ক্ষোভের আগুনে জ্বলছে মুসলিম বিশ্ব : মাঠে নামছেন এরদোগান

জেরুজালেম নিয়ে ক্ষোভের আগুন জ্বলে উঠেছে মুসলিম বিশ্বে। যুক্তরাষ্ট্র জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মুসলিমরা বিক্ষোভ করতে রাজপথে নেমে এসেছেন।

ফিলিস্তিনিরা পশ্চিম তীর ও গাজা উপত্যকাসহ বিভিন্ন এলাকায় বৃহস্পতিবার দিনভর বিক্ষোভ করেছেন। বিক্ষোভকারীরা টায়ার জ্বালিয়ে এবং পাথর নিক্ষেপ করে প্রতিবাদ জানান।

তারা একপর্যায়ে ইসরাইলি বাহিনীর সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। ইসরাইলি বাহিনী বিক্ষুব্ধ জনতার প্রতি টিয়ার গ্যাস, রাবার বুলেট ও গুলি ছুড়তে থাকে। এতে অর্ধশতাধিক ফিলিস্তিনি আহত হন।

তাদের মধ্যে কমপক্ষে ১৬ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের একজনের অবস্থা সংকটাপন্ন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পশ্চিম তীরে ইসরাইল হাজার হাজার অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করেছে। ইসরাইল বলছে, গাজা থেকে বৃহস্পতিবার ইসরাইলি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে দুটি রকেট হামলা চালানো হয়েছে। তবে তা ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডেই বিধ্বস্ত হয়।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ১৩ ডিসেম্বর ওআইসির বিশেষ শীর্ষ সম্মেলন ডেকেছে তুরস্ক। এদিকে ট্রাম্পের নিন্দায় একাট্টা হয়েছেন বিশ্বনেতারা। তারা বলছেন, এ ঘোষণায় মধ্যপ্রাচ্যে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত হবে।

মুসলিমদের অন্যতম পবিত্রতম মসজিদ আল আকসা বা বায়তুল মোকাদ্দাস যে শহরে অবস্থিত, সেই জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী স্বীকৃতি দিয়েছেন ট্রাম্প। এতে সারা বিশ্বের মুসলিমদের হৃদয়ে আঘাত লেগেছে।

শুধু মুসলিমরা নন, সারা বিশ্বই ট্রাম্পের এ ঘোষণার নিন্দা জানিয়েছে। ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের প্রধান ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস এ ঘোষণার নিন্দা জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্তে আমি নীরব থাকতে পারি না।’ তিনি পবিত্র শহরটিতে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য ট্রাম্পের প্রতি আহ্বান জানান।

বুধবার রাত থেকেই ফিলিস্তিনিরা রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে ইসরাইলি ও মার্কিনি পতাকায় আগুন দিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। তারা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কুশপুত্তলিকা পুড়িয়েছেন।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশে এর প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে। ফিলিস্তিনিরা ইহুদিবাদী ইসরাইলের বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থানের ডাক দিয়েছেন। শুক্রবারকে ক্ষোভের দিন ঘোষণা করেছে হামাস।

তারা এদিনকে ইন্তিফাদা শুরুর দিন বলে মন্তব্য করেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, ট্রাম্পের ঘোষণার প্রতিবাদে আজ শুক্রবার মুসলিম বিশ্বে ব্যাপক বিক্ষোভ হবে। বিক্ষোভের কারণে ফিলিস্তিন অঞ্চলের স্কুল ও দোকানপাট বন্ধ ঘোষণা ছিল বৃহস্পতিবার।

ইরাকের মিলিশিয়া বাহিনী আল নোজাবা বলেছে, ট্রাম্পের ঘোষণার পর এখন ইরাকে মার্কিন বাহিনীর ওপর হামলা চালানো জায়েজ হয়ে গেছে। ইরাকে ৯ হাজার মার্কিন সেনা রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র ব্রিটেন, ফ্রান্স, সৌদি আরবও এ স্বীকৃতিকে প্রত্যাখ্যান করেছে। ট্রাম্পের ঘোষণা নাকচ করেছে আরব ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য মুসলিম দেশ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও জাতিসংঘ। ট্রাম্পের এ ঘোষণার পর ফের উত্তাল হয়ে উঠেছে পবিত্র জেরুজালেম। এ বিষয়ে শুক্রবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ বৈঠকে বসছে। খবর রয়টার্স, বিবিসি ও এএফপির।

মুসলিম বিশ্বের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সতর্কবার্তা উপেক্ষা করেই বুধবার মধ্যরাতে এ সংক্রান্ত ঘোষণা দেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তার এ পদক্ষেপে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ছে।

জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানীর স্বীকৃতির প্রতিবাদে ইন্তিফাদা বা গণঅভ্যুত্থানের ডাক দিয়েছে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ সংস্থা হামাস। বৃহস্পতিবার ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকা থেকে এ ঘোষণা দেন হামাস নেতা ইসমাইল হানিয়া। তিনি বলেন, ‘ইহুদিবাদী শত্রুর বিরুদ্ধে আমাদের ইন্তিফাদার ডাক।

