ইবিতে ভর্তি ফি নিয়ে নৈরাজ্য

ভর্তি ফি এক লাফে তিনগুন

এক লাফে তিনগুন বৃদ্ধি হয়েছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ভর্তি খরচ। গতবছর ছিল তিন থেকে ৫ হাজার। এক বছরের ব্যবধানে যা বৃদ্ধি হয়ে দাঁড়িয়েছে ১২ থেকে ১৪ হাজারে। এ বৃদ্ধিকে অস্বাভাবিক হিসেবে দেখছেন শিক্ষার্থীরা। ক্যাম্পাস জুড়ে আন্দোলনের রব উঠেছে।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের অনার্স প্রথমবর্ষের ভর্তি বিজ্ঞপ্তি সূত্রে, এ বছর মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত বিভাগগুলোর ভর্তি ফি ১১ হাজার ৮১৫ টাকা। যার পরিমাণ গতবছরে ছিল সাড়ে তিন থেকে চার হাজার টাকার মধ্যে। ফলিত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অনুষদভুক্ত বিভাগগুলোর ভর্তি ফি ১৩ হাজার ৩ শত ১৫টাকা। যার পরিমাণ গত বছরে ছিল ৫ হাজার ৭০০ টাকা। ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদভুক্ত বিভাগগুলোর ভর্তি ফি ১২ হাজার ৪১৫টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একইভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য অনুষদগুলোতেও ভর্তি ফি অন্যায়ভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে।

এদিকে হঠাৎ করেই ভর্তি ফি তিনগুন বৃদ্ধি পাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন ভর্তিচ্ছু নবীন শিক্ষার্থীরা। ভর্তিচ্ছু ইমরান আলী জানান – ‘সিনিয়র ভাইদের কাছে ভর্তি ফি সম্পর্কে যে ধারণা পেয়ে পরীক্ষা দিয়েছিলাম এখন দেখছি তার সাথে কোনই মিল নেই। এত ফি দিয়ে ভর্তি হওয়া আমার মত নিম্নবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীর জন্য অসম্ভব।’

ভর্তিচ্ছু সেলিনা হক অনেকটা ক্ষোভ নিয়ে বলেন- ‘পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে মেধার প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে কি লাভ হলো আমাদের? এত টাকা দিয়ে ভর্তি হতে হলে ভর্তি পরীক্ষা নেয়ার কি প্রয়োজন আছে? সরকার কি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে বরাদ্দ কম দেয়?’

বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের এ হঠকারি সিদ্ধান্তে ফুঁসে উঠছে। ফি কমানোর দাবিতে ইতোমধ্যে মানববন্ধর করেছে ইবি শাখা ছাত্রমৈত্রী। যৌক্তিক দাবি আদায়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে আন্দোলন তীব্র থেকে তীব্রতর করা ঘোষণা দিয়েছে তারা।

ইবি শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি হাদীউজ্জামান বলেন, ‘শিক্ষা আমাদের সাংবিধানিক মৌলিক অধিকার। আমরা এই অযৌক্তিক ভর্তি ফি বাড়ানোর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। অনতিবিলম্বে এই অসহনীয় ভর্তি ফি প্রত্যাহার করতে হবে। অন্যথায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে প্রশাসনের বিরুদ্ধে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপক জানান, ‘বর্তমান প্রশাসন ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের সাথে প্রহসন করেছে। ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে এখন তারা শিক্ষার্থীদের ভর্তি নিয়ে তামাশা শুরু করেছে। এতে ভর্তিচ্ছু ছেলে-মেয়েদের শিক্ষাজীবন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।’

এ ব্যাপারে ভিসি প্রফেসর ড. রাশিদ আসকারীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে সমন্বয় করেই ফি বৃদ্ধি করা হয়েছে। আমাদের ভর্তি ফি সহনীয় পর্যায়ে আছে।’

Comments

comments