অপচয় দারিদ্র্য আনে, আর দারিদ্র্য কুফরির দিকে ধাবিত করে

মাওলানা নাসিরুদ্দিন

অপচয়কে আরবিতে বলে ‘ইসরাফ’। বৈধ কাজে প্রয়োজনের অতিরিক্ত ব্যয় করাকে অপচয় বলা হয়। দুনিয়ায় আল্লাহ তায়ালা যা কিছু হালাল করে দিয়েছেন, তা প্রয়োজনের তাগিদে যতটুকু প্রয়োজন ততটুকু ভোগ করতে হবে। তার বেশি গ্রহণ করা সমীচীন নয়। যতটুকু প্রয়োজন ততটুকু পানাহার করা আবশ্যক। সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও যদি কেউ পানাহার বর্জন করে, ফলে মৃত্যুমুখের যাত্রী হলে বা দুর্বল হয়ে পড়লে, যাতে ফরজ কাজ সম্পাদন করতে অক্ষম হয়, তাহলে সে পাপী হবে। আবার ক্ষুধা ও প্রয়োজনের চাহিদার বেশি পানাহার অপচয়ের মধ্যে গণ্য হবে।

অপচয় করা ইসলাম কখনো সমর্থন করে না। বরং আল্লাহ তায়ালা অপচয় করতে নিষেধ করেছেন। অপচয় ছাড়া পানাহার বা স্বাচ্ছন্দ্যে জীবন যাপন করতে কোনো অপরাধ নেই। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা খাও ও পান কর, কিন্তু অপচয় করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ অপচয়কারীদের ভালোবাসেন না।’ (সূরা আল আ’রাফ : ৩১)।

অপচয় ছাড়া সব কাজে মধ্যম পন্থা অবলম্বনের ব্যাপারে ইসলাম নির্দেশ প্রদান করেছে। অপচয় দারিদ্র্য আনে, আর দারিদ্র্য মানুষকে কুফরির দিকে ধাবিত করে। তাই অপচয় নয়, আবার কৃপণতাও নয়।

এ সম্পর্কে নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘তোমরা খাও, পান কর এবং দান কর, তবে তা অহংকার ও অপচয়ের মাধ্যমে নয়। কেননা আল্লাহ তায়ালা তার বান্দার ওপর তাঁর নেয়ামতের বহিঃপ্রকাশকে পছন্দ করেন।(মুসনাদে আহমাদ)

ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, ‘তুমি যা খেতে চাও খাও, যা পরিধান করতে চাও তা নেও, যতক্ষণ পর্যন্ত দুইটি বিষয় তোমাকে না পেয়ে বসে, (ক) অপচয় ও (খ) অহংকার।(তাফসীর ইবনে কাসীর)

যারা অপচয় এবং কৃপণতা করে না, তাদের আল্লাহ তায়ালা রহমানের বান্দা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তাদের গুণাবলি বর্ণনা করেছেন। এদের গুণাবলির একটি হলো আল্লাহ পাকের বাণী, ‘এবং তারা যখন ব্যয় করে, তখন অপচয় করে না। আর কৃপণতাও করে না এবং তাদের পন্থা এই দুইয়ের মধ্যবর্তী।’ (সূরা আল ফুরকান : ৬৭)।

কাজেই আমাদের মধ্যম পন্থা অবলম্বন করে চলতে হবে। সর্বদা অপচয় বর্জন করতে হবে। আর অপচয় বর্জন করাই প্রকৃত মুসলমানের কাজ। অপচয় কখনো মুসলমানের কাম্য নয়। অপচয় রোধ করে সমাজ জাতির কল্যাণে এগিয়ে এলে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন সহজতর হবে।

মহান রাব্বুল আলামিন অপচয়কারীকে শয়তানের ভাই উল্লেখ করে অপচয় না করার জন্য নির্দেশ দিয়ে বলেন, ‘কিছুতেই অপব্যয় করো না। নিশ্চয়ই অপচয়কারী শয়তানের ভাই। শয়তান স্বীয় পালনকর্তার প্রতি অতিশয় অকৃতজ্ঞ।’ (সূরা আল ইসরা : ২৬, ২৭)।

অপচয়কারী কারও প্রিয় হতে পারে না। কেননা শয়তান মানবজাতির বন্ধু নয়, শত্রু। আর শত্রু কখনো প্রিয় হয় না। আর অপচয়কারী তো শয়তানেরই ভাই।

Comments

comments