আর জেরুজালেম ও পশ্চিম তীর মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত এটি চলবে।’ ট্রাম্পের জেরুজালেম স্বীকৃতির সমালোচনা করে হানিয়া আরও বলেন, ‘ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে যুদ্ধ ঘোষণার শামিল।’ বৃহস্পতিবার বিক্ষোভের কারণে ফিলিস্তিনি অঞ্চলের স্কুল ও দোকানপাট বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। এরই মধ্যে গাজা উপত্যকা ও বেথলেহাম শহরে ট্রাম্পের ছবি এবং কুশপুত্তলিকা পোড়ানো হয়েছে। এছাড়া ট্রাম্পের ঘোষণার প্রতিবাদে বেথলেহাম শহরে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের লোকজন বড়দিন উপলক্ষে সাজানো ক্রিসমাস ট্রির আলোকসজ্জার সুইচ বন্ধ করে দেন।

ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্তে ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা ঝুঁকির মুখে পড়বে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস বলেন, ‘এটা গভীর উদ্বেগের সময়। কারণ দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান ছাড়া এর আর কোনো বিকল্প নেই।’

ইইউয়ের বিদেশনীতিবিষয়ক প্রধান ফেডেরিকা মোঘেরিনি বলেন, ‘ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্তের ফলে এ অঞ্চলকে অন্ধকার যুগের দিকে ধাবিত করবে।’ মোঘেরিনি বলেন, ট্রাম্পের ঘোষণার পরিণাম ভয়াবহ হতে পারে। এতে আমরা বর্তমানে যেভাবে আছি, তার চেয়ে আরও খারাপ দিন আসতে পারে।

ফিলিস্তিন প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস বলেন, এ পদক্ষেপের মাধ্যমে শান্তি আলোচনার মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ওয়াশিংটন তার নেতৃত্বদানকারী ভূমিকার জলাঞ্জলি দিয়েছে। গাজা ভূখণ্ড পরিচালনাকারী ফিলিস্তিনি সংগঠন হামাস বলছে, ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্ত ওই অঞ্চলে মার্কিন স্বার্থের ক্ষেত্রে জাহান্নামের দরজা খুলে দেবে।

বুধবার আরব ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য মুসলিম দেশ ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্তকে ‘অস্থিরতাকবলিত অঞ্চলটিতে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দেয়ার পদক্ষেপ’ হিসেবে আখ্যায়িত করে এর নিন্দা জানিয়েছে।

ট্রাম্পের পদক্ষেপকে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বলে মন্তব্য করেছে তুরস্ক। ট্রাম্পের এ ‘ভুল’ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে দেশটির সরকার।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোগান বলেন, ‘ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্ত পুরো অঞ্চলে ‘আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত’ হবে। বৃহস্পতিবার গ্রিস সফরে যাওয়ার আগে আঙ্কারা বিমানবন্দরে ইসলামী সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) বর্তমান সভাপতি এরদোগান বলেন, ‘হায় ট্রাম্প! আপনি এর মাধ্যমে কী চান? আপনার এ সিদ্ধান্ত পুরো অঞ্চলকে ‘আগুনের বৃত্তে’ ঠেলে দেবে।’ প্রেসিডেন্ট এরদোগান বৃহস্পতিবার পোপের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন এবং জেরুজালেম ইস্যুতে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ায় পোপকে ধন্যবাদ জানান।

এছাড়াও ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী স্বীকৃতির বিপক্ষে মাঠে নামছেন এরদোগান। এজন্য তিনি বিশ্বনেতাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন।

বৃহস্পতিবার তুরস্কের ইসেনবেলা বিমানবন্দরে নিজ দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে এক সাক্ষাতে তিনি তার এ অবস্থানের কথা জানান।

এরদোগান বলেন, আমি বিষয়টি নিয়ে পোপ ফ্রান্সিস, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রো, জার্মান, যুক্তরাজ্য ও স্পেনসহ অন্য বিশ্বনেতাদের সঙ্গে কথা বলব। ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের সঙ্গে তাদের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করতে হবে।

এরদোগান বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মনে করেন তিনি সঠিক। কিন্তু আসলে তিনি ভুলের মধ্যে আছেন। প্রকৃতপক্ষে আমরাই সঠিক অবস্থানে রয়েছি।

জেরুজালেম শহরটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই ইসরাইলি ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে বিরোধ রয়েছে। শুধু এ শহরটি নিয়ে দশকের পর দশক ধরে দফায় দফায় সহিংস ঘটনা ঘটেছে। প্রচুর রক্তপাত হয়েছে। ফলে কোনো পক্ষকেই স্বীকৃতি না দেয়ার মার্কিন নীতি চলে আসছে বহুদিন ধরে। জেরুজালেম বিষয়ে কয়েক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রের অনুসৃত নীতি পাল্টে দেয়া ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান মিত্ররা। ট্রাম্পের ‘একতরফা’ সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করেছে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাত্রেঁদ্ধা। বৃহস্পতিবার এক টুইট বার্তায় মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি বজায় রাখারও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে বলেন, ‘ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্ত শান্তি উদ্যোগের ক্ষেত্রে কোনো ভূমিকা রাখবে না। তিনি বলেন, জেরুজালেমে ইসরাইল ও ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের অংশীদারিত্ব থাকা উচিত।’ জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেল জানান, ‘তার দেশ জেরুজালেমকে স্বীকৃতি দেবে না। জেরুজালেমের মর্যাদা শুধু দ্বি-রাষ্ট্রিক সমাধানের ভিত্তিতেই নির্ধারিত হতে পারে।’ কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রু–ডো জানিয়েছেন, ইসরাইলে তার দেশের দূতাবাস তেল আবিবেই থাকবে। তার কথায় স্পষ্ট যে, কানাডা জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিচ্ছে না।

