কারা তুলে নিল তিন কিশোর-তরুণকে

রাজধানীর মহাখালীর ওয়্যারলেস গেট এলাকা থেকে এক কিশোরসহ তিনজনকে ‘তুলে নিয়ে’ যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে মাইক্রোবাসে উঠিয়ে নেওয়ার পর থেকে তারা নিখোঁজ রয়েছেন। ২৪ ঘণ্টা পার হলেও কেউ মুক্তিপণ চেয়ে পরিবারকে ফোন দেয়নি। নিখোঁজরা হলেন- আবু হানিফ (১৪), নাসির (২১) ও রাসেল গাজী (২০)। ঘটনার পর থানা পুলিশ ও ডিবির কাছে খোঁজ করেও তাদের সন্ধান না পাওয়ায় আতঙ্কে রয়েছেন স্বজনরা। পরস্পরের পরিচিত এই তিনজনকে কেন বা কারা তুলে নিয়ে গেছে তার কিছুই জানা যায়নি। জাহিদ নামে আরও এক তরুণকে একইভাবে তুলে নেওয়ার কথা জানা গেলেও তার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

নিখোঁজদের স্বজন জানিয়েছেন, নিখোঁজ নাসির টঙ্গীর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএর ছাত্র। তার বাসা গাজীপুরের মীরেরবাজার এলাকায়। তার বাবা মুনসুর মিয়া প্লাস্টিক সামগ্রীর ব্যবসায়ী। হানিফ চা দোকানি এবং রাসেল একটি কোম্পানির নিরাপত্তা কর্মী। তারা দু’জনেই মহাখালীর কড়াইল বস্তিতে পরিবারের সঙ্গে থাকত। হানিফের বাবা আবদুর রাজ্জাক কাঠমিস্ত্রি ও রাসেলের বাবা ফোরকান গাজী গাড়িচালক।

থানা পুলিশ ও ডিবি জানিয়েছে, তাদের আটক করা হয়নি। সে ক্ষেত্রে কারা তিনজনকে তুলে নিয়ে গেছে তা নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। অপহরণকারীচক্র হলে মুক্তিপণ দাবি করার কথা। কিন্তু গতকাল সোমবার রাত পর্যন্ত এ ধরনের কোনো ফোন পাননি স্বজনরা।

স্বজনরা জানান, রোববার সকাল ৯টার দিকে জাহিদ নামে তার এক বন্ধু নাসিরকে ফোন করে মহাখালী আসতে বলে। বিকেল ৪টার দিকে নাসির মহাখালীর উদ্দেশে গাজীপুর থেকে রওনা দেন। এরপর থেকেই তার ফোন বন্ধ এবং বাসায় ফেরেননি। রাত সাড়ে ৮টার দিকে কড়াইলের ফেরদৌস নামে এক যুবক আবু হানিফকে ফোন দিয়ে ওয়্যারলেস গেটে আসতে বলে। সে না যাওয়ায় রাত ১০টার দিকে তাকে ফোন দেয় রাসেল। এরপরই হানিফ সেখানে যায়। যাওয়ার পরপরই সেখানে আগে থেকে দাঁড়িয়ে থাকা একটি মাইক্রোবাসে তাকে জোর করে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।

ওয়্যারলেস গেট এলাকার যমুনা ব্যাংকের নিরাপত্তা কর্মী আল আমিন ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী। তিনি সমকালকে বলেন, রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে একটি সাদা রঙের হাইয়েস মাইক্রোবাস ওই ব্যাংকের বিপরীতে রাস্তায় দাঁড়িয়েছিল। গাড়ির ভেতরে কয়েকজনকে বসে থাকতে দেখেন তিনি। এ সময় দুই ব্যক্তি দু’পাশে হানিফকে ধরে জোর করে গাড়িতে তোলে। হানিফ তার পূর্বপরিচিত। এভাবে জোর করে গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়ায় তার সন্দেহ হয়। সঙ্গে সঙ্গে হানিফের প্রতিবেশী বশিরকে মোবাইল ফোনে বিষয়টি জানান তিনি। এরপরই হানিফের পরিবার বিষয়টি জানতে পারে। পাশের বাসার রাসেলও সেই থেকে নিখোঁজ।

গাড়িটি টিবি গেটের সামনে থেকে মোড় নিয়ে মহাখালীর দিকে চলে যায় বলে জানান ওই নিরাপত্তা কর্মী। স্বজনরা বলছেন, নাসির, রাসেল ও হানিফকে মোবাইল ফোনে বাসা থেকে ডেকে নেওয়ার পরই তাদের সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। ওই মাইক্রোবাসে হানিফের সঙ্গে রাসেল এবং নাসিরকেও নিয়ে যাওয়া হতে পারে। তবে কারা বা কেন তাদের নিয়ে গেছে সে ব্যাপারে অন্ধকারে স্বজনরা। কারণ তাদের তুলে নিয়ে যাওয়ার পর মুক্তিপণ দাবি করা হয়নি। বনানী থানা ও ডিবির কাছে গিয়েও তাদের সন্ধান মেলেনি। হানিফের মা সাথী বেগম বলেন, তারা হতদরিদ্র। বস্তিতে তার ছেলের চা দোকান রয়েছে। রোববার হানিফ অসুস্থ ছিল। সেই অবস্থায় তাকে ডেকে নিয়ে মাইক্রোবাসে করে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী আল আমিন না দেখলে তারা জানতেও পারতেন না কীভাবে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, পুলিশ ও ডিবির কাছে খোঁজ নেওয়া হয়েছে। তারা আটক করেনি বলে জানিয়েছে। মুক্তিপণ চেয়েও কেউ ফোন দেয়নি।

রাসেলের মা রিনা বেগম বলেন, হানিফ ও তাদের বাসা পাশাপাশি। তাদের কোনো শত্রুতাও নেই। মোবাইল ফোনে ডেকে নেওয়ার পরই তারা নিখোঁজ হয়ে যায়। তার মোবাইল ফোন নম্বরও বন্ধ রয়েছে।

Comments

comments