সীতাকুণ্ডে নিজ ঘরে খুন নওমুসলিম সাইফুল ইসলাম

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের মুরাদপুরে মো. সাইফুল ইসলাম (৪৫) নামের এক ব্যক্তির অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল সোমবার লাশটি উদ্ধার করে হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।

ধর্মান্তরিত সেলুনকর্মী সাইফুলের মাথায় আঘাতের চিহ্ন ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা দেখে পুলিশের ধারণা, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।এদিকে ঘটনার পর সাইফুলের শ্বশুরবাড়ি থেকে স্ত্রী-পুত্রদের খবর দিয়ে থানায় আনা হলেও তারা মামলা করতে অস্বীকৃতি জানায়। এতে ঘটনায় তাদের জড়িত থাকার সন্দেহ উড়িয়ে দিচ্ছে না পুলিশ।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল সকাল ১০টার দিকে মুরাদপুর ইউনিয়নের পূর্ব মুরাদপুর পেশকারপাড়া এলাকার বাসিন্দা স্থানীয় একটি সেলুনের কর্মী সাইফুল ইসলামের ঘর থেকে দুর্গন্ধ বের হতে থাকলে এলাকাবাসীর সন্দেহ হয়।

তারা বিষয়টি স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মেম্বারকে জানালে চেয়ারম্যান পুলিশে খবর দেন। সীতাকুণ্ড থানার ওসি (অপারেশন) মো. আবদুল হালিম এসআই এমদাদুলসহ ফোর্স নিয়ে সেখানে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে মর্গে পাঠান। ঘটনার সময় সাইফুলের স্ত্রী নাজমা ও তাঁর চার ছেলে-মেয়ের কেউই বাড়িতে ছিল না। এলাকাবাসী জানায়, সাইফুল স্থানীয় নন। তিনি অন্য এলাকা থেকে বেশ কয়েক বছর আগে এখানে এসে বসবাস শুরু করেন।তাঁর বড় ছেলের বয়স ১৮, ছোট ছেলের বয়স দেড় বছর। দুই মেয়েও রয়েছে তাঁর। কয়েক ধরে তাদের কাউকেই বাড়িতে দেখা যাচ্ছিল না। সাইফুলের লাশ দেখে এটি বেশ কয়েক দিন আগের বলে ধারণা করা হচ্ছে। এত দিনেও তাঁর কোনো স্বজন কেন বাড়িতে আসেনি বা তাঁর খোঁজ নেয়নি বিষয়টি রহস্যজনক বলে দাবি স্থানীয়দের।

মুরাদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জাহেদ হোসেন বাবু বলেন, ‘সাইফুল হিন্দু ধর্মাবলম্বী ছিলেন। পরে মুসলিম হয়ে নাজমাকে বিয়ে করেন। কিছুদিন ধরে নাজমার সঙ্গে সাইফুলের বিরোধ চলছিল বলে শুনেছি। যেভাবে লাশটি পড়েছিল তাতে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে বলে মনে হয়। ’ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী ওসি (অপারেশন) আবদুল হালিম বলেন, ‘লাশটি যে ঘরে পড়েছিল সে ঘরের দরজায় তালা দেওয়া। লাশের মাথায় আঘাতের চিহ্ন ছিল। এ থেকে ধারণা করা হচ্ছে, এটি পরিকল্পিত হত্যা। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এলে এ বিষয়ে স্পষ্ট হওয়া যাবে। ’ওসি বলেন, ‘নিহত সাইফুল ২০ বছর আগে হিন্দু ধর্ম ছেড়ে মুসলিম হয়েছিলেন। তাই পরিবারের সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পর্ক নেই। অন্যদিকে ঘটনার সময় তাঁর স্ত্রী-সন্তানরা ঘরে ছিল না। আমরা লাশ উদ্ধারের পর তাদের খবর দিয়ে থানায় আনলেও তারা মামলা করতে রাজি হয়নি। ঘটনায় তারা জড়িত কি না, তাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Comments

comments