ট করলে আপনাদের সবার অসুবিধা হবে। তার এমন হুমকি ধামকি দেখে আম্পায়াররা স্তম্ভিত।

বৃহস্পতিবার (২৮ ডিসেম্বর) মিরপুরে বিষয়টিকে সম্পূর্ণ অস্বীকার করে সাব্বির বলেছেন, ‘আমি কিছু জানি না। আগামীকাল আপনাদের জানাতে পারবো।’

বিষয়টি একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান কোচ খালেদ মাহমুদ সুজন বলেছেন, ‘জাতীয় দলের প্লেয়ারের কাছ থেকে এধরণের আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়। এ বিষয়ে ম্যাচ রেফারির রিপোর্ট এসেছে। সাব্বিরেরও বলার কিছু আছে হয়তোবা। যাই হয়েছে আমি মনে করি জাতীয় দলের প্লেয়ার হয়ে কারো গায়ে হাত দেয়া ঠিক না। অনেকেই তার মতো হতে চায়। তাকে দেখে মানুষ দেখবে শিখবে। সে এমন কাণ্ড ঘটালে বিষয়টি সত্যিই আপত্তিজনক।’

Comments

comments