ট্রাম্পের হুমকি গণতন্ত্রের অবমাননা: ইরান

ইরান বলেছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জেরুজালেম ইস্যুতে বিশ্বের স্বাধীন দেশগুলোকে হুমকি দিয়ে গণতন্ত্রের অবমাননা করেছেন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের আসন্ন বৈঠকে যেসব দেশ ট্রাম্পের বিতর্কিত ঘোষণার বিপক্ষে ভোট দেবে সেসব দেশকে সাহায্য দেয়া বন্ধ করে দেয়ার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

ট্রাম্পের ওই হুমকির প্রতিক্রিয়ায় বুধবার রাতে এক টুইট বার্তায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মাদ জাওয়াদ জারিফ বলেন, “যারা জাতিসংঘে ট্রাম্প সরকারের হিংস্র দাবির বিরুদ্ধে ভোট দেবে তাদেরকে হুমকি দিয়ে মার্কিন সরকার গণতন্ত্রের অবমাননা করেছে।”

এর আগে বুধবারই ট্রাম্প হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, তার জেরুজালেম বিষয়ক সাম্প্রতিক ঘোষণার বিরোধিতা করে আনা প্রস্তাবের পক্ষে যেসব দেশ ভোট দেবে তাদের প্রতি অর্থনৈতিক সহায়তা বন্ধ করে দেবে ওয়াশিংটন।

জারিফ তার বার্তায় আরো বলেন, “ট্রাম্প নির্দয়ভাবে ইরানকে একনায়কতান্ত্রিক দেশ বলে অভিযুক্ত করেছেন। কিন্তু তিনি মুখে গণতন্ত্রের যে দাবি করেন বাস্তবে তার অর্থ হচ্ছে, “আমেরিকার পক্ষে থাকলে গণতন্ত্র বিপক্ষে চলে গেলে একনায়কতন্ত্র।”

গত ৬ ডিসেম্বর মুসলমানদের প্রথম ক্বেবলা সম্বলিত শহর জেরুজালেমকে ইহুদিবাদী ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তার ওই ঘোষণা প্রত্যাখ্যান করে ১৮ ডিসেম্বর জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে উত্থাপিত একটি প্রস্তাবে ভেটো দেয় ওয়াশিংটন।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে আজ রাতে জরুরি অধিবেশন বসার কথা রয়েছে

এরপর আরব ও মুসলিম দেশগুলো প্রস্তাবটি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে তোলার প্রস্তুতি নেয়। এসব দেশ ১৯৩ সদস্যবিশিষ্ট সাধারণ পরিষদের জরুরি বৈঠক আহ্বানের অনুরোধ করেছে। আজ (বৃহস্পতিবার) রাতেই এই বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। জাতিসংঘ সনদের ৩৭৭ নম্বর অনুচ্ছেদের আওতায় সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে এ প্রস্তাব পাস হলে সংশ্লিষ্ট পক্ষ তা মানতে বাধ্য।

সাধারণ পরিষদের বৈঠকের প্রস্তুতির আগে গতকাল জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালিও সারাবিশ্বের বিরুদ্ধে হুমকি দিয়েছেন। তিনি কয়েক ডজন দেশের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন যাতে এসব সদস্য দেশকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, যারা প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেবে তাদেরকে চিনে রাখবে ওয়াশিংটন।

Comments

comments