চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করায় ছাত্রলীগ লিমন চক্রের টার্গেট ছিল হারুন

চট্টগ্রামের সদরঘাট থানায় শুভপুর বাসস্ট্যান্ডে নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সরকার দলীয় চিহিৃত সন্ত্রাসীদের গুলিতে যুবদল নেতা হারুন চৌধুরীকে হত্যার ঘটনায় এখনো কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ। আজ সোমবার দুপুর পর্যন্ত এ নিয়ে থানায় কোন মামলাও হয়নি।

এদিকে পরিবহন ব্যবসাযী ও যুবদল নেতা হারুন হত্যার প্রতিবাদে এবং খুনিদের গ্রেফতারের দাবীতে কদমতলী ও মাদারবাড়ী এলাকায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে ধর্মঘট পালন ও পণ্য পরিবহণ থেকে বিরত রয়েছে শ্রমিকরা।

সকাল থেকে কদমতলী-শুভপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মালিক-শ্রমিকরা সব ধরনের পণ্যবাহী পরিবহন চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন।সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও বন্ধ রেখে সকাল থেকে মিছিল মিটিং করছে তারা।

গতকালের চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকান্ডের অনুসন্ধান করতে গিয়ে জানা যায়, নগরীর শুভপুর বাসস্ট্যান্ডে কয়েকশো ট্রান্সপোর্ট এজেন্সিকে ঘিরে চাঁদাবাজিতে বাধা হয়ে দাড়ানোর কারণে যুবদল নেতা হারুনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা ব্যবসায়ীদের। এই হত্যাকান্ডের সাথে যুবলীগ নামধারী সন্ত্রাসী সরাসরি লিটন জড়িত বলে তথ্য পাওয়া গেছে।

শুভপুর বাসস্ট্যান্ডে চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে হারুনের সাথে গত মাসে আগে লিটনের ঝামেলা হয়। এ ঘটনায় গত ২৭ নভেম্বর লিটনকে আটক করেছিল সদরঘাট থানা পুলিশ। পরে আওয়ামী লীগের একজন ওয়ার্ড কাউন্সিলরের তদবীবে তাকে থানা থেকে ছেড়ে দেয়া হয়। লিটন সিআরবির জোড়া খুনের মামলার আসামি যুবলীগ নেতা সাইফুল আলম লিমনের অনুসারী। গতকালের হত্যাকান্ডে লিটন সরাসরি অংশ গ্রহণ করেছিল বলে তথ্য পাওয়া যায়।

মূলত এ হত্যা- সংগঠিত করতে খুনিচত্র বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষন স্বীকৃতি পাওয়া উপলক্ষে আনন্দ মিছিলকে পুঁজি করেছে বলে পুলিশের ধারণা।

অনুসন্ধানে জানা যায়, লিটনের পুরো নাম মোশাররফ হোসেন লিটন। নগরীর কলেজিয়েট স্কুল সংলগ্ন মরিচ্চ্যা পাড়ায় তার বাড়ি। আগ্রাবাদ এলাকায় ফুটপাত থেকে প্রতিমাসে প্রায় ৬/৭ লাখ টাকা চাঁদাবাজি করা হয়। লিমনের অনুসারীরা এ চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ করে এমন অভিযোগ স্থানীয় লোকজনের। কদমতলি শুভপুর বাস্স্ট্যান্ড ঘিরে গড়ে উঠা শত শত ট্রান্সপোর্ট প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে কয়েক শতাধিক ব্রোকার রয়েছেন। যারা ট্রান্সপোর্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে ট্রাক ঠিক করে দিয়ে মাসে দুই থেকে তিন লাখ টাকা আয় করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যবসায়ী জানান, লিমনের অনুসারীরা আগ্রাবাদ এলাকায় চাঁদাবাজি করলেও সম্প্রতি শুভপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় তাদের অধিপত্য বিস্তার করার উদ্যোগ নেয়। এতে বাধা হয়ে দাঁড়ায় হারুন।

বিষয়টি স্বাভাবিকভাবে নেয়নি তারা। ঘর থেকে দুইশ গজ দূরে শাহনাজ ট্রান্সপোর্ট এজেন্সি নামে ট্রান্সপোর্টের ব্যবসা রয়েছে হারুনের। মায়ের নামে এ ট্রান্সপোর্ট এজেন্সির রয়েছে নিজস্ব অফিসও। তার প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে ৫০ থেকে ৬০টি ট্রাক চলাচল করে। লিমনের অনুসারী লিটন শুভপুর বাসস্টান্ডে চাঁদাবাজি করতে চাইলে বাধা হয়ে দাঁড়ান হারুন।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মিলন নামে একজন জানান, শুভপুর বাস স্ট্যান্ডের পাশে রাহাত সেন্টারের সামনে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে আওয়ামী লীগের তিন কাউন্সিলর উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশ শেষে বিকেল আনুমানিক পাঁচটায় একটি মিছিল রাহাত সেন্টারের সামনে থেকে নেওয়াজ হোটেল কদমতলি মোড় ঘুরে মিছিলটি আবার রাহাত সেন্টারের সামনে আসে। এসময় হারুন তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ছিলেন। হঠাৎ কয়েকজন যুবক গিয়ে হারুনকে প্রথমে লোহার পাইপ দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটাতে শুরু করে। একপর্যায়ে যুবকদের একজন খুব কাছ থেকে হারুনের বুকের বামপাশে দুটি ও ডান পাশে একটি গুলি করে পালিয়ে যায়। তবে হত্যার ঘটনায় অংশ নেয়া যুবকরা সিআরবির জোড়াখুনের মামলার আসামি সাইফুল আলম লিমনের অনুসারী। মিছিলে লিমনও ছিল। এক সপ্তাহ আগেও একই যুবকরা হারুনের ওপর হামলা করেছিল।

জানতে চাইলে সরদঘাট থানার পরিদর্শক (ওসি) মর্জিনা আক্তার বলেন, সাত থেকে আট দিন আগে লিটনের সাথে হারুনের একটু সমস্যা হয়েছিল। এটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। তারপরও বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি। এমনও হতে পারে তৃতীয় কোন পক্ষ এ ঘটনা ঘটিয়েছে। এবং আনন্দ শোভাযাত্রাকে টার্গেট করে এ খুনের ঘটনা ঘটিয়েছে তবে এ ঘটনায় এখনো কাউকে আটক করা যায়নি। হত্যাকান্ডে জড়িতদের চিহিৃত করে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

এদিকে নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, আজ বাদ আছরের পর হারুণের জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। তারপর থানায় পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হবে।

Comments

comments