বাচ্চুকে ফের ডাকতে পারে দুদক

বেসিক ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান শেখ আবদুল হাই বাচ্চুর শুনানির সময় পেছানোর আবেদন গ্রহণ করেনি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আগামী সপ্তাহে তাঁকে আবারও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকতে পারে দুদক।

জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি বেসিক ব্যাংকের লুটপাট হওয়া টাকার ভাগ বাচ্চু ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা নিয়েছেন কি না, বিদেশে টাকা পাচার করেছেন কি না, তা খতিয়ে দেখতে দুদকের উপপরিচালক শামসুল আলমকে নতুন করে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য প্রথম আলোকে বলেন, ১৭ ডিসেম্বর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বাচ্চুকে দুদকে ডাকা হয়েছিল। তবে তিনি সেদিন অসুস্থতার কারণে রাজধানীর একটি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বলে দুদককে জানান।

দুদক সূত্রগুলো জানায়, ১৭ ডিসেম্বর হাজির হতে না পারার কারণ জানিয়ে বাচ্চু দুদককে একটি চিঠি দেন। সেই চিঠিতে তিনি অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে এক মাসের সময় চান, যাতে এই এক মাসের মধ্যে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা না হয়। ১৭ ডিসেম্বরের জন্য বাচ্চুর আবেদন বিবেচনা করা হলেও এরপর আর সময় বাড়ানো হবে না। আগামী সপ্তাহে তাঁকে আবার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হতে পারে। এর আগে ৪ ও ৬ ডিসেম্বর দুদকে হাজির হয়ে জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হয়েছিলেন বাচ্চু।

দুদক সূত্র জানায়, গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে আবদুল হাই বাচ্চুর ব্যাংক হিসাব, টাকাপয়সার বিষয়ে অনুসন্ধান চালানোর সিদ্ধান্ত নেয় দুদক। এরই মধ্যে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে দেখা যায়, বেসিক ব্যাংকের লুটপাট হওয়া টাকার ভাগ সরাসরি নিয়েছেন ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান শেখ আবদুল হাই বাচ্চু এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরা। একটি কাগুজে প্রতিষ্ঠানের নামে খোলা ব্যাংক হিসাবে মাত্র ১১ মাসেই জমা হয় ১৩ কোটি টাকার বেশি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ তদন্তে উঠে এসেছে বিভিন্ন গ্রাহকের ঋণের একটা অংশ সরাসরি জমা হয়েছে আবদুল হাই বাচ্চুর ব্যাংক হিসাবে। ভাগের বাকি অংশ গেছে তাঁর ভাই শাহরিয়ার পান্নার মালিকানাধীন বিএম কম্পিউটারস ও ক্রাউন প্রোপার্টিজের হিসাবে।

এদিকে গতকাল অনুমিত হিসাব সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির একটি উপকমিটির বৈঠকে বেসিক ব্যাংকের কেলেঙ্কারি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

বৈঠক সূত্র জানায়, বৈঠকে বেসিক ব্যাংকের ঋণ নিয়ে অনিয়মে জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে কী কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং ব্যাংকের বর্তমান অবস্থা নিয়ে বেসিক ব্যাংকের দেওয়া একটি প্রতিবেদন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ঋণ কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ব্যাংকের নেওয়া পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা হয়। পরবর্তী বৈঠকে এ বিষয়ে আরও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

Comments

comments