পরকীয়া ও যৌতুকের বলি বরিশালের মারিয়া

স্বামীর দাবিকৃত যৌতুকের টাকা পরিশোধ করতে না পেরে ও স্বামীর পরকীয়ায় বাঁধা দেয়ায় নীরবে ঝড়ে গেল বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার দক্ষিণ শিহিপাশা গ্রামের মেয়ে সৈয়দা মারিয়া রিপার জীবন।

সূত্র মতে, দক্ষিণ শিহিপাশা গ্রামের সৈয়দ জসিম উদ্দিন চুন্নুর কন্যা সৈয়দা মারিয়া রিপার (১৯) সাথে বরিশাল কোতোয়ালী মডেল থানার ভেদুরিয়া গ্রামের আব্দুল বারেক হাওলাদারের ছেলে সিমেন্ট ব্যবসায়ী মোঃ আব্দুল হাই’র (৩২) বিয়ে হয় ২০১৬ সালের ৯ ডিসেম্বর। বিয়ের সময় বর পক্ষের দাবি অনুযায়ী যৌতুকের নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার পরিশোধ করা হয়। বিয়ের পর স্বামী ও তার পরিবারের স্বজনদের সাথে রিপা ঢাকার কামরাঙ্গীরচর এলাকার হাসাননগর এলাকার ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন।

সম্প্রতি রিপার স্বামী আব্দুল হাই’র সাথে ঢাকার কেরানীগঞ্জ বালুরচর এলাকার এক প্রবাসীর স্ত্রী শাহিদা বেগমের (২৮) পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এরই মধ্যে আব্দুল হাই নিজের ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য রিপাকে তার বাবার বাড়ি থেকে যৌতুক বাবদ আরও পাঁচ লাখ টাকা আনার জন্য চাপ দেয়। রিপা এ টাকা আনতে অপরাগতা প্রকাশ করায়, আব্দুল হাই ও তার পরিবারের সদস্যরা প্রায়ই তাকে (রিপা) শারীরিক নির্যাতন করে আসছিল। তারই ধারাহিকতায় গত ২৪ নভেম্বর রিপাকে মারধর করে বাসা থেকে বের করে দেয় আব্দুল হাই। এ ঘটনায় ২৫ নভেম্বর রিপা কামরাঙ্গীরচর থানায় স্বামী আব্দুল হাই, শ্বশুর আব্দুল বারেক ও শাশুড়ি মোর্শেদা বেগম রানীর বিরুদ্ধে একটি সাধারণ ডায়েরি করেন (নং-১১০৭)। থানায় জিডি করার কারণে রিপাকে পুনরায় তার স্বামী ও পরিবারের সদস্যরা বাসায় তুলে এনে মারধর করে। এ ঘটনায় গত ২৭ নভেম্বর কামরাঙ্গীরচর থানায় স্বামী আব্দুল হাই, শশুর আব্দুল বারেক ও শাশুড়ি মোর্শেদা বেগম রানী, দেবর রেজাউল, স্বামীর পরকীয়া প্রেমিকা শাহিদা বেগমের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

রিপার বড় বোন সৈয়দা মার্জিয়া ও মামা পলাশ মোল্লা অভিযোগ করে বলেন, গত ৫ ডিসেম্বর পূর্বপরিকল্পিতভাবে রিপার স্বামী আব্দুল হাই, পরকীয়া প্রেমিকা শাহিদা বেগম ও আব্দুল হাইর পরিবারের সদস্যরা রিপাকে গলায় ফাঁস দিয়ে হত্যা করে। পরবর্তীতে দেবর রেজাউল ও ননদ মাহমুদা আক্তার রিপাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে লাশ ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। সুরতহাল রিপোর্টে রিপার গলায় আঘাতের চিহ্ন পেয়েছে পুলিশ। রিপার মৃত্যুর খবরে স্বামী ও তার পরিবারের লোকজন বাসায় তালা ঝুঁলিয়ে আত্মগোপন করেছে।

কামরাঙ্গীরচর থানার ওসি শাহিন ফকির বলেন, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে জানা যাবে এটি হত্যা না আত্মহত্যা। সে অনুযায়ী আসামিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। নিহত রিপার লাশের ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়। বৃহস্পতিবার রাতে রিপার লাশ তার বাবার বাড়ি আগৈলঝাড়া উপজেলার দক্ষিণ শিহিপাশা গ্রামের পারিবারিক গোরস্থানে দাফন করা হয়েছে। এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

Comments

comments