সিনেমার সেটে কেন কাঁদতেন রণবীর?

সঞ্জয় লীলা বানসালিকে নিজের গুরু মানেন রণবীর সিং। মানবেন না কেন? এই নির্মাতার পরপর তিনটি ছবির নায়ক রণবীর। ‘গলিয়োঁ কি রাসলীলা রাম-লীলা’, ‘বাজিরাও মাস্তানি’ আর সর্বশেষ ‘পদ্মাবতী’। এই প্রজন্মের অন্য নায়কেরা তো শুধু এ কারণেই রণবীরকে হিংসা করতে পারেন। কিন্তু বানসালির সঙ্গে যাঁরা কাজ করেছেন, কেবল তাঁরাই জানেন, এই পরিচালকের সঙ্গে কাজ করার ঠেলা কত? ‘পদ্মাবতী’র শুটিংয়ের সময় রণবীর সিংকে চোখের অনেক জল ফেলতে হয়েছে। না, বানসালির বকুনি খেয়ে নয়, নায়কের কান্নার পেছনে আছে অন্য কারণ।

বানসালির তিনটি ছবিতে রণবীর অভিনয় করেছেন তিন রকম চরিত্রে। এবারের ছবি ‘পদ্মাবতী’তে রণবীরের চরিত্র পুরোদস্তুর নেতিবাচক। এই সিনেমায় দিল্লির সুলতান আলাউদ্দিন খিলজির চরিত্রে অভিনয় করেছেন রণবীর। আগের দুটি ছবিতে বানসালি নাকি রণবীরকে ‘ফ্রি স্টাইল’ অভিনয় করা সুযোগ দিয়েছিলেন। তখন অনেক দৃশ্যে নায়ক পরিচালকের সঙ্গে আলাপ করে নিজের ভাবনা জুড়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু এবার পরিস্থিতি এত সহজ ছিল না।

রণবীর একটি সাক্ষাৎকারে জানান, ‘বানসালি তাঁর ছবিতে আলাউদ্দিন খিলজিকে কীভাবে দেখতে চান, সে বিষয়ে একদম পরিষ্কার ছিলেন। যেমনটি চান, প্রতিটি দৃশ্য ঠিক সেভাবেই ধারণ করেছেন।’

‘পদ্মাবতী’র শুটিংয়ে নাকি এমন অনেক হয়েছে, একটি দৃশ্য রণবীর বারবার টেক দিচ্ছেন কিন্তু কোনোটাই বানসালির মনমতো হচ্ছে না। আর পরিচালককে খুশি করতে না পেরে রণবীরও মানসিক চাপ অনুভব করতেন। এ পরিস্থিতিতে ভীষণ কান্না পেত রণবীরের। তখন নাকি সেট থেকে বেরিয়ে গিয়ে নীরবে কাঁদতেন রণবীর। তারপর আবার গা ঝাড়া দিয়ে উঠে ক্যামেরার সামনে দাঁড়াতেন। যেমন পরিচালক, তাঁর তেমনি নায়ক। দুজনই ভীষণ জেদি। দৃশ্য মনের মতো না হওয়া পর্যন্ত কোনো টেক ‘ওকে’ করতেন না। কান্নাকাটি করে হলেও আলাউদ্দিন খিলজির রূপ ছবিতে ভালোই ফুটিয়ে তুলেছেন রণবীর। ‘পদ্মাবতী’র ট্রেলার অন্তত তা-ই বলে।

‘পদ্মাবতী’ মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল ১ ডিসেম্বর। কিন্তু ছবিটি ঘিরে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নানা জটিলতার কারণে আপাতত এর মুক্তি স্থগিত করা হয়েছে। টাইমস অব ইন্ডিয়া

Comments

comments