কিশোরীকে ধর্ষণের পর যৌনাঙ্গ কেটে দেয়ার চেষ্টা

হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিৎকার করে একটি কিশোরী আর্তনাত করছে, ‘আমাকে মেরে ফেলো। ওরা আমাকে বাঁচার অধিকার কেড়ে নিয়েছে। আমার ও আমার পরিবারের সম্মান কেড়ে নিয়েছে। আমাকে পঙ্গু করে দিতে চেয়েছে। আমি আর বাঁচতে চাই না।’ শুক্রবার ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ হাসপাতালে গিয়ে এমন আর্তনাদ শুনে তথ্য নিয়ে জানা গেল এক ভয়ঙ্কর কাহিনী। শুক্রবার ভোরে উপজেলার রাজীবপুর ইউনিয়নের উজান চরে এক প্রতিবেশী লম্পট তাকে ধর্ষনের পর যৌনাঙ্গ কেটে দেয়ার চেষ্টা করেছে।

নির্যাতিতা কিশোরী জানায়, দীর্ঘদিন ধরে তারই প্রতিবেশী শামছু মিয়ার কলেজ পড়ুয়া ছেলে সোহাগ মিয়া প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে উত্যক্ত করে আসছিল। কিন্তু কিশোরী বরাবরই তার প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখান করে। একপর্যায়ে গত এসএসসি পরীক্ষার পর তার বাবা তাকে তার নিরাপত্তার কথা ভেবে বাড়ি থেকে গাজীপুরের একটি গার্মেন্টসে চাকরি করতে পাঠিয়ে দেন।

গত বৃহস্পতিবার কর্মস্থল থেকে মেয়েটি বাড়িতে আসে। পরে শুক্রবার দিন ভোররাতে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে বাড়ির পেছনে গেলে আগে থেকে সেখানে ওঁৎপেতে থাকা সোহাগ মিয়া ঝাপটে ধরে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এ সময় সোহাগ মিয়াকে তার এক সহপাঠী সহযোগিতা করে। ধর্ষণের পর সোহাগ মিয়ার হাতে থাকা ব্লেড দিয়ে তার যৌনাঙ্গ কেটে দেয়ার চেষ্টা চালায়। ওই সময় মেয়েটি বাঁচার চেষ্টা করলে যৌনাঙ্গের উপরের অংশ কেটে যায়।

মারাত্মক আহত অবস্থায় তাকে প্রতিবেশীরা উদ্ধার করে উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে আসে। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপতালে প্রেরণ করে।

কিশোরীর বাবা জানান, মেয়েটি মেধাবী হওয়া সত্ত্বেও তাকে কলেজে ভর্তি না করে তার ও পরিবারের সম্মান রক্ষা করতে গার্মেন্টসে চাকরিতে দিয়ে ছিলাম। কিন্তু তাতেও মেয়েটি রক্ষা পায়নি।

ঈশ্বরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ বদরুল আলম খান জানান, ঘটনাটি জানার পরপরই বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নেয়া হয়েছে। ধর্ষককে আটকের জন্যে এলাকায় পুলিশি অভিযান অব্যাহত আছে।

Comments

comments