ডিএনসিসিতে ব্যবসায়ী নেতা আতিকই আওয়ামী লীগের প্রার্থী

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র পদে উপনির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ে প্রাথমিকভাবে আতিকুল ইসলামকেই প্রার্থী করা হচ্ছে। পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সাবেক এই সভাপতিকে এ বিষয়ে সবুজসংকেতও দেয়া হয়েছে।

আওয়ামী লীগের উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।

২০১৫ সালের সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আনিসুল হক ৪ লাখ ৬০ হাজার ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন। গেলো ৩০ নভেম্বর লন্ডনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মেয়র আনিসুল হক মারা যান। এরপর ৪ ডিসেম্বর মেয়রের পদ শূন্য ঘোষণা করা হয়। এর ফলে ৯০ দিনের মধ্যে আরেকটি নির্বাচন অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়েছে।

গেলো শনিবার গণভবনে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর বৈঠকে ডিএনসিসি নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে সম্ভব্য প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে দলীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে। যেসব প্রার্থীদের কথা আলোচনা হয়েছে তাদের মধ্যে বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি আতিকুল ইসলাম ও আরেক সাবেক সভাপতি এ কে আজাদ, ব্যবসায়ী আবদুস সালাম মুর্শেদী, আওয়ামী লীগের ঢাকা উত্তর কমিটির সভাপতি ও ব্যবসায়ী এ কে এম রহমত উল্লাহ, চিত্রনায়িকা সারাহ বেগম কবরী, আওয়ামী লীগের ঢাকা উত্তর কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান, সাবেক সাংসদ এইচ বি এম ইকবাল প্রমুখ।

তখন দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা বলেন, প্রকৃত আগ্রহী কে সেটা আগে জানা দরকার। আর কাকে প্রার্থী করলে জয়ী হওয়া যাবে—এটাও গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়ে জরিপও চালানো হচ্ছে।

সূত্র জানায়, এ সময় প্রধানমন্ত্রী আতিকুল ইসলামকে নিয়ে এগোনো যায় কি না- তা জানতেও চেয়েছেন। এ বিষয়ে সুস্পষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত না হলেও দলীয় সূত্রগুলো একে সবুজ সংকেত হিসেবেই মনে করছেন।

আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, নির্বাচন নিয়ে আইনি জটিলতা থাকলেও ডিএনসিসিতে ভোট হবে ধরে নিয়েই প্রস্তুতি শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আওয়ামী লীগ। এ ক্ষেত্রে প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ এগিয়ে রাখতে চায় দলটি। আতিকুল ইসলাম ব্যবসায়ী নেতা হলেও রাজনৈতিক পরিচিতি তাঁর নেই। এখন থেকেই দলীয়ভাবে তাঁকে পরিচিত করে তোলার বিষয়ে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে হাইকমান্ড থেকে।

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সদস্য ফারুক খান প্রথম আলোকে বলেন, রাজনীতিক, ব্যবসায়ী রাজনীতিক ও নাগরিক সমাজ-সব শ্রেণির প্রার্থীই আছে। প্রার্থী বাছাইয়ের প্রাথমিক কাজ শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা করলে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হবে।

ফারুক খান বলেন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় মেয়র পদ শূন্য ঘোষণা করেছে। এখন নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা করবে। আইনি জটিলতার ব্যাপারে তো আওয়ামী লীগের কিছু করার নেই। দল হিসেবে তাদের কাজ হচ্ছে প্রস্তুতি নেওয়া। সেটাই তাঁরা শুরু করেছেন।

এ বিষয়ে বিজিএমইএ’র সাবেক এই সভাপতি বলেন, হাই কমান্ড থেকে সিগন্যাল পেয়েই গণসংযোগ শুরু করেছি। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নাম ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছি। রোববার থেকে গণসংযোগ শুরু করেছি। ইতোমধ্যে ঢাকা উত্তরের ৮ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে চারজনের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছে। বাকি সংসদ সদস্যসহ কমিশনার ও আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবো।

তিনি বলেন, আনিসুল হকের অসমাপ্ত কাজগুলো সমাপ্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনকে সুন্দর, আধুনিক বাসযোগ্য নগরী গড়তে কাজ করবো।

Comments

comments