চলতি মাসেই হলি আর্টিজান মামলার চার্জশিট

চলতি মাসেই (ডিসেম্বর) হলি আর্টিজান মামলার চার্জশিট দেয়া হবে জানিয়েছেন ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার ও কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিসিটিসি) ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম।

রোববার দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

হলি আর্টিজান হামলায় আইএসের জড়িত থাকার প্রমাণ মেলেনি উল্লেখ্য করে মনিরুল ইসলাম বলেন,হলি আর্টিজান হামলায় মূল মাস্টারমাইন্ড তামিম চৌধুরী ও সারওয়ার জাহান।মেজর জাহিদও ছিলেন মাস্টারমাইন্ড। জড়িতরা সবাই নব্য জেএমবির। তদন্তে আইএসের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি।

মনিরুল ইসলাম বলেন, তদন্তে ৩ জনের নাম উঠে এসেছে। তারা হলেন- রিপন, খালিদ ও আকরাম হোসেন। এদের মধ্যে আকরাম হলি আর্টিজান ও পান্থপথের হোটেল অলিও এর হামলার পরিকল্পনায় অর্থদাতা। এই তিনজনকে গ্রেফতার করতে পারলে তদন্ত শেষ হবে। পলাতক দেখিয়ে হলি আর্টিজান মামলার চার্জশিট এই মাসেই দেয়া হবে।

তিনি বলেন,নব্য জেএমবির সদস্য হিসেবে যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে তারা অধিকাংশই জামায়াত-শিবিবের। তাদের উদ্দেশ্য দেশে শরিয়াহ আইন প্রতিষ্ঠা করা। নিবন্ধিত অনেক দল শরিয়াহ আইন চায়। তবে তারা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় চায়। কিন্তু জঙ্গিরা সরাসরি কথিত জিহাদের মাধ্যমে শরিয়া আইন বাস্তবায়ন করতে চায়। এ রকম একাধিক সংগঠন চায় দেশে শরিয়াহ আইন চালু হোক। পথ ভিন্ন হলেও লক্ষ্য তাদের এক।

সিসিটিসি ইউনিটের প্রধান বলেন, হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলায় সোহেল মাহফুজ, রাজিব, রাশেদ, জাহাঙ্গীর ও রিগ্যানসহ মোট সাতজনকে জীবিত গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা সবাই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

তিনি বলেন, ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে আমরা নিশ্চিত হয়েছি চাঁপাইনবাবগঞ্জে জঙ্গি আস্তানায় নিহতদের মধ্যে বাশারুজ্জামান চকলেট ও ছোট মিজান নিহত হয়েছেন। হলি আর্টিজান হামলায় মাস্টারমাইন্ড, ট্রেইনার, অর্থদাতা, প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহযোগীরা সবাই শনাক্ত হয়েছেন। অন্যতম পরিকল্পনাকারী সাগর এখনও পলাতক।

তিনি বলেন, হলি আর্টিজান হামলায় গুরুত্বপূর্ণ ৪ আসামির মধ্যে বাশারুজ্জামান চকলেট, ছোট মিজান ও তামিম চৌধুরী নিহত হয়েছেন। বাকি রয়েছেন সাগর। তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। জড়িত আরও ৩ জনের নাম উঠে এসেছে।

Comments

comments