কাতারে সেনা অভ্যূত্থান পরিকল্পনা রুখে দিল তুরস্ক

Qatari Crown Prince Sheikh Tamim bin Hamad bin Khalifa al-Thani (R) and Turkish President Recep Tayyip Erdogan (2ndL), walk past a guard of honor during an official welcoming ceremony prior to their meeting at the presidential palace in Ankara, Turkey, on December 19, 2014. AFP PHOTO / ADEM ALTAN (Photo credit should read ADEM ALTAN/AFP/Getty Images)

সাইদুর রহমান : কাতারের সাথে সৌদি জোটের আদর্শিক মতপার্থক্য শুরু হওয়ার পর থেকে দেশটির উপর অবরোধ এবং হস্তক্ষেপ করার পায়তারা চলছিল। শেষ পর্যন্ত সেনা অভ্যূত্থান ঘটানোর পরিকল্পনা নেয়া হয়। অভ্যূত্থানের পরিকল্পনা হিসেবে কাতারের বর্তমান শাসক আমির শেখ তামিম হটিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সৌদি-আমিরাত। তামিমের পরিবর্তে লন্ডনে অবস্থারত তামিমের ভ্রাতুষপুত্রকে বেছে নেয়া হয় নতুন আমির নিযুক্ত করার জন্য। যে আমির সৌদিপন্থি বলে পরিচিত।

অভ্যূত্থানরাতে কাতারে অবস্থানরত তুরস্কের প্রসিদ্ধ লেখক ইয়েনি সাফাকের বিশিষ্ট সাংবাদিক মুহাম্মাদ আসিদ কাতারে সেনা অভ্যূত্থান নিয়ে একটি গ্রন্থ রচনা করেন। বইটির নাম দেন কাতারে সেনা অভ্যূত্থান ব্যর্থ করতে তুরস্কের ভূমিকা।

বইয়ে মুহাম্মাদ আসাদ লেখেন, সৌদি জোটের অবরোধ ঘোষণার পরবর্তী কয়েক ঘন্টায় কাতারে সেনা অভ্যূত্থান পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেয় সৌদি-আমিরাত। আকস্মিক হামলা চালানোর জন্য কাতারের প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাহরাইন সীমান্তে আমিরাতের নৌবাহিনী এবং পদাতিক বাহিনী ক্যাম্প বসায়।

আমিরাতের বাহিনী কাতারের নৌবন্দর এবং হামাদ বিমানবন্দর দখলে নেয়ার পরিকল্পনা নেয়। স্থল অভিযানের দায়িত্ব সৌদির হাতে দেয়া হয়। পাশাপাশি নির্দেশনা জারি করা হয়, অন্য কোন রাষ্ট্রের সেনাবাহিনী যেন কাতারে আসতে না দেয়া হয়। এবং কাতারের আমিরের বাসভবনের কাছে যেন কোন সেনাপক্ষ অবস্থান না নেয়।

কিন্তু এসব পরিকল্পনা তখন ভেস্তে যায় যখন তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোগান গোয়েন্দাসূত্রে এসব তথ্য জানতে পারেন। তড়িঘড়ি করে প্রেসিডেন্ট এরদোগান তুর্কি পার্লামেন্টে কাতারে সেনাঘাঁটি স্থাপনের অনুমোদন চান। অবরোধ ঘোষণার দিনেই (কাতারে তখন রাত) তুর্কি পার্লামেন্ট কাতারে সেনাঘাঁটি স্থাপনের অনুমোদন দেয়। ফলে দ্রুতই এরদোগান কাতারে চৌকশ তুর্কি সেনাদল পাঠিয়ে দেন।

এরদোগানের নিদের্শ পেয়ে পরের দিন তুর্কি সেনাদল কাতারের অভ্যন্তরে সশস্ত্র মহড়া শুরু করে। ট্যাংক বহর নিয়ে কাতারের অলিগলিতে বিচরণ শুরু করে। এতেই ভেস্তে যায় সৌদি জোটের মহাপ্লান।

তুরস্কের এমন পদক্ষেপে ক্ষুব্ধ হয় সৌদি-আমিরাত। কিন্তু সৌদি জোটের করার কিছু ছিল না ক্ষুব্ধতা প্রকাশ করা ছাড়া।

তুর্কি লেখক মুহাম্মাদ আসিদ জানান, তুরস্ক যদি সঠিক সময়ে উপযুক্ত সিদ্ধান্ত না নিতেন এবং কাতারে সেনা না পাঠাতেন তাহলে মধ্যপ্রাচ্যের অবস্থা এখন অন্যরকম হতো।

সৌদিজোট ভালেকরেই জানে, কাতারে তুরস্কের উপস্থিতি তাদের যেকোন সেনা অভ্যূত্থান প্রচেষ্টা ব্যর্থতায় পর্যবেসিত হবে।

সূত্র : ইয়েনি সাফাক

Comments

comments