শুধু টেকনাফেই ধ্বংস করা হলো ২২২ কোটি টাকার মাদকদ্রব্য

সারাদেশে মাদকের বন্যায় হুমকির মুখে যুব সমাজ। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে এবং কখনও কখনও প্রশাসনের দুর্নীতির সুযোগ নিয়ে দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করছে এসব মাদক দ্রব্য। কক্সবাজারের টেকনাফে শনিবার দুপুরে প্রায় ২২২ কোটি টাকা মূল্যের বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য ধ্বংস করেছে বিজিবি। ধ্বংস করা মাদকের মধ্যে ২১৯ কোটি ৬৩ লাখ টাকা মূল্যের ইয়াবা রয়েছে। মাদকদ্রব্য ধ্বংসের আগে টেকনাফ-২ বিজিবির সদর দপ্তরে সকালে একটি মাদকবিরোধী সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় বক্তব্য দেন বিজিবি রামুর সদর দপ্তর (অপেক্ষমান) রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এএসএম আনিসুল হক, কক্সবাজার সেক্টরের কমান্ডার কর্নেল মো. রকিবুল হক, টেকনাফ-২ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল আরিফুল ইসলাম, কক্সবাজার জেলার অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ মোশাররফ হোসেন, সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রাজীব কুমার দেব, সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল) চাউলাও মারমা, টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদ হোসেন ছিদ্দিক প্রমুখ। সভা পরিচালনা করেন টেকনাফ ২ বিজিবির উপ-অধিনায়ক মেজর শরীফুল ইসলাম জোমাদ্দার।

লে. কর্নেল আরিফুল ইসলাম বলেন, চলতি বছরের ৪ এপ্রিল থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে পাচারকালে জব্দ করা ২২১ কোটি ৫৬ লাখ ৯২ হাজার টাকা মূল্যের মাদকদ্রব্য ধ্বংস করা হয়েছে। এর মধ্যে মরণ নেশা ইয়াবা, ম্যান্ডেলা রাম, গ্লান মাস্টার, কান্ট্রি ড্রাইজিন, মিয়ানমার, আন্দামান গোল্ড বিয়ার, ডায়াব্লু বিয়ার, চং ক্ল্যাসিক বিয়ার, সিংঙ্গা বিয়ার, চেং বিয়ার, গাঁজা, চোলাই মদসহ ৩০ ধরনের মাদক রয়েছে।

কক্সবাজারের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মো. রকিবুল হক বলেন, চাহিদা থাকলে পাচার হবেই। কিন্তু প্রতিরোধ করতে এগিয়ে আসতে হবে সবাইকে। এখন শুধু পুরুষই নয়, নারীরাও মাদকে আসক্ত হচ্ছে। তাই নিজের সন্তানদের প্রতি একটু সময় দিয়ে বন্ধুর মতো সময় কাটাতে হবে। আপনার-আমার সন্তান কী করছে, কাদের সঙ্গে মেলামেশা করছে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

শুধু টেকনাফ নয়, টাকা হলেই হাতের নাগালে পৌঁছে যাচ্ছে গাঁজা, মদ, ইয়াবা, হেরোইনসহ বিভিন্ন মাদক দ্রব্য। মাদকের এ ভয়াবহ ছোবলে ধ্বংস হচ্ছে যুবসমাজ। মাদকের নেশায় লণ্ডভণ্ড হচ্ছে নিম্নবিত্ত থেকে উচ্চবিত্ত পরিবার। মাদকের ছোবলে অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের নিয়ে চরম উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায়। মাদক ব্যবসায়ীরা ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক নেতা-কর্মী ও পুলিশের প্রশ্রয়ে দেদার চালিয়ে যাচ্ছে তাদের কার্যক্রম।

Comments

comments