ক্রমবর্ধমান যানজটে বসবাসের অনুপযোগী ঢাকা

ছবি: ইত্তেফাক

ক্রমবর্ধমান যানজটে বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে রাজধানী ঢাকা। ধারণ ক্ষমতার চেয়ে বেশি গাড়ি চলাচলে যাত্রীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকতে হয়। বিআরটিএ সিটি করপোরেশন ও ট্রাফিক পুলিশের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় যানজট নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব বলে মনে করে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ। অন্যদিকে ব্যক্তিগত যানকে নিরুৎসাহিত করে আধুনিক গণপরিবহন বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

যানজটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার এই চিত্র রাজধানীবাসীর প্রতিদিনের ক্লান্তিকর অভিজ্ঞতার অংশ। সকালে অফিস শুরু কিংবা বিকেলে অফিস শেষ থেকে মধ্যরাত অবধি এই ভোগান্তির কাছে অসহায় নগরবাসী। আদর্শ শহরের ২৫ ভাগের স্থলে নির্মিত মাত্র ৭ ভাগ সড়কে দেড় কোটি নাগরিকের রাজধানী দিনের অনেকটা সময় যানজটে স্থবির হয়ে থাকে।

বাঁশের প্রতিবন্ধকতা, ইউটার্ন বন্ধ, দড়ি টেনেও নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছেনা গাড়ির চাপ। মুমূর্ষু রোগী নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সও দাঁড়িয়ে থাকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। নতুন নির্মিত ফ্লাইওভারও যানজট কমাতে পারেনি বলে অভিমত নগরবাসীর।

ট্রাফিক পুলিশ বলছে, রাজধানীতে প্রতিদিন ৩০০ কোম্পানি ৮ থেকে ১০ হাজার গণপরিবহন চলে। রয়েছে ব্যক্তিগত গাড়িও। এসব নিয়ন্ত্রণে আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার কাজ চলছে বলে জানান ডিএমপি ট্রাফিক দক্ষিণের যুগ্ম কমিশনার মফিজ উদ্দিন আহমেদ।

বিশেষায়িত বাস ও গণপরিবহন বাড়িয়ে যানজট নিয়ন্ত্রণ সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. শামসুল হক বলেন, ‘সম্প্রসারণ নীতিতে না গিয়ে আমার যে তিনটা প্রাইমারী লেভেল আছে তাতে ফ্লাইওভার আরো অনেক অনেক প্রকল্পগুলো যানজট কমানো যাবেনা। আরো বেড়ে যাবে।

যানজটের রাজধানীতে গত কয়েক বছর ধরে কয়েকটা ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হলেও পরিস্থিতি দিনদিন ভয়াবহ হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। সরকারি বেসরকারি হিসাব বলছে প্রতিদিন চাকরি সন্ধানে ঢাকামুখী হচ্ছে ২ হাজার মানুষ। আর সেই সাথে গাড়ি বাছে প্রায় ৩শটি করে। এ অবস্থায় যানজট নিরসনে কোনো উদ্যোগই সফল হচ্ছে না। তাই বিশেষজ্ঞরা বলছে যানজট নিরসনে প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের কোনো বিকল্প নেই।

Comments

comments