ভূমিদস্যুদের কাছে জিম্মি রূপগঞ্জের মানুষ, অসহায় প্রসাশনও

আবাসন প্রকল্পের নামে ঢাকার আশপাশের হাজার হাজার একর জমি দখল করছে ভূমি দস্যুরা। বালু ভরাটের কারণে কৃষিজমির পাশাপাশি ধ্বংস হচ্ছে খাল-বিলসহ অসংখ্য জলাধার। নগরবিদরা বলছেন, দখলদারদের রুখতে সরকারকে ড্রেজার মেশিনের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। তবে দখলদারদের সামনে নিজেদের অসহায় দাবি করে গণপূর্ত মন্ত্রণালয় বলছে, টাস্কফোর্স করলে কমে আসবে দখল বাণিজ্য।

এ যেন সাইনবোর্ডের হাট। দৃষ্টি সীমা যতদূর যায় শুধু সাইনবোর্ড আর সাইনবোর্ড।

রাজধানীর পাশে রুপগঞ্জের বেলাবো, ভুলতা ও কাঞ্চন এলাকায় অবৈধভাবে জমি দখল করতে নামে বেনামে এসব সাইনবোর্ড ব্যবহার করছে বিভিন্ন আবাসন কোম্পানি। স্থানীয়দের দাবি, পূর্বাচলের পাশে হওয়ায় জোর করে তাদের জমিতে সাইনবোর্ড লাগিয়ে এ এলাকার হাজার হাজার একর জমিতে বালু ভরাট করছে দখলদাররা।

গ্রামবাসীর দাবি, প্রশাসন থেকে শুরু করে রাজনৈতিক নেতা, সবাই জড়িত এসব কৃষিজমি ও খাল- বিল দখল করা আবাসন প্রকল্পের সঙ্গে।

এক স্থানীয়র দাবী, ‘এই জায়গাটুকুর মধ্যে আমার সাড়ে তিন হাজার একর জমি আছে। পুরোপুরি ভৈরে ফেলেছে। জায়গার কোনোটাই কিনে নাই। যত সাইনবোর্ড দেখা যায়, সব ভাড়াটিয়া সাইনবোর্ড।’

আরেক স্থানীয় বলেন, ‘তারা বলে ভাড়া দেয়ার জন্য। আমরা তো ভাড়া দেব না। আমাদের বাপের সম্পত্তি, আমরা ভাড়া দেব কেন?’

‘বর্তমানে যে জায়গাটা বালু দিয়ে ভরাট করা হয়েছে, এই জায়গাটা আমাদের। এখানে এক শতাংশ জায়গাও ওরা ক্রয় করে নাই।’

‘জমিনের ফসল হলে নাতিপুতি কিছু করে খেত। এখন তো নাই কিছু। সব ভরে ফেলেছে।’

কিছু দখলদারদের বিরুদ্ধে জোর-জবরদোস্তি চালিয়ে স্থানীয়দের জমি দখলের অভিযোগও উঠেছে।

‘আমাদেরকে বলে সব ভরে ফেলবো, এটাই কোম্পানির অর্ডার। আমাদেরকে বলে সরে যেতে।’

‘লাঠিয়াল বাহিনী আছে, আমরা যদি ক্ষেতের কাছে যেতে চাই, তারা বলে যে আসবি না। হয় বিক্রি কর, নাহলে আমরা জোর করে নিয়ে নিব।’

গ্রামবাসীর দাবি, প্রসাশন থেকে শুরু করে রাজনৈতিক নেতা- সবাই জড়িত এসব কৃষি জমি ও খালবিল দখল করা আবাসন প্রকল্পের সঙ্গে।

‘যতো বিল, খাল পর্যন্ত ভরে ফেলেছে। কৃষিজমি সব ধ্বংস করে দিয়েছে আমাদের। আমরা এখন কী খেয়ে বাঁচবো? এটার পেছনে আছে, দেশের সবচেয়ে বড়বড় নেতারা, উচ্চ পদস্থ কর্মীরা, আমাদের এমপিরা।’

নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, আইনি ব্যবস্থার পাশাপাশি রাজনৈতিক কঠোর সিদ্ধান্ত ছাড়া দেশজুড়ে চলা এ দখলবাণিজ্য বন্ধ করা সম্ভব নয়।

স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন বলেন, ‘এই ড্রেজার ব্যবহার কন্ট্রোল করতে হবে। অননুমোদিত সাইনবোর্ড যে দেবে, তাকে জেলখানায় নেয়ার একটা আইন পাস করলেই হয়।’

রাজউক বলছে, তাদের নকশায় না থাকা সত্ত্বেও ঢাকার আশপাশের এসব আবাসন প্রকল্প লোকবলের অভাবে তারা নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। অসহায়ত্ব প্রকাশ করলেন গণপূর্ত মন্ত্রীও।

ড্যাপ-এর প্রকল্প পরিচালক আশরাফুল ইসলাম বলেছেন, ‘শীতলক্ষার ওইপারে একটি প্রকল্পও রাজউক অনুমোদিত নয়।’

গণপূর্ত ও গৃহায়ণ মন্ত্রী বলেন ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘সরকারের উচিৎ একটা টাস্কফোর্স করা। বিশেষ করে এটার জন্য। নিম্নাঞ্চল না ভরাট করার জন্য আইন আছে। কিন্তু আইন প্রয়োগ করা হচ্ছে কি না, দেখবে কে? আমরা তো শুধু নোটিশ দিতে পারি। আমাদের কাছে তো রাইফেল নাই। মামলা করলে স্টে হয়ে যায়। মানীয় আদলত বসে আছে স্টে করার জন্য।’

Comments

comments