বসবাসের অযোগ্য হয়ে যাচ্ছে রাজধানীর দনিয়া!

জলাবদ্ধতার কারণে পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে দুর্গন্ধযুক্ত পানি

কুতুবখালী খাল দখল, দূষণ ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের অব্যবস্থাপনা আর অবহেলায় বসবাসের অযোগ্য হয়ে যাচ্ছে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকার দনিয়া। পানি নিষ্কাশন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হওয়ায় পুরো দোলাইরপাড় দনিয়া এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। পূর্ব দোলাইরপাড়ে কুতুবখালী খালের একাংশ ভরাট করে দনিয়া রোড চওড়া করছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। দীর্ঘদিন যাবত এ এলাকায় জলাবদ্ধতার কারণে মশা, মাছি এবং রোগ বালাই ছড়িয়ে পড়েছে। ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার মত রোগে প্রায়শই আক্রান্ত হচ্ছে এলাকার মানুষ।

পূর্ব দোলাইরপাড় ডিএসসিসির ৫১ নম্বর ওয়ার্ডের আওতাধীন। দোলাইরপাড়, পূর্ব দোলাইরপাড়, পাড় গেন্ডারিয়া, মীর হাজিরবাগ, ওয়াসা রোড, মোল্লাপাড়া, মধ্যপাড়া, পশ্চিম দোলাইরপাড়, শফিকনগর, পান্থনিবাস, শান্তিনিবাস এলাকা নিয়ে এই ওয়ার্ড গঠিত। ওয়ার্ডে আছে পানি-গ্যাসের সংকট। ওয়ার্ডের প্রধান সড়ক থেকে অলিগলিতে দেখা গেছে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ। ফুটপাত দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে চায়ের দোকান ও গ্যারেজ। জলাবদ্ধতার কারণে পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে দুর্গন্ধযুক্ত পানি।

দীর্ঘদিন যাবত এ এলাকায় জলাবদ্ধতার কারণে মশা, মাছি এবং রোগ বালাই ছড়িয়ে পড়েছে

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, কুতুবখালী খালের প্রস্থ ছিল প্রায় ৫০ ফুট। গভীরতা ছিল ৮ ফুট। স্থানীয় লোকজন বলেন, দখল হতে হতে খালের পূর্ব দোলাইরপাড় অংশের প্রস্থ নেমে আসে প্রায় ৩০ ফুটে। এরপর সেখানে দোকানপাট বসানো হয়। শুক্রবার ঘটনাস্থলে গিয়ে সে আয়োজনও চোখে পড়েছে। খালের যেটুকু অবশিষ্ট আছে তাতে ময়লা-আবর্জনা ভরা। কোথাও কোথাও স্থাপনা ঢুকে গেছে খালের ভেতরে। পূর্ব দোলাইরপাড় কাঁচাবাজারের উত্তর অংশ পর্যন্ত খালের ভেতরে বাঁশ পুঁতে গড়ে তোলা হয়েছে প্রায় ৩০টি দোকান।

কুতুবখালী খাল দখল ও ময়লা-আবর্জনায় ভরাট হয়ে যাওয়ায় বছরের প্রায় অর্ধেকের বেশি সময় দনিয়া রোড জলমগ্ন হয়ে থাকে। এখন এই খাল ভরাট করায় জলাবদ্ধতা আরও বাড়বে। ধোলাইখালের একটি শাখা ছিল কুতুবখালী খাল। বর্তমানে ধোলাইখালের অস্তিত্ব বলতে কিছু নেই। একটি চক্র কুতুবখালী খালটিকেও নিশ্চিহ্ন করতে চাইছে বলে অনেকে অভিযোগ করেন।

কুতুবখালী খালে ময়লা-আবর্জনা স্তূপ হয়ে আছে

দনিয়া রোডের বাসিন্দা হাফিজুর রহমান বলেন, আগে কুতুবখালী খালের পানি একটি বড় নালা দিয়ে বের হতো। কিন্তু দুই বছর আগে ময়লা-আবর্জনা ও দখলের কারণে কুতুবখালী খালের মুখ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকে বৃষ্টি হলেই খানাখন্দে ভরা সড়কে হাঁটুপানি জমে যায়।

Comments

comments