কন্যা শিশুকে হত্যার অভিযোগে গ্রেফতার মা

রাজশাহী মোহনপুর উপজেলায় এক মাস চার দিন বয়সের কন্যা শিশুকে হত্যার অভিযোগে মেঘনা বেগম (২২) নামের এক মাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার (৫ ডিসেম্বর) বিকালে শিশুটির দাদা ও মেঘনা বেগমের শ্বশুর মফিজ উদ্দিন বাদী হয়ে মোহনপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। সোমবার (৪ ডিসেম্বর) রাতে মোহনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম আবুল কাশেম আজাদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে প্রাথমিক জিজ্ঞানাবাদে মেঘনা বেগম নিজের শিশু কন্যাকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন বলেও জানিয়েছেন ওসি আবুল কাশেম। মা মেঘনা বেগমের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, ‘মেঘনা বলেছে, দ্বিতীয় কন্যা সন্তান জন্মের পর থেকে স্বামী হাবিবুর তার সঙ্গে খারাপ আচরণ করতো। রবিবার তাকে বাবার বাড়ি থেকে নিতে গিয়ে শুধু বড় মেয়েকে নিয়ে বাড়ি চলে যায় তার স্বামী। এ ক্ষোভ থেকে এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে দাবি করেছে মেঘনা।’

ওসি এসএম আবুল কাশেম আজাদ আরও জানান, কন্যা শিশুটির লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। সেই সঙ্গে আসামি মেঘনা বেগমকে গ্রেফতার করে থানা হাজতে রাখা হয়েছে। তাকে মঙ্গলবার আদালতে সোপর্দ করা হবে।

মামলার অভিযোগের বরাত দিয়ে ওসি জানান, মোহনপুর উপজেলা মৌগাছি ইউনিয়নের টেমা স্কুলপাড়া গ্রামের নুরুল ইসলামের মেয়ে মেঘনা বেগম (২২)। তার সঙ্গে তিন বছর পূর্বে পার্শ্ববর্তী তানোর উপজেলার চান্দুরিয়া গ্রামের মফিজ উদ্দিনের ছেলে হাবিবুর রহমানের বিয়ে হয়। তাদের একটি দুই বছরের মেয়ে রয়েছে। পরে গত ১ নভেম্বর মেঘনা তার বাবার বাড়িতে আরেকটি কন্যা সন্তানের জন্ম দেয়। গত ৩ ডিসেম্বর স্বামী হাবিবুর ও শ্বশুর মফিজ উদ্দিন মেঘনার বাবার বাড়ি গিয়ে স্ত্রী ও নবজাতকে তাদের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া জন্য দিন ঠিক করেন এবং প্রথম মেয়েকে নিয়ে চলে যান। এরপর গত সোমবার ভোর আনুমানিক পাঁচটার দিকে ঘুমন্ত নবজাতক শিশুকে টয়লেটের ভাঙা প্যানের পানির মধ্যে ফেলে দেয় মেঘনা। কিছুক্ষণ পর মেয়েকে খুঁজে পাচ্ছে না বলে চিৎকার শুরু করে মেঘনা। তখন প্রতিবেশীরা বাড়ির পাশের ভাঙা টয়লেটের পানির মধ্যে ভাসমান অবস্থায় দেখতে পায় শিশুটিকে। খবর পেয়ে নবজাতকের দাদা মফিজ ও বাবা হাবিবুর সেখানে যায়। তারা মোহনপুর থানার পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ওই শিশুর মা মেঘনা আটক করেন ও নবজাতকের লাশ উদ্ধার করে থানার নিয়ে যায়।

Comments

comments