বেসিক ব্যাংকের আরো দুই প্রাক্তন পরিচালককে জিজ্ঞাসাবাদ

বেসিক ব্যাংকের ঋণ কেলেঙ্কারির ঘটনায় ব্যাংকটির আরো দুই প্রাক্তন পরিচালককে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

তারা হলেন- বেসিক ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের প্রাক্তন সদস্য আনোয়ারুল ইসলাম ও আনিস আহমদ।

রোববার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে ১২টা পর্যন্ত দুদক পরিচালক জায়েদ হোসেন খানের নেতৃত্বে একটি দল তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) প্রনব কুমার ভট্টাচার্য্য রাইজিংবিডিকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

ঋণ কেলেঙ্কারির ঘটনায় এ পর্যন্ত বেসিক ব্যাংকের সাবেক পরিচালনা পর্ষদের ১০ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। অন্যরা হলেন- কামরুন নাহার আহমেদ, অধ্যাপক কাজী আকতার হোসাইন, সাখাওয়াত হোসেন, ফখরুল ইসলাম, একেএম কামরুল ইসলাম, জাহাঙ্গীর আখন্দ সেলিম, শ্যাম সুন্দর শিকদার ও একেএম রেজাউর রহমান।

আগামী ৪ ডিসেম্বর সকাল ১০টায় বেসিক ব্যাংকের প্রাক্তন চেয়ারম্যান আব্দুল হাই বাচ্চুকে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার কথা রয়েছে।

২০০৯ সাল থেকে ২০১২ সালের মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত্ব বেসিক ব্যাংকের গুলশান, দিলকুশা ও শান্তিনগর শাখা থেকে মোট সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা ঋণ অনিয়মের মাধ্যমে বিতরণের অভিযোগ ওঠার পর তদন্তে নামে দুদক। ঋণপত্র যাচাই না করে জামানত ছাড়া, জাল দলিলে ভুয়া ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দানসহ নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে বিধি বহির্ভুতভাবে ঋণ অনুমোদনের অভিযোগ ওঠে ব্যাংকটির তৎকালীন পরিচালনা পর্ষদের বিরুদ্ধে।

প্রায় চার বছর অনুসন্ধান শেষে এই অনিয়ম ও দুর্নীতির ঘটনায় গত বছর রাজাধানীর তিনটি থানায় ১৫৬ জনকে আসামি করে ৫৬টি মামলা করে দুদক। আসামিদের মধ্যে ২৬ জন ব্যাংক কর্মকর্তা এবং বাকিরা ঋণ গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংক জরিপ প্রতিষ্ঠানের।

তবে আসামির তালিকায় বাচ্চু বা ব্যাংকটির তৎকালীন পরিচালনা পর্ষদের কেউ না থাকায় দুদকের ওই তদন্ত নিয়েই প্রশ্ন ওঠে।

জাতীয় পার্টির প্রাক্তন সংসদ সদস্য বাচ্চুকে ২০০৯ সালে বেসিক ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দেয় সরকার। ২০১২ সালে তার নিয়োগ নবায়নও হয়।

কিন্তু ঋণ কেলেঙ্কারির অভিযোগ উঠলে ২০১৪ সালে ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী ফখরুল ইসলামকে অপসারণ করার পর চাপের মুখে থাকা বাচ্চু পদত্যাগ করেন।

Comments

comments