এবার ভিন্ন পথে মাহমুদ আব্বাসকে বশে আনার চেষ্টা সৌদি যুবরাজের!

ফিলিস্তিনি নেতা মাহমুদ আব্বাসকে ট্রাম্পের জেরুজালেম নীতির পক্ষে আনতে নভেম্বরে হুমকির পথ বেছে নিয়েছিলেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। সে সময় মধ্যপ্রাচ্য পর্যবেক্ষণে নিয়োজিত সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট মনিটর খবর দিয়েছিল; ট্রাম্পের জেরুজালেম নীতির পক্ষে না আসলে আব্বাসকে ক্ষমতা ছাড়তে হবে বলে হুমকি দিয়েছিলেন বিন সালমান। শনিবার মধ্যপ্রাচ্যের সংবাদবিষয়ক আরেক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই খবর দিয়েছে, আব্বাসকে বশে আনতে এবার ‘নরম কূটনীতি’র আশ্রয় নিয়েছেন সৌদি যুবরাজ। তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেছেন একমাত্র যুক্তরাষ্ট্রই পারে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি স্থাপন করতে। সেই কথাটা বিবেচনায় নিয়ে আব্বাস যেন ট্রাম্পকে সমর্থন দেন এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সের মধ্যপ্রাচ্য সফরকে স্বাগত জানান। একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে ওই সংবাদ এসব কথা জানিয়েছে।

চলতি বছরের নভেম্বরে মিডল ইস্ট মনিটর তাদের এক প্রতিবেদনে জানায়, মাহমুদ আব্বাসকে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রস্তাবিত ‘শান্তি নীতি’র পক্ষে ভূমিকা নেওয়ার তাগিদ দিয়েছিলেন মোহাম্মদ বিন সালমান। তা করতে ব্যর্থ হলে আব্বাসকে ক্ষমতা থেকে সরে যেতে বলেছিলেন তিনি। ওই খবর অনুযায়ী, জায়নবাদের সমর্থক ও ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে মোহাম্মদ বিন সালমানের বৈঠকের একদিনের মাথায় ফিলিস্তিনি নেতা মাহমুদ আব্বাসকে রিয়াদে ডেকে পাঠানো হয়। সৌদি সফরে আসার পর কুশনার-যুবরাজের একটি পরিকল্পনা আব্বাসের সামনে তুলে ধরা হয়। তবে সেই পরিকল্পনায় নিজের অংশগ্রহণের ব্যাপারে নীরব ছিলেন আব্বাস। এদিকে চলতি মাসের শুরুর দিকে ট্রাম্প জেরুজালেমকে ইসরায়েলি রাজধানীর আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিলে নিন্দার ঝড় ওঠে সারাবিশ্বে । পাল্টা প্রতিক্রিয়ার অংশ হিসেবে মুসলিম দেশগুলোর সবচেয়ে বড় জোট ওআইসি এক জরুরি বৈঠকে বসে পূর্ব জেরুজালেমকে ফিলিস্তিনের রাজধানী স্বীকৃতি দেয়। এই বৈঠকের সিদধান্তের ধারাবাহিকতায় আবারও আব্বাসের সঙ্গে মোহাম্মদ বিন সালমানের আলোচনা হয়।

মিডল ইস্ট আই জানিয়েছে, মঙ্গলবার বাদশা সালমান ও যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের আমন্ত্রণে সৌদি রাজধানী রিয়াদে গিয়েছিলেন আব্বাস। সেখানে বিন সালমান তাকে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রই একমাত্র শক্তি যারা শান্তি প্রক্রিয়ার গতি আনতে পারে। ওআইসির সাম্প্রতিক সম্মেলনে আব্বাস ঘোষণা দিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রকে শান্তিপ্রক্রিয়ার মধ্যস্থতাকারী হিসেবে আর চায় না ফিলিস্তিন। তবে ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্টকে বিন সালমান আব্বাসকে বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র একমাত্র দেশ যারা ইসরায়েলকে প্রভাবিত করতে পারে। শান্তিপ্রক্রিয়া মানতে আর কোনও দেশই ইসরায়েলকে চাপ দিতে পারবে না। রাশিয়াও না, চীনও না।‘

আব্বাসকে নভেম্বরে হুমকি দেওয়ার পর এবার সৌদি যুবরাজের ভিন্ন অবস্থান নেওয়াকে ‘নরম কূটনীতি’ আখ্যা দিয়েছে মিডল ইস্ট আই। ১৯৮০ দশকের শেষদিকে ‘সফট পাওয়ার’ নামে একটি তত্ত্ব দেন। ‘সফট পাওয়ার’ বলতে বুঝায় একটি দেশ আরেকটি দেশকে কোনোপ্রকার চাপ প্রয়োগ না করেই কিভাবে প্রভাবিত করতে পারে। কিন্তু এখন এই রীতিটি খুবই বিতর্কিত। বৈদেশিক নীতিতে এটা নিয়ে অনেক আলোচনা-সমালোচনা রয়েছে।

Comments

comments