আনুষ্ঠানিকভাবে বিরল এক বিবৃতিতে সৌদি আরব ট্রাম্পের সমালোচনা করেছে। সৌদি সরকার বলেছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এ ঘোষণা ‘অযৌক্তিক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন’। সৌদি বার্তা সংস্থা জানায়, ‘যুক্তরাষ্ট্রের এমন পদক্ষেপ শান্তি প্রক্রিয়ার প্রচেষ্টাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে এবং এটি জেরুজালেম প্রশ্নে ঐতিহাসিকভাবে আমেরিকার নিরপেক্ষ অবস্থানের ব্যত্যয়।’ আরব রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে ইসরাইলের সঙ্গে প্রথম শান্তিচুক্তি করা মিসর ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, এতেও জেরুজালেমের আইনি মর্যাদা নিয়ে বিতর্কের অবসান ঘটবে না। জর্ডান বলেছে, পূর্ব জেরুজালেমের ওপর ইসরাইলি দখলদারিত্বকে দৃঢ় করায় ট্রাম্পের পদক্ষেপ ‘আইনি বৈধতা হারিয়েছে’।

লেবাননের প্রেসিডেন্ট মিশেল আউন বলেন, জেরুজালেমের বিষয়ে ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত সংকট সৃষ্টি করবে এবং মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি প্রচেষ্টার মধ্যস্থতাকারী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বাসযোগ্যতাকে ঝুঁকির মুখে ফেলবে। এ সিদ্ধান্তে মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়বে আর তাতে বৈশ্বিক স্থিতিশীলতাও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

ট্রাম্পের পদক্ষেপকে ইসরাইল-ফিলিস্তিন সংঘাত নিরসনে জাতিসংঘের দেয়া প্রস্তাবের লঙ্ঘন বলে অভিহিত করে এর ‘তীব্র নিন্দা’ করেছে ইরান। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যকে অস্থিতিশীল করে ইসরাইলের নিরাপত্তা রক্ষার জন্য যুদ্ধ শুরু করার চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র।

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক বিশ্বের মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আমরা যুক্তরাষ্ট্রের এ পদক্ষেপের তীব্র বিরোধী, এটি স্পষ্ট করে দিন।’ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শহিদ খাকান আব্বাসী বলেন, ‘এটা অত্যন্ত দুঃখজনক যে বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন দেশের অনুরোধ সত্ত্বেও আল-কুদস আল-শরীফ জেরুজালেমের বৈধ ও ঐতিহাসিক গুরুত্বকে উপেক্ষা করা হয়েছে। এটি আন্তর্জাতিক আইন ও নীতির গুরুতর লঙ্ঘন। যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রক্রিয়ার জন্য বড় ধরনের প্রতিবন্ধক।’

শুক্রবার এ বিষয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে বসার কথা রয়েছে। এবার নিরাপত্তা পরিষদের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করছে জাপান।

দেশটি জানায়, বলিভিয়া, ব্রিটেন, মিসর, ফ্রান্স, ইতালি, সেনেগাল, সুইডেন ও উরুগুয়ে- এ আটটি সদস্য দেশের অনুরোধে এ বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে। শুক্রবার স্থানীয় সকাল ১০টায় (বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা) শুরু হবে এ বৈঠক। এছাড়া শনিবার বৈঠকে বসতে যাচ্ছে আরব লীগ।

ইসরাইলের প্রতিক্রিয়া: এসব প্রতিক্রিয়ার বিপরীতে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে ইসরাইল। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেন, ‘ইসরাইলে প্রথম দিন থেকে এটি আমাদের লক্ষ্য ছিল, এটি শান্তির পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।’ তিনি বলেন, ট্রাম্প চিরদিনের জন্য জেরুজালেমের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে গেছেন।

তিনি ট্রাম্পের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং দাবি করেন, ৩ হাজার বছর ধরেই জেরুজালেম ইসরাইলের রাজধানী। তিনি দাবি করেন, আরও কয়েকটি দেশ জেরুজালেমকে স্বীকৃতি দিতে যাচ্ছে।

তিনি কোনো দেশের নাম না বললেও ইসরাইলি গণমাধ্যমে বলা হয়েছে এগুলো হলো ফিলিপাইন ও চেক প্রজাতন্ত্র। ট্রাম্পের নামে একটি পার্কের নামকরণ করার পরিকল্পনা করছে ইসরাইলের উত্তরাঞ্চলীয় কিরইয়াত ইয়াম শহরের মেয়র ডেভিড ইভেন জুর।

Comments

comments