কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দু’পক্ষের বড় ধরণের সংঘর্ষের আশঙ্কা

গত ১৪ ডিসেম্বর (বৃহস্পতিবার) ক্রিকেট খেলাকে কেন্দ্র করে শাখা ছাত্রলীগের দু’পক্ষের সংঘর্ষের পর একই ঘটনার জের ধরে ফের উত্তাল হয়ে ওঠছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি)। এবার শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের অনুসারী ছাত্রলীগকর্মী নিয়াজ মুহাম্মদ শান্ত ভূঁইয়াকে একা পেয়ে মারধর করে আহত করে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক স্বজন বরণ বিশ্বাসের অনুসারীরা।

ঘটনার পর ক্যাম্পাসে চরম উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। এতে যেকোন সময় ছাত্রলীগের দু’পক্ষের মধ্যে বড় ধরণের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা।ক্যাম্পাস সূত্র জানায়, বুধবার দুপুরে শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক স্বজন বরণ বিশ্বাসের নেতৃত্বে কাজী নজরুল ইসলাম হল শাখা ছাত্রলীগ ক্যাম্পাসে মিছিল দিয়ে প্রদক্ষিণ করে। এসময় তাদের হাতে দেশীয় অস্ত্র ও লাঠি-সোটা দেখা যায়। মিছিলের সময় সাধারণ সম্পাদকের অনুসারী ছাত্রলীগ কর্মী নিয়াজ মুহাম্মদ শান্ত ভূঁইয়াকে একা পেয়ে মাথায় আঘাত করে স্বজনের অনুসারীরা। পরে তাকে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেলে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজে (সিএমসি) হাসপাতালে পাঠানো হয়। এসময় সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের এদিক ওদিক দৌড়াদৌড়ি করে নিজেরা আশ্রয় নেয়। এ নিয়ে ক্যাম্পাসে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

পরে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসের মূল ফটকের সামনে অবস্থান নেয়। তখন ছাত্রলীগের সভাপতি ইলিয়াস হোসেন সবুজ ও সাধারণ সম্পাদক রেজাউল ইসলাম মাজেদের পক্ষ থেকে গত সংঘর্ষে জড়িতদের বিচারের আশ্বাস দেওয়া হলে তারা হলে ফিরে যায়।

এদিকে শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম দস্তগীর ফরহাদের সাথে ঘটনাস্থলে কথা বলতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের নিয়ে কটুক্তি করেন। শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল ইসলাম মাজেদ বলেন, ‘তাদেরকে আমরা বিচারের আশ্বাস দিয়েছি। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাথেও এ ব্যাপারে কথা হয়েছে। কিন্তু এর মধ্যেই তারা আমার অনুসারীদের ওপর হামলা করে একজনকে আহত করেছে। শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি ইলিয়াস হোসেন সবুজ বলেন, ‘কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাথে কথা বলেছি। আজকে রাতের মধ্যে যারা অপরাধ করেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

এ বিষয়ে কেন্দ্র্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও কেউই ফোন তোলেননি। ঘটনা প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর ড. কাজী মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন বলেন, ‘শাখা ছাত্রলীগের মধ্যে ঝামেলা হয়েছে। তারা এই সমস্যার মীমাংসা করবে। তাদের সাথে কথা হয়েছে।’

Comments

comments