ফেনীতে কমিটি গঠন করতে গিয়ে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলা

আহত ১০ | গ্রেফতার ৩

ফেনীতে সনামধন্য আল জামেয়াতুল ফালাহিয়া কামিল মাদ্রাসায় কমিটি গঠন করতে গিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করেছে নবগঠিত কমিটির নেতৃত্বাধীন ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা। এসময় তাদের সাথে হামলায় অংশ নেয় ফেনী পৌরসভার ১০নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাহতাবউদ্দিন মুন্নার নেতৃত্বে অন্তত ৬০-৭০ জনের একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী। সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর এ হামলায় অন্তত ১০ জন শিক্ষার্থী আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীরা জানায়, কমিটি গঠনের কথা বলে একদল বহিরাগত সন্ত্রাসী সাথে নিয়ে বুধবার সকাল থেকেই মহড়া দিতে থাকে ছাত্রলীগ কর্মী পরিচয় দাতা কয়েকজন মাদ্রাসা শিক্ষার্থী। বুধবার দুপুরে মাদ্রাসায় ছাত্রলীগের সম্মেলন শেষ হওয়ার পর অতি উৎসাহী কিছু ছাত্রলীগ কর্মী এবং বহিরাগত ক্যাডাররা মাদ্রাসার দোতলা ও তিন তলায় দাড়িয়ে থাকা সাধারণ শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে ইট পাটকেল ছুড়তে থাকে। এসময় ইটের আঘাতে একজন শিক্ষার্থী গুরুতর জখম হলে প্রতিবাদ করে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা। মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের শিবির আখ্যা দিয়ে ধাওয়া করে ছাত্রলীগ। পরে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা সংঘবদ্ধ হয়ে পাল্টা ধাওয়া করায় কয়েকজন বহিরাগতও আহত হয়।

এরপর বহিরাগত সন্ত্রাসীরা ক্ষীপ্ত হয়ে মাদ্রাসার হোস্টেলের রান্নাঘর থেকে জ্বালানী কাঠ ও সঙ্গে নিয়ে আসা লোহার রড দিয়ে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে বেধড়ক পেটায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে পুলিশ ঘটনাস্থলে হাজির হলেও কোন বহিরাগত সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার না করে মাদ্রাসার ১ শিক্ষক ও ৩ শিক্ষার্থীকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন মাওলানা মির হোসেন (৩৭), আজহার উদ্দিন নাজিম(২৮) ও মেহেদি হাসান(১৮)।

এঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীদের বেশ কয়েকজন অভিভাবক। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রলীগের এ কর্মকান্ডে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন মাদ্রাসার শিক্ষকবৃন্দ। আবদুল করিম মোল্লা নামে একজন অভিভাবক জানান, ‘মাদ্রাসায় সন্তানকে পাঠিয়ে যদি উৎকন্ঠায় থাকতে হয় তাহলে কোথায় যাবে দেশের মানুষ? আমরা এ কর্মকান্ডে সত্যিই শঙ্কিত। এটি একটি খারাপ উদাহরণ সৃষ্টি করা হলো। যা ফালাহিয়া মাদ্রাসার ইতিহাসে নেই।’

Comments

comments