কোচিং সেন্টারের প্রশ্নে বিদ্যালয়ের বার্ষিক পরীক্ষা!

বাগেরহাট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির একটি বিষয়ে কোচিং সেন্টারের মডেল টেস্টের প্রশ্নপত্রেই বার্ষিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আর এই অভিযোগ ওই বিদ্যালয়ের প্রভাতি শাখার খণ্ডকালীন সহকারী শিক্ষক শেখ মো. বেল্লাল হোসেনের বিরুদ্ধে।

এ নিয়ে ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

শেখ মো. বেল্লাল হোসেন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের আইসিটি বিষয়ের প্রভাতি শাখার খণ্ডকালীন সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত। দেড় বছর আগে তাকে বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা পর্ষদ নিয়োগ দেয়।

মঙ্গলবার দুপুরে অভিযোগ পেয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষ ঘটনা তদন্তে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক শেখ আমজাদ হোসেনকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা জানান, প্রায় ১৫ দিন আগে ওই শিক্ষক তার কোচিং সেন্টারে পড়া শিক্ষার্থীদের ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচিত’ বিষয়ে মডেল টেস্ট পরীক্ষা নেন। গত ৯ ডিসেম্বর তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচিতি’ বিষয়ের বার্ষিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের সঙ্গে হুবহু মিল রয়েছে। তার কোচিং সেন্টারে পড়া শিক্ষার্থীদের মডেল টেস্ট পরীক্ষার এক নং প্রশ্ন থেকে তিন নং প্রশ্ন এবং প্রতিটি প্রশ্নের ক, খ, গ সব কিছু হুবহু মিল রয়েছে। ১০০ নম্বরের প্রশ্নপত্র সম্পূর্ণ একই। ওই শিক্ষক তার কোচিং সেন্টারের শিক্ষার্থীদের ভাল নম্বর পাইয়ে দেওয়ার জন্য স্কুলের করা প্রশ্নপত্র আগেই পেয়ে গিয়েছিলেন বলে অভিযোগ।

দুটি প্রশ্নপত্রে হুবহু মিল থাকার কথা স্বীকার করে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল মতিন হাওলাদার সন্ধ্যায় এই প্রতিবেদককে বলেন, পরীক্ষার আগেই তৃতীয় শ্রেণির ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচিত’ ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্রে বার্ষিক অনুষ্ঠিত হওয়ার অভিযোগ অভিভাবকদের কাছ থেকে পেয়েছি। যার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে তিনি এই বিদ্যালয়ের আইসিটি বিষয়ের অস্থায়ী খণ্ডকালীন শিক্ষক। তিনি স্কুল শেষে আমাদের বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের তার গড়ে তোলা কোচিং সেন্টারে পড়ান। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনা তদন্ত করতে বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক শেখ আমজাদ হোসেনকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটিকে আগামী দুই কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের পর জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে প্রভাতি শাখার খণ্ডকালীন সহকারী শিক্ষক শেখ মো. বেল্লাল হোসেনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টার করলেও তার ফোনটি বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক তপন কুমার বিশ্বাস বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। বর্তমান সরকারের অবস্থান কোচিং সেন্টারের বিরুদ্ধে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তাদের তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Comments

comments