শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের সহনীয় মাত্রায় ঘুষ খাওয়ার পরামর্শ শিক্ষামন্ত্রীর (ভিডিও)

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরে কর্মরত বি সি এস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের সহনীয় মাত্রায় ঘুষ নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। শিক্ষাভবনের ২য় ব্লকে অবস্থিত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের (ডিআইএ) এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, শুধু কর্মকর্তা-কর্মচারীরাই নয় মন্ত্রীরাও দুর্নীতি করেন। তাই ঘুষ না নিতে বলার সাহস তাঁর নেই। মন্ত্রী বলেন, ‘বাঘে ছুঁলে ১৮ ঘা, ডিআইএ ছুঁলে ৩৬ ঘা।’

প্রসঙ্গত, পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক থেকে শুরু করে সহকারি শিক্ষা পরিদর্শক সবগুলো পদেই বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তারা প্রেষণে নিয়োগ পান। এই দপ্তরে পদায়নের জন্য শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তারা লাখ লাখ টাকা ঘুষ দেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কলেজ শাখায়–এমন কথা সবার মুখে মুখে।

রোবরার (২৪ ডিসেম্বর) নিরীক্ষা অধিদপ্তরে ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থার ওপর এক প্রশিক্ষণের সমাপনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন শিক্ষামন্ত্রী। প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের মাঝে বিতরণ করেন ল্যাপটপ ও সনদ।

এরপর প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী অভিযোগ করেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের পর ঘুষের বিনিময়ে প্রতিবেদন দেয় অধিদপ্তরের লোকজন। তিনি বলেন, স্কুল পরিদর্শনে গেলে খাম রেডি করাই থাকে। উনারা যেয়ে খেয়ে দেয়ে খাম নিয়ে এসে রিপোর্ট দেন।

মন্ত্রী বলেন.’ আপনাদের অনুরোধ করেছি, আপনারা ঘুষ খান, কিন্তু সহনীয় হয়ে খান। কেননা আমার সাহসই নেই বলার যে, ঘুষ খাবেন না। তা অর্থহীন হবে।

ঘুষের ব্যাপকতা কতোটা ছড়িয়েছে তাও জানালেন শিক্ষামন্ত্রী, ‘ নানা জায়গাই এমন হইছে, সব জায়গাই এমন হইছে। খালি যে অফিসাররা চোর তা না, মন্ত্রীরাও চোর। আমিও চোর। এ জগতে এমনই চলে আসছে। এ অবস্থার পরিবর্তন করতে হবে।’

বর্তমান সরকারের আমলে দুর্নীতি কমেছে দাবি করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন সব কার্যক্রম ডিজিটাল হলে তা আরো কমে আসবে।

একই অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. এস এম ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, ডিআইএ কর্মকর্তাদেরকে ঘুষ না দিলে কোনাও কাজ করানো যায় না। তারা একবার শিক্ষকদের জাল সনদ ধরে আরেকবার ছাড়ে।

Comments

